ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মাতামুহুরী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক

মাতামুহুরী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক

(ফাইল ছবি)

(ফাইল ছবি)

নিউজ ডেক্স : চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদী থেকে ড্রেজিংয়ের নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সরকারি বরাদ্দে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও কাজের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন উত্তোলনকৃত বালু নির্দিষ্ট পয়েন্টে মজুদ না রেখে বাহিরে অবৈধভাবে বিক্রি করে আসছে।

এ অবস’ার কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অধীন চকরিয়া উপজেলার অন্তত ১৫টি সরকারি বালু মহালে গত একমাস ধরে বালু বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা। এতে মহাল ইজারা খাতে জেলা প্রশাসন অন্তত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় মাতামুহুরী নদীর তিন কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং করতে প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামীতে আরো ২৮ কিলোমিটার ড্রেজিং হবে। কার্যাদেশ প্রাপ্তি সাপেক্ষে গত মাস থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই তিন কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের আওতায় নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেছে।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তোলনকৃত বালু অন্যত্র বিক্রি করার কোন নির্দেশনা নেই কার্যাদেশে। তবে উত্তোলনকৃত বালু ফের যাতে নদীতে নেমে না যায় সেইজন্য অনুকুলস’ল থেকে সরিয়ে অন্যত্র মজুদ করার কথা বলা হয়েছে। এখন ঠিকাদারের লোকজন উত্তোলনকৃত বালু কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, বা বিক্রি করছে তা তারাঁই ভাল বলতে পারবে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা (এসও) তারেক বিন সগীর বলেন, মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা ফেরাতে পাউবোর পক্ষ থেকে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার বেতুয়াবাজার ব্রিজ পয়েন্ট থেকে উপরে-নিচের অংশ মিলিয়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে, ঠিকাদারের লোকজন উত্তোলনকৃত বালু নদী থেকে দুরে অর্থাৎ বেতুয়াবাজার-বাঘগুজারা সড়কের পাশে বিশাল জায়গায় মজুদ করছে। তবে তাঁরা বালু বিক্রি করছে কি না এ ধরনের খবর আমাদের জানা নেই।

স’ানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ড্রেজিংয়ের নামে সরকারি টাকা খরচ করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও বেশিরভাগ বালু ফের পানির সাথে নদীতে নেমে যাচ্ছে। অপরদিকে তীর এলাকায় শক্তিশালী মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর একাধিক পয়েন্টে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের ফসলি জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

স’ানীয় এলাকাবাসী জানায়, উত্তোলনকৃত বালু নিদিষ্ট পয়েন্টে মজুদ রাখার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রতিদিন ৫০-৬০টি ট্রাকে করে উপজেলার বিভিন্ন স’ানে বালু বিক্রি করে আসছে। ফলে বালু ভর্তি ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে বর্তমানে বেতুয়াবাজার-বাঘগুজারা সড়ক ভেঙে একাধিক খানা-খন্দক ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনগণের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অধীনে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫টি বালু মহাল রয়েছে। তারমধ্যে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে চারটি, ডুলাহাজারা ইউনিয়নে তিনটি, পাগলিরবিলে একটি, ফুলছড়িতে একটি, ফাসিয়াখালীতে দুইটি ও কোনাখালীতে একটি। প্রতিবছর জেলা প্রশাসন এই ১৫টি বালু মহাল ইজারা দিয়ে অন্তত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করেন। অনুরূপ গতমাসে এসব বালু মহাল নতুনভাবে ইজারা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নেয়া একাধিক বালু মহালের ইজারদার অভিযোগ করেছেন, সরকারি টাকায় মাতামুহুরী নদীর ড্রেজিং করার বিষয়টি একটি ভাল উদ্যোগ। উত্তোলনকৃত বালু বাহিরে বিক্রি করার জন্য কার্যাদেশে কোন ধরনের নির্দেশনা না থাকলেও ঠিকাদারের প্রতিনিধি সয়লাভ হোসেন তা অমান্য করে চলছেন। উল্টো সয়লাভ হোসেন কৌশলে লাখ লাখ টাকা হরিলুটের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন ৫০-৬০টি ট্রাকে করে উত্তোলনকৃত বালু বাইরে বিক্রি করছেন। এ অবস’ার কারণে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে মাতামুহুরী নদীর উত্তোলনকৃত বালু। ভুক্তভোগী বালু মহাল ইজারদাররা দাবি করেছেন, সরকারের কোষাগারে তাঁরা কোটি টাকার বেশি পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসনের বালু মহাল গুলো ইজারা নিলেও বর্তমানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বালু বাণিজ্যের কারনে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এবছর জেলা প্রশাসন কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। এ অবস’া থেকে উত্তোরণে তাঁরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বালু বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সয়লাভ হোসেন বলেন, বালু উত্তোলনের পর বাইরে বিক্রি করতে কার্যাদেশে কোন ধরনের নির্দেশনা নেই একথা সত্য। তবে উত্তোলনকৃত বালু যাতে ফের নদীতে নেমে না যায় সেইজন্য আমরা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি। তিনি বলেন, যেই জায়গায় বর্তমানে বালু মজুদ করা হচ্ছে তা ভাড়া নেয়া জায়গা। মালিকপক্ষের চুক্তিমতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জায়গার অবস’ান খালি করতে হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু কার্যাদেশ লক্সঘন করে বাইরে বিক্রি করে সরকারি বালু মহালের ক্ষতি করবে তা মেনে নেয়া যাবেনা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক বালু বাণিজ্য বন্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস’া নেয়া হবে। এতে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবেনা।

সূত্র : সুপ্রভাত বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*