Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২, আহত ৫

বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২, আহত ৫

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : বান্দরবানের জামছড়িতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা মারা গেছে। ঘটনার সময় আতঙ্কে আরও একজন বয়োজ্যোষ্ঠর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এ ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নে জামছড়িতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের ১০/১২ সদস্য এলোপাতালি গুলি ছুড়ে। এসময় তাদের গুলিতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতিসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় সাবেক যুবলীগ নেতাসহ আরও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচুনো মারমা (৫৪) এবং আতঙ্কে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বাখোয়াই মারমা (৬৩)।

আহতরা হলেন সাবেক মেম্বার উচ থোয়াই (৬৫), যুবলীগ নেতা মংক্যা চিং মারমা (২৫), যুবলীগ নেতা হ্লামং চিং (৩০) ক্যাপোমং (৪৫) এবং প্রতিবন্ধী আধাসী (২৬)। আতঙ্কে পাহাড়ি গ্রামের মানুষেরা এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে। জামছড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।চারদিকে নেমে আসে নীরবতা।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। হতাহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে আওয়ামী লীগের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এসময় আতঙ্কে আরও একজন বৃদ্ধও মারা গেছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে আরও ৫ জন। হতাহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বান্দরবান শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ সহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে ট্রাফিক মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম চৌধুরী, পৌরশাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল কান্তি দাস, সাধারণ সম্পাদক সামশুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান খোকন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাওছার সোহাগ প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরেন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমাকে দায়ী করেছেন। দ্রুত হামলাকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম চৌধুরী।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!