
নিউজ ডেক্স: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় আইসিইউ’র সামনে ফ্লোরে বসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সাবেরা বেগম। কাঁপা কণ্ঠে শুধু বলছিলেন, ‘হাইরে রেশমি, হাইরে রেশমি, আমার রেশমি কি বাঁচবে?’ তাঁকে ঘিরে ছিলেন স্বজনেরা।
কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ আবার নীরবে চোখ মুছছেন। শনিবার (৯ মে) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

আইসিইউ’র সামনে কথা হয় রেশমির মেঝ ভাই মো. ফয়সালের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারের সবার আদরের ছোট বোন রেশমির অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চোখ দিয়ে গুলি ঢুকে মগজে আঘাত করেছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে, ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারছে না। বোনের চেহারার দিকে তাকানোর মতো অবস্থাও নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার চঞ্চল বোনটার কোনো নড়াচড়া নেই। মাথার একপাশে ব্যান্ডেজ। ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারছে না। এসব ঘটনার বিচার হবে কি না জানি না, তাই বিচারও চাই না। শুধু চাই, আল্লাহ যেন আমার বোনকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন’।
রেশমির খালু মনসুর আলম বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে সিট না পেয়ে রেশমিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় ৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। রেশমির বাবা প্রতিবন্ধী, শাক বিক্রি করে পরিবার চালান। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চিকিৎসার খরচ চালানো হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যেন রেশমির চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করা হোক।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রেশমির মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ধরনের রোগীর অবস্থা নির্ণয় করা জটিল। তবে তাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। -বাংলানিউজ
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner