Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত ইজতেমা ময়দান

আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত ইজতেমা ময়দান

image_printপ্রিন্ট করুন

1484917334

নিউজ ডেস্ক : টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আজ। ধর্মপ্রাণ মুসলমান কান্নাকাটি, রোনাজারি ও আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলে ইজতেমা ময়দান। রোববার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ১২ মিনিট আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় ১১টা ৪৩ মিনিটে।

দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতও পরিচালনা করেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের প্রধান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী। মোনাজাতের আগে বিশ্বব্যাপী তাবলীগ জামাতের সাথীদের উদ্দেশ্যে হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন তিনি। বয়ানের অনুবাদ করেন মাওলানা ওমর ফারুক।

৩১ মিনিট স্থায়ী দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের প্রথমেই তিনি মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করেন। অতঃপর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদসহ কুরআন অসংখ্য দোয়ার আয়াত ও হাদিসের অসংখ্য মাসনুন ও ফজিলতপূর্ণ দোয়া পাঠ করেন।

অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর সঙ্গে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান আখেরি মোনাজাতে শরীক হন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হৃদয়ের সর্বোচ্চ আবেগ ও অনুভূতি দিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমিন-আমিন ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলেন ইজতেমা ময়দান।

মোনাজাতের টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচার দেখে বিশ্বব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করে। ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়া মুসল্লিরা যার যার চাওয়া-পাওয়া নিয়ে ফরিয়াদ জানান আল্লাহর দরবারে।

বারবার তাওবা-ইস্তেগফার করে নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও গোনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব ধরনের বালা-মুসিবত থেকে নিরাপদে থাকার জন্যও প্রার্থনা করেন তারা। আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

আখেরি মোনাজাতে মাওলানা সাদ বলেন, ‘হে দয়াময় মাওলা! যে কাজের জন্য আপনি আমাদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সে সব থেকে গাফেল। মেহেরবানি করে আমাদের গাফলতির পর্দা উঠিয়ে দিন। আমাদের উদাসিনতা দূর করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দিন। আমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন। আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দিন।

হে আল্লাহ! আমরা পাপিষ্ঠ গোনাহগার, আমরা অপরাধী, আমরা আপনার নির্দেশ ভুলে যাই, আমরা ভুল করি; অনুগ্রহ করে আমাদের সব গোনাহ আপনি ক্ষমা করে দিন। আমাদের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে কবরবাসী প্রত্যেক মুসলমানকে আপনি মাফ করে দিন।

হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহ আজ দাওয়াতের কাজ থেকে দূরে সরে গেছে, জাগতিক মোহ, নফসের পূজা আর প্রবৃত্তির অনুসরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। আপনি উম্মাহকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। দুনিয়ার মোহ, নফসের খাহেশাত থেকে দূরে রেখে আমাদের মূল জিম্মাদারির সঙ্গে থাকার তওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের দ্বীনের ওপর অটল, অনড় ও অবিচল থাকার যোগ্যতা দিন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার দয়ার মুহতাজ, আপনি বে নায়াজ। আমরা অপরাধী, আপনি ক্ষমাকারী। আমরা দিশেহারা, আপনি আমাদের সুপাথ দান করুন।

হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে নামাজের পাবন্দি করার তওফিক দান করুন। নামাজকে জিন্দা করার তাওফিক দান করুন। নামাজে খুশ-খুজু নসিব করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান বাড়িয়ে দিন। ঈমানি দাওয়াত প্রচারে ঘর থেকে বের হওয়ার তওফিক দিন। ঈমানি দাওয়াতে সাহাবায়ে কেরামের মতো যে কোনো ত্যাগ, কষ্ট ও ক্লেশ সহ্য করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে ঈমানে পরিপূর্ণতা দান করুন। আপনার সব নির্দেশ আপনার হাবিবের সুন্নাত মোতাবেক যথাযথ পালন করার তওফিক দিন।

হে আল্লাহ! আমাদেকে সুন্নাত মোতাবেক জীবন গড়ার তওফিক দিন। সুন্নতের দাওয়াত বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন। বিদয়াত থেকে আমাদেরকে দূরে রাখুন। সুন্নাত ও বিদয়াতকে চেনার ও পার্থক্য করার জ্ঞান দান করুন।

জামাতের সঙ্গে তাকবিরে উলারসঙ্গে নামাজ পড়ার তওফিক দিন। আমাদের সব আমল কবুল করুন। ইখলাস দান করুন। অলসতা, বিলাসিতা ও লৌকিকতা থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে দাওয়াতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতার বিষয়ে অবগত থাকার তওফিক দান করুন। উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের হেতু সম্পর্কে ওয়াকিফহাল করুন। দেশ-বিদেশের আনাচে-কানাচে আপনি দ্বীনের কাজ চালু করে দিন। হে আল্লাহ! দ্বীনের দাওয়াতে দেশ-বিদেশে যত জামাত কাজ করছে তাদের হিম্মত বাড়িয়ে দিন। কাজে আগে বাড়ার তওফিক দান করুন। সব বাঁধা ও সমস্যা দূর করে দিন। সবার ভেতর দ্বীনের ফিকির দান করুন। ঐক্যবদ্ধ থাকার তওফিক দিন। আমাদের বিভেদকে মিটিয়ে দিন। আমাদেরকে মনে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে হেফাজতে রাখুন।

হে আল্লাহ! আমরা সবাই হেদায়েতের মুখাপেক্ষি। আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন। সঠিক পথের দিশা দিন। হেদায়েতের লাইনে মেহনত করার তওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমাদের ওপর আপনার রহমত নাজিল করুন। সব মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও জামাতকে আপনি কবুল করুন।

হে আল্লাহ! আপনি দ্বীনের মেহনতকারীদের কল্যাণ দান করুন। আলেমদের নেক হায়াত দান করুন। সবাইকে ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দেয়ার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! দ্বীনের দাওয়াতে যারা জামাতে বেরিয়েছে, আপনি তাদের জিম্মাদার হয়ে যান। দাওয়াতে দ্বীনের সব প্রতিবন্ধকতা আপনি দূর করে দিন। যারা আপনার রাস্তায় এখনো বের হতে পারেনি, তাদেরকে দ্রুত আপনার রাস্তায় বের হওয়ার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনি অসুস্থদেরকে সুস্থতা দান করুন। যারা বিভিন্ন সমস্যায় পতিত তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে দিন। যারা ঋণে জর্জরিত তাদের ঋণ পরিশোধের তাওফিক দান করুন। যারা নির্যাতিত তাদেরকে আপনি সাহায্য করুন।

হে আল্লাহ! আপনি ইজতেমাকে কবুল করুন। যারা ইজতেমার জন্য মেহনত করেছে তাদেরকে কবুল করো। দয়া করে আপনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। আমাদের দোয়াকে কবুল করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।

সবশেষে মাওলানা সাদ কুরআনের সর্ব শ্রেষ্ঠ দোয়া- ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাতও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার’ এ দোয়ার মাধ্যমে তাঁর মোনাজাত শেষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!