ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | পথ যেন এখন ওদের দেখানো পথেই চলছে

পথ যেন এখন ওদের দেখানো পথেই চলছে

07

নিউজ ডেক্স : ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সিএমপির র‌্যালি থেকে নগরীর যানজট নিরসন এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় দামপাড়া পুলিশ লাইন থেকে শুরু হয়ে জিইসি কনভেনশন সেন্টারে এসে এ র‌্যালি শেষ হয়। র‌্যালির উদ্বোধনকালে সিএমপি কমিশনার মো: মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘কোমলমতি শিশুরা আমাদের করণীয় কী তা বুঝিয়ে দিয়েছে নিজেরা রাস্তায় নেমে। তাদের প্রতি অভিবাদন জানাই।’

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আন্দোলনে নামে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দেলনের সময় তাদেরকে বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখা যায়। দেখা যায় রাজপথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে। এক পর্যায়ে সরকার তাদের ৯টি দাবি মেনে নেয়। এ অবস্থায় ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত রোববার থেকে শুরু হয় ট্রাফিক সপ্তাহ। গত দুদিন ধরে নগরীতে পুলিশকে কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে। যে সমস্ত সড়কে প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল হতে হতো নগরবাসীকে, তাদের কয়েকটিতে পুলিশের তৎপরতায় দেখা গেছে যানবাহনের সুশৃঙ্খল লাইন। এ দৃশ্য দেখে কাজীর দেউড়ি এলাকায় এক টেম্পো যাত্রীকে বলতে শোনা গেছে, ‘পথ যেন এখন ওদের দেখানো পথেই চলছে।’

এদিকে ট্রাফিক সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে গতকাল চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৩১০টি এবং আটক করা হয়েছে ১১৮টি যানবাহন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক উত্তর বিভাগের প্রসিকিউশন ইনচার্জ আনোয়ারুল হক আজাদীকে জানান, সিএমপি’র উত্তর ও বন্দর জোনে মোট মামলা দায়ের হয়েছে ১ হাজার ১৫টি এবং আটক করা হয়েছে ৬০টি যানবাহন। ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনে মামলা হয়েছে ৫৯১টি, যানবাহন আটক হয়েছে ৩৫টি এবং বন্দর জোনে মামলা হয়েছে ৪২৪টি, যানবাহন আটক হয়েছে ২৫টি। এছাড়া দুই জোনে রোববার জরিমানা আদায় হয়েছে মোট ৪ লাখ ৩ হাজার ২৫০ টাকা। এর মধ্যে উত্তর জোনে জরিমানা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা ও বন্দর জোনে জরিমানা আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৫০ টাকা। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে জেলায় মোট ২৯৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ৫৮টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।

গতকাল র‌্যালির উদ্বোধনকালে সিএমপি কমিশনার মো: মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে আমরা সচেতনতামূলক বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি । মূলত নগরবাসীকে সচেতন করতেই এ উদ্যোগগুলো নেয়া হয়েছে। রাস্তার মোড়গুলো যাতে যানজটমুক্ত রাখা যায়, মানুষ যেন জেব্রা ক্রসিং দিয়েই রাস্তা পারাপার করে, বাম দিকের লেইনটা যেন ফাঁকা থাকে, এক রুটের গাড়ি যেন অন্য রুটে চলাচল না করে এ ধরনের বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি। এছাড়া নগরীর ১৬ টি পয়েন্টে ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষ অভিযান চলছে। আমি বিশ্বাস করি নগরবাসী আমাদের পাশে থাকলে, আমরা তাদের আরো বেশি সেবা দিতে পারবো।’

গতকাল র‌্যালি শেষে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক ও কমিনিউটি পুলিশিং, চট্টগ্রামের আহবায়ক এম এ মালেক, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক জসিমউদ্দিন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আমেনা বেগম, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুব আলম, মাঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, সাঈদ গোলাম হায়দার মিন্টু প্রমুখ।

এছাড়াও প্যানেল মেয়র জোবাইদা নার্গিস, কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, মাযহারুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, হাসান মুরাদ বিপ্লব, আব্দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ, আঞ্জুমান আরা, স্থপতি আশিক ইমরান, আহমদ হোসাইন, এম আর আজিম, শরফুউদ্দীন চৌধুরী রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নগরের বিভিন্ন পরিবহন মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন। স্কুলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং বিএনসিসি’র সদস্যরা র‌্যালিতে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। র‌্যালি শেষে সবাই মিলে বেলুন উড়িয়ে ট্রাফিক সপ্তাহ–২০১৮ এর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের ক্লাসে ফিরে গিয়ে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, প্রতি ১১০০ মানুষের জন্য পুলিশ আছে মাত্র ১ জন। এই একজনের পক্ষে এতগুলো মানুষকে কন্ট্রোল করা দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার। এ কারণেই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পথচলা শুরু। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি, পুলিশ ও জনগনের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস করা, জনগণকে পুলিশী কার্যক্রম ও সীমাবদ্ধতার বিষয়ে জানানোসহ বেশ কিছু লক্ষ্য নিয়ে আমরা কমিউনিটি পুলিশিং চালু করেছি। আমাদের অনুধাবন করতে হবে, পুলিশ আমাদের কারো বাবা , কারো ভাই , কারো সন্তান। তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই ভাবে সম্ভব নয় যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পারি একটি সুখী সুন্দর বাসযোগ্য নগরী উপহার দিতে।

অনুষ্ঠানে পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য জিইসির মোড়ে চিটাগং চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে একটি ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।এছাড়া টেরী বাজার বণিক সমিতির পক্ষ হতে কোতোয়ালী থানাধীন টেরিবাজার মোড় এলাকায় জনসাধারণের রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে আরেকটি ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*