ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | আমলা-কামলা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা

আমলা-কামলা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা

37

জাহাঙ্গীর পাভেল : সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ এমন একটা সংস্কৃতি অনুশীলন করে থাকেন যেটা প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজব্যবস্থা ও গোটা রাষ্ট্রীয় কাঠামো কলুষিত করছে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অথচ নিজেরাই প্রচ্ছন্নভাবে কোনো না কোনো অন্যায়, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেই। যেমন: নিজের এলকায় নতুন কোনো সরকারি আমলা-কামলা কর্মস্থলে যোগদান করতে আসা মাত্রই তাঁর জন্যে বাজারের বাছাই করা সবচেয়ে দামী জিনিসটা উপঠৌকন হিসেবে কিনে বিশেষ মারফতে যথাস্থানে পাঠিয়ে দিয়ে তারপর মিছিল সহকারে তাঁর দপ্তরে গিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করতে যাই। নিজেদের প্রভাব-প্রতাপের শক্ত হাত কতো লম্বা আর ক্ষমতার জোর কতো বেশি তা প্রদর্শনের মহান উদ্দ্যেশ্যে আমলা-কামলাদের সাথে বিশেষ মুহুর্তের ঐতিহাসিক ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করি। আর দিন যতো গড়ায় নানান কৌশলে আমলা-কামলাদের সাথে সখ্যতা বাড়ানোর সবরকম ফন্দিফিকির চালিয়ে যাই যাতে নিজেরা ফায়দা হাসিল করতে পারি। কিন্তু সেই আমলা-কামলাদেরই কারো কাছ থেকে যেইদিনই কোনোরকম সুবিধা থেকে বঞ্চিত হই কিংবা নিজেদের স্বার্থ পরিপন্থী এমন কোনো কাজ তাঁরা করে বসেন সেইদিন থেকেই তাঁদেরকে অসৎ, দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী বলে নানান অপবাদ দেয়া শুরু করি আর সেই সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীটাকে তাঁর পদ ও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাই। এবং তাঁকে কোনো উপায়ে সরিয়ে দিতে পারলেই উল্লাসে মেঁতে উঠি। কিন্তু যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে খারাফ বলে সরিয়ে দেই তার স্থলে নতুন যিনি আসবেন তিনিও যে মন্দ নন তার নিশ্চয়তা কী সেটা নিয়ে ন্যুনতম ভ্রুক্ষেপ করিনা কারণ এই অনিয়মের নিয়মই চক্রাকারে চালু থাকবে! কি বিচিত্র সমীকরণ!

নিজেদের বিকেকের কাছে প্রশ্ন করি; ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব আমলা-কামলাদের নিয়ম বহির্ভূত অনৈতিক কাজ করতে উৎসাহ ও প্রশ্রয় দিয়েছে কারা? এরা কাদের আঁসকারা পেয়েছে, কেনো পেয়েছে এবং এরা নিজেরা কিভাবে সুবিধা নিয়েছে আর আমাদের কতোটা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, কেনো দিয়েছে, কিসের বিনিময়ে দিয়েছে? আশা করি, একজন বিবেকবান মানুষ এই প্রশ্নগুলোর জবাব নিজের কাছেই পাবেন।

আমরা সাধারণ নাগরিকরা যেই দিন সরকারি আমলা-কামলাদের তোষামোদ করার এই অপসংস্কৃতি পরিহার করতে পারবো সেই দিন থেকে নিজেরাও সবরকম অন্যায়, অনিয়ম ও হয়রানি থেকে মুক্ত হতে পারবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আগে আমরা নিজেরা সৎ ও দায়িত্বশীল হই এবং নিজেরা নিজেদের কাছে স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করি তারপর নাহয় অন্যের সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলি।

লেখক : জনস্বাস্থ্য গবেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*