
এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের ১৪৩৩ বাংলা সনের ইজারা প্রদানের জন্য জমা দেওয়া দরপত্র গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি বাজারে সর্বোচ্চ দরদাতাদের ইজারাদার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
তবে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পদুয়া তেওয়ারী হাট বাজারে কোনো দরপত্র জমা না পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, বাজারটির জন্য প্রায় ২৮টি দরপত্র ফরম সংগ্রহ করা হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই দরপত্র জমা দেননি।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পদুয়া তেওয়ারি হাট একসময় আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মিলনস্থল ছিল। প্রতি হাটবারে এখানে দূর-দূরান্ত থেকে গরু-ছাগল, কাঁচা সবজি, মাছ, মুরগি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা হতো।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারটির নানা অব্যবস্থাপনা ও জটিলতার কারণে আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে গেছে। দরপত্র জমা না দেওয়ার কারণ জানতে বর্তমান ও সাবেক একাধিক ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারটিতে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু সমস্যা বিরাজ করছে।
ইজারাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়া বাজারে সরকারি কোনো স্থায়ী গরু-ছাগলের হাট নেই। ফলে পশুর হাট বসানোর জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। এছাড়া কাঁচা বাজারের অধিকাংশ দোকানঘর বা সেট স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ইজারাদাররা নিয়ম অনুযায়ী বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারেন না।
বর্তমান ইজারাদার মোহাম্মদ আলমগীর জানান, বাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও দখলকৃত সেট উদ্ধারের জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের খরচে ইউএনও কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে খাস জমি পরিমাপ করে নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করে বাজার ইজারা আহ্বান করে, তার চেয়ে বেশি দর দিয়ে বাজার নিলে সেই অর্থ আদায় করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।

এতে ইজারাদারদের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে অনেকেই ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হন না। তাদের মতে, বাজারটি দখলমুক্ত করা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই পদুয়া তেওয়ারি হাট আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে স্বাভাবিক বেচাকেনা ও ইজারা কার্যক্রম আবারও সচল হয়।
এদিকে, ১১ মার্চ লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৪৩৩ বাংলা সনের হাট ও বাজার ইজারা বিজ্ঞপ্তি (২য় পর্যায়) প্রকাশ করা হয়। এতে তেওয়ারীহাট, মাষ্টারহাট ও হাতিয়ারপুল বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner