Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কোয়ারেন্টিনে পচা খাবার দেওয়ায় ভারতফেরতদের বিক্ষোভ

কোয়ারেন্টিনে পচা খাবার দেওয়ায় ভারতফেরতদের বিক্ষোভ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : কোয়ারেন্টিনে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন ভারত থেকে দেশে ফেরা নাগরিকরা। ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কোয়ারেন্টিন সেন্টারে।

এদিকে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় খাবার সরবরাহকারী হোটেল সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে শহরের মেহমান হোটেল সিলগালা করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের দেশে ফেরার নির্দেশনার পর গত ১৭ মে থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেন বাংলাদেশিরা। তবে শর্ত মোতাবেক দেশে ফেরা সবাইকে বিশেষ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে ১৪ দিন। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন করছে গোটা বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ন। সেই অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরা প্রায় ৭০০ মানুষ অবস্থান করছেন চুয়াডাঙ্গার চারটি সরকারি ভবন ও কয়েকটি আবাসিক হোটেলের অস্থায়ী কোয়ারেন্টিন সেন্টারে। এরমধ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছেন ১১৪ জন। এদের তিনবেলা খাবারের যোগান হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত তিনটি রেস্তোরা থেকে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী থাকা খাওয়ার সব খরচ বহন করতে হচ্ছে যাত্রীদের নিজেদেরকেই।

এদিকে, আবাসন নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ না পাওয়া গেলেও সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠতে থাকে। গতকাল বুধবার রাতে টিটিসি কোয়ারেন্টিনে সেন্টারে ক্ষোভ রূপ নেয় বিক্ষোভে। অনেকে টিটিসি ভবনের জানালা দিয়ে ফেলে দেন খাবার।

যাত্রীদের অভিযোগ, যে মাছ খেতে দেওয়া হয়েছে তা পচা দুর্গন্ধযুক্ত, একদম খাওয়ার অনুপযোগী। গতকাল দুপুরের খাবার কোনো মতে খাওয়া গেলেও রাতে ভাতের সঙ্গে যে মাছ দিয়েছে তাতে ছিলো পচা গন্ধ।

কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের খাবারসহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আমজাদ হোসেন জানান, মান যাচাই করে চুয়াডাঙ্গা শহরের তিনটি রেস্তোঁরাকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হয়েছে সরবরাহের কাজ। তদারকিতে দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন। বড় বাজারের হোটেল আল আমিন, ভোজন বিলাস এবং মেহমান হোটেল থেকে যাচ্ছে তিনবেলার খাবার। গতরাতে ১০-১২ জন যাত্রী খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যরা কোনো অভিযোগ করেনি। বাংলানিউজ

তিনি আরও জানান, কোয়ারেন্টিনে থাকা বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে থাকা খাওয়া বাবদ জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। খাবার নিয়ে অভিযোগ ওঠায় এর আগেও সরবরাহকারী হোটেল বদল করা হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করায় হোটেল মেহমান সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হাবিবুর রহমান ওই অভিযান পরিচালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!