Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সমালোচনায় রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সমালোচনায় রিজভী

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফর নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা) আয়োজিত সাবেক ছাত্রদল নেতা প্রয়াত নিশতাক আহমেদ রাখীর স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সমালোচনা করেন।

রিজভী বলেছেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) ১৪১ জন আত্মীয়-স্বজন, দলের লোক সব নিয়ে প্রথমে গেলেন ফিনল্যান্ড তারপরে নিউইয়র্ক। ফিনল্যান্ডে আপনার কী কাজ ছিল? কী এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল যে একটা গোটা বিমান চাটার্ড করে আপনি সেখানে গেলেন। তাতে বোঝাই যাচ্ছে পারিবারিক কোনো লেনদেনের ব্যাপার সেইটা হয়তো মিটমাট করার জন্য আপনি গেছেন। সেখানে আপনার ভাগ্নের মান ভাঙার জন্য, তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। যেটা আজকে প্রচার হচ্ছে সেটা কি অসত্য? মানুষ খাবারের জন্য হাহাকার করছে আর আপনি প্রধানমন্ত্রী ১৪১ জন মানুষ নিয়ে যাচ্ছেন নিউইয়র্কে।’

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কড়া সমালোচনা করে রিজভী তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১৪১ জন সহযাত্রী নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে গেছেন। সবাই বলাবলি করছে বিভিন্ন মাধ্যমে দেখছি ভাগ্নের মান ভাঙাতে তিনি নাকি সেখানে গেছেন এই যদি হয় তাহলে কোথায় যাব আমরা? ফিনল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক উনি (প্রধানমন্ত্রী) গেছেন জাতিসংঘের বাৎসরিক অধিবেশনে সেখানে বক্তব্য রাখার জন্য। কই আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে তো রোহিঙ্গাদের কথা বলেননি। বাংলাদেশে আজকে যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতির জন্য আপনি দায়ী সেটি তো আপনি বলেননি। তাহলে আপনি সেখানে কিসের কথা বলতে গেছেন? আপনি যে দিনের ভোট রাত্রে দেন, আপনি যে নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী সেটা একবার নিজের দিকে তাকিয়ে আপনি সেখানে বক্তব্য দিতেন। দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে আজকে দেশের যে সঙ্কট রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে উদ্যোগ থাকার দরকার ছিল, যে কূটনৈতিক তৎপরতা থাকার দরকার ছিল সেই কূটনৈতিক তৎপরতা আপনি দেখাতে পারেননি। আপনি চারিদিক থেকে ব্যর্থ।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘একটা গরিব দেশ, কর্মসংস্থান নেই। হাজার হাজার যুবক এমএ পাস করে, মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে। মহামারি এই করোনার কারণে বহুমানুষ কর্মহীন হয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। পাশাপাশি একই সঙ্গে আমরা দেখছি দেশের এক শ্রেণির মানুষের কী আনন্দঘন বিলাস চলছে।’

রিজভী বলেন, ‘আপনারা দেখুন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় দুই বছর বন্ধ রাখলেন সেই সঙ্গে স্কুল কলেজ ও বন্ধ রাখলেন। এখন ৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারা নাকি খুলবেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবাইকে নাকি টিকা নিতে হবে এবং টিকা কার্ড নিয়ে সবাইকে নাকি যেতে হবে। তারপর বলছেন, সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নজরদারিতে থাকবে। কি চলছে দেশে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নজরদারিতে থাকবে কেন? তাহলে এতদিন আপনারা যে করোনার অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেন এইটা তাহলে রাজনৈতিক উদ্দেশে। এইটা করোনার বিষয় নয়, একধরনের ভীতি থেকে, এক ধরনের শঙ্কা থেকে। কারণ আপনার মনের মধ্যে দুর্বলতা, আপনি নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী। আপনার সরকার নিশিরাতের। পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে আপনি দেশ চালাচ্ছেন। এজন্যই আপনারা আতঙ্কিত যে কখন কী হয়ে যায়।’

প্রয়াত নিশতাক আহমেদ রাখীর স্মৃতিচারণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘রাখীর মতো ছেলেদের এই মুহূর্তে দেশে খুব প্রয়োজন ছিল। চারিদকে যখন অসৎ বাটপার-দুর্নীতিবাজ-লুটেরারা তাদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য গোটা জাতিকে এক ভয়ংকর অন্ধকারের মধ্যে নিপতিত করেছে সে মুহূর্তে রাখীদের মতো সৎ সাহসী নির্ভীক এবং তার পেশাদারিত্বে চরমভাবে নিষ্ঠাবান ছেলের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া একটা বিরাট ক্ষতি বলে আমি মনে করি। এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি মনে করি। এই শূন্যতা যে খুব তাড়াতাড়ি খুব সহজে পূরণ হবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মো. নেছারুল হক, মৎসজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ বক্তব্য দেন। জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!