Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাত মাস পর ফের কক্সবাজার কারাগারে ওসি প্রদীপ

সাত মাস পর ফের কক্সবাজার কারাগারে ওসি প্রদীপ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে দীর্ঘ সাত মাস পর আবারও কক্সবাজার কারাগারে আনা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একটি মামলায় তাকে এতদিন চট্টগ্রাম কারাগারে রাখা হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে আনা হয়।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সকাল পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ওসি প্রদীপকে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেয় এবং বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পৌছে। তবে কী কারণে প্রদীপ কুমার দাশকে কক্সবাজার কারাগারে আনা হয়েছে তা নিশ্চিত নই।”

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ (পরিদর্শক) লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।

পরদিন ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের আদেশে মামলাটির তদন্ত করে র‌্যাব। তদন্ত শেষে প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।

এরপর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দুদকের একটি মামলায় হাজিরা দিতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে নেয়া হয়। এর আগে গত বছরের ২৩ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ একটি মামলা করেন।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১), মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রদীপের স্ত্রী চুমকি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এছাড়া তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যা প্রদীপ কুমার দাস ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করে পরস্পরের যোগসাজশের মাধ্যমে হস্তান্তর; স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে ভোগদখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।” আজাদী অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!