Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ‘গুপ্ত’ ও চট্টগ্রামে সংঘর্ষ ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

‘গুপ্ত’ ও চট্টগ্রামে সংঘর্ষ ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

নিউজ ডেক্স: জাতীয় সংসদে ‘গুপ্ত’ শব্দ এবং চট্টগ্রামের একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সময় হইচই ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যের শুরুতে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, ‘সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত চালাচ্ছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদে যে আচরণ দেখাচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা আগামী দিনে বাংলাদেশে সুস্থধারার রাজনীতি করতে দেবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দলকে বলে দিতে চাই—আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না। অতএব সরকারকে সাহায্য করুন, ফ্যাসিবাদের মতো বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা ঠিক হবে না।’
চট্টগ্রামের একটি ঘটনার সূত্র টেনে ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, “গতকাল চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর শিবির হামলা করেছে। ছাত্রদলের অপরাধ কী ছিল? তারা শুধু দেওয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছে। এই একটি শব্দকে কেন্দ্র করে তারা হামলা করে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে। আজকে বিরোধী দলের ভাইয়েরা খেপে উঠেছেন, তারা সংসদে আমাদের কণ্ঠ চেপে ধরতে চান।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, পাহাড়ে কৃষি নির্ভর অর্থনীতির জন্য একটি ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ‘মেডিকেল কলেজ’ স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার বন উজাড় করে দিয়েছে। বন রক্ষা ও অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য পাহাড়ে একটি বন গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রয়োজন।’ পাহাড়ি ও বাঙালিদের শান্তিতে বসবাসের জন্য গ্রামীণ উন্নয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা এক্সপাঞ্জ (কাটা) করা হোক। একজন সংসদ সদস্য যেভাবে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, তাতে আমরা ব্যথিত। তিনি কি জনগণকে উসকানি দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।’

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে তবে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে। তবে রাজনীতিতে ‘আমরা চুপ করে থাকবো না’—এসব কথা রাজনীতিবিদরা শত বছর ধরে বলে আসছেন। আপনারা বক্তব্যের মাধ্যমে এর জবাব দিন, কিন্তু ডিস্টার্ব করবেন না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!