Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি : ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই জবাই হচ্ছে পশু

লোহাগাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি : ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই জবাই হচ্ছে পশু

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এম. খান, এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী মোটর ষ্টেশন ও ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র জবাই করা হচ্ছে রোগাক্রান্ত, দুর্বল, দুগ্ধদানকারী গাভী ও গর্ভবতী গরু। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বিক্রি করা হয় মাংস। এটি ঠিক যেন দেখার কেই নেই। বাজার থেকে খাসির মাংসের স্থলে দুগ্ধদানকারী ছাগলের মাংস, গরুর নামে মহিষের মাংস, ষাঁড় নাকি গাভী, রোগমুক্ত নাকি রোগাক্রান্ত পশুর মাংস, মাপে সঠিক নাকি কম, এমন সংশয়ে ভোগেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

রাঁতের আঁধার গাভী জবাই করে সকালে বাজারে ষাঁড় বলে ক্রেতা সাধারণকে ঠকিয়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকায় প্রতি কেজি মাংস বিক্রি করা হয়। অথচ মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পশু জবাইয়ের পূর্বে পশু সম্পদ বিভাগ কর্তৃক পশু চিকিৎসক বা সুস্থ্য-সবল ও নিরোগ সনদ নিয়ে স্থানীয় ইমামকে দিয়ে জবাইয়ের নিয়ম রয়েছে। আইন থাকলেও তা মানছেন না কেউই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সব গরুতে রোগ রয়েছে সে সব গরুর মাংস খেলে মানুষের বিভিন্ন রোগ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলার কোথাও সরকারী জবাইখানা না থাকায় সড়কের উপর ও হাট-বাজারের ভিতর পশু জবাই করা হয়। তারা সরকারীভাবে একটি জবাইখানা করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় কোন পশু জবাইখানা নেই। যেটি ছিল তাও স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় ও এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংসদ জবাইখানাটি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জবাইখানা না থাকার কারণে এদিক সেদিক কিছু পশু জবাই হয়ে থাকে। গরু-ছাগল জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষা করতে কেউ আসেনা। সে কারণে পরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই করছে বলে জানা যায়।

সাধারণ ক্রেতাগন বলেন, মুল্য নির্ধারণ করা হলে ও সঠিক পরিমাপ দেয়া হলে আমাদের জন্য ভালো হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয় এক ডাক্তার বলেন, প্রাণীগুলো থেকে এনথাক্স এর মতো মারাত্বক রোগ আসতে পারে, এরমধ্যে কিছু রোগ আছে তাতে মৃত্যুও হতে পারে। এই রোগগুলো থেকে আমাদের বাঁচতে হলে প্রাণীগুলোকে আমাদের তদারকির মধ্যে আনতে হবে।

সাধারণ ক্রেতারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*