Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ইয়াবা পাচারে প্রাইভেট গাড়ি, মালিকের অজান্তে ভাড়া খাটান অনেক চালক

ইয়াবা পাচারে প্রাইভেট গাড়ি, মালিকের অজান্তে ভাড়া খাটান অনেক চালক

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : থামছে না ইয়াবা পাচার। কম সময়ে দ্রুত বিত্তশালী হতে দিন দিন বাড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ী। রেল, বাস, ট্রাক, চেয়ারকোচযোগে মাদক পাচার ইদানীং হয়ে পড়েছে সাধারণ বিষয়। ওঁত পেতে থাকা র‌্যাব, পুলিশ কিংবা বিজিবির হাতে ধরা পড়ছে মাদকের বড় চালান। লোকসান গুণতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তাই মাদক পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে দামি গাড়ি। আর গাড়িতে যদি এক-দুজন নারী থাকে, তবে তো কথা-ই নেই। মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক পাচারের সামপ্রতিক কৌশল এটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করে বলেন, পুলিশ-র‌্যাবকে সাইকোলজিক্যালি দুর্বল করার জন্যই এ কৌশল নিয়েছে ইয়াবা পাচারকারিরা। মালিকের অজান্তে গাড়ি চালক লোভে পড়ে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া খাটাচ্ছে মাদক পরিবহনে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৭৭ হাজার ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাটে কারটিতে তল্লাশি চালান র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারী পরিচালক এএসপি মাশকুর রহমান জানান, তল্লাশির সময় প্রাইভেটকারটির দরজার সঙ্গে বিশেষ কৌশলে রাখা ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তৃতীয় দফায় তারা চট্টগ্রাম নগরীতে ইয়াবা নিচ্ছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর নগরীর কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা ক্রসিংয়ে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। শিকলবাহা ক্রসিংয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসা একটি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস তল্লাশি করে যাত্রীর সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১৩ হাজার ৬৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ১৪ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষাড়িয়ারচর এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা। ইয়াবা বহন করে প্রাইভেটকারটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ৫ জুলাই লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকারযোগে ইয়াবা পাচারকালে দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৮ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে ৫ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ এর দল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে র‌্যাব-১১ চেকপোস্টে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে এই ইয়াবার চালান জব্দ করা হয়। এসময় মাদক বিক্রির নগদ ৬৭ হাজার ২৫০ টাকাও উদ্ধার করা হয়। ৫ মে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় প্রাইভেটকারে ৮০ হাজার ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রাইভেটকার নিয়ে ইয়াবা পাচারকালে কক্সবাজার রামু হাইওয়ে পুলিশ দুই পাচারকারীকে আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃত মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যরা জানায়, প্রাইভেট গাড়ি থাকার সুবিধা অনেক। রাস্তায় পুলিশ কিংবা র‌্যাবের টিম থাকলেও তারা সাধারণত কোনো রাজনৈতিক নেতার গাড়ি মনে করে থামায় না। গাড়ি তল্লাশি করে কিছু পাওয়া গেলে ঠিক আছে। কিন্তু কোনো কারণে যদি নেতার গাড়ি হয়ে থাকে, তবে কোনো কারণ দর্শানোর আগেই চাকরি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়। এ ভয় থেকেই মূলত দামি গাড়ি দেখলে তারা ছেড়ে দেয়। তাছাড়া ইদানীং ট্রেনে বা বাসে মাদক পরিবহনে পথে পথে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির তল্লাশি চলে। একবার ধরা পড়লে কয়েক লাখ টাকার মাল আটক হয়ে যায়। তার ওপর মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি এসব ঝামেলা তো আছে। এ কারণে মাদক পাচারে এখন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাইভেট গাড়ি। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!