ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে বেড়ে গেছে ব্যস্ততা

চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে বেড়ে গেছে ব্যস্ততা

image-64118-1533557393

নিউজ ডেক্স : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম-এ বেড়ে গেছে ব্যস্ততা। এত বড় প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১০ জন মোটরযান পরিদর্শক নিয়ে চলছে ‘ত্রাহি’ অবস্থা। এর মধ্যে আবার যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য দায়িত্ব পালন করতে পারেন ৫ জন। অন্য ৫জন পালন করেন অফিসিয়াল দায়িত্ব। এ অবস্থায় বিআরটিএ থেকে দিনে ১২ ঘণ্টা (৮ঘণ্টার জায়গায়) দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নির্দেশ এসেছে। শনিবারের সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিও কাটছাট হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এটা চলবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মশিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) তৌহিদুল হোসেন বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সকলে। সোমবার (গতকাল) থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সকলে। ঢাকার মিরপুর বিআরটিএ অফিস নিয়ে মোটরযান পরিদর্শকদের নিজস্ব একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অফিসে প্রতিদিন ফিটনেসের জন্য আসে গড়ে ৬০০ গাড়ি। প্রতিটি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য মোট ৬১টি বিষয় দেখতে হয়। ম্যানুয়েলি একটি যানবাহনের ফিটনেস দেখতে হলে একজনের কমপক্ষে ২০ মিনিট করে সময় দরকার। এ হিসেবে ৬০০ যানবাহনের ফিটনেস দেখার জন্য ১২ হাজার মিনিট লাগবে। অর্থাৎ ২০০ ঘণ্টার প্রয়োজন হবে।

ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, একজন মোটরযান কর্মকর্তা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার মধ্যে একঘণ্টা বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা বাদ দিয়ে ৭ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৬০০ যানবাহনের ফিটনেস সম্পন্ন করতে হলে তাহলে ২৯ জন মোটরযান পরিদর্শকের দরকার। এ হিসেবে একজনে গড়ে ২১টি যানবাহনের ফিটনেস সম্পন্ন করার সক্ষমতা রাখেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের শুরু থেকে গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে ফিটনেস সম্পন্ন হয় ৬৮৭টি যানবাহনের। এর মধ্যে গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত একদিনেই ফিটনেস সম্পন্ন হয় ৩২৬টির। জুলাই মাসে ফিটনেস হয় ৪ হাজার ৬২২টি যানবাহনের। উল্লেখিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ মিনিট করে সময় দিয়ে ৩২৬টি যানবাহনের ফিটনেস দেখতে চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র লাগবে ১৬ জন মোটরযান পরিদর্শক। সেখানে সর্বসাকুল্যে আছে মাত্র ১০জন। এর মধ্যে শুধু ফিটনেসের স্পটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয় ৫ জনের। তাহলে প্রতিজন মোটরযান পরিদর্শককে ৬৫টি যানবাহনের ফিটনেস সম্পন্ন করতে হবে!
এ বিষয়ে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক উসমান সরওয়ার আলম বলেন, যদি প্রতিদিন গড়ে ২৫০টি যানবাহনও ফিটনেসের জন্য আসে তাহলেও একজন পরিদর্শককে ৫০টি মতো গাড়ি (৫ জনের হিসাবে) দেখতে হবে। এরপর আমরা সকলের সহযোগিতায় রাতদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আগে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭৫টি আবেদন জমা পড়তো। বর্তমানে তা বেড়েছে। রোববার জমা পড়েছে ১১৫টি। সোমবার একদিনেই জমা পড়েছে ২৯৮টি শিক্ষানবিশ লাইসেন্স এর আবেদন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ। দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আহত হওয়ার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। জানা গেছে, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যানবাহনগুলোর অধিকাংশেরই চালক অনভিজ্ঞ এবং লাইসেন্সবিহীন। গাড়ির ফিটনেসও অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। যানবাহন চলাচলের নিয়ম না জেনে ইচ্ছে মতো বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান অনেকে। গাড়ি চালানোর সময় আবার অনেক ড্রাইভারের কানে দেখা যায় মোবাইল।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর পর দেশ জুড়ে অবৈধ যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিষয়টি সামনে আসে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচলে সরকারের তরফে কড়াকড়ি আরোপ করার পর লাইসেন্স নেয়া ও ফিটনেস সম্পন্ন করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল সংশ্লিষ্টরা। আর বিআরটিএ চট্টগ্রাম অফিসে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ র্নিদেশনা আসার বিষয়ে সহকারি পরিচালক তৌহিদুল হোসেন জানান, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা এসেছে। এ নির্দেশনার ক্ষেত্রে দেশ ও জনগনের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেছে বর্তমান সরকার।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*