
নিউজ ডেক্স : বুয়েটের পরামর্শে কালুরঘাট সেতু মেরামতে টেন্ডার আহ্বান করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু দিয়ে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে দিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে সেতুর ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে রেলওয়েকে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ বুয়েটের নির্দেশনা অনুযায়ী সেতু মেরামতে টেন্ডার আহ্বান করেছে। সহসা কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দোহাজারী–কক্সবাজার রেল লাইনের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী।
এদিকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী সেতু মেরামতের পর চলতি বছরের মধ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের।

এই ব্যাপারে দোহাজারী–কক্সবাজার রেল লাইনের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, কালুরঘাট সেতু মেরামতের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সহসা কাজ শুরু হবে। দোহাজারী–কক্সবাজার রুটের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কক্সবাজার অংশের ৫০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামের দিকের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৫ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি অবশিষ্ট ২৫ কিলোমিটারের কাজ আগস্টের মধ্যে শেষ করতে পারবো। এই ২৫ কিলোমিটারের মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু স্লিপার আর রেল বিট বসবে। আগস্ট–সেপ্টেম্বর এই দুই মাসে ফিনিশিং ওয়ার্কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে অক্টোবরে আমরা ট্রায়ালরান উদ্বোধন করতে পারবো বলে আশা করছি। প্রথমত আমরা এক জোড়া ট্রেন দিয়ে হলেও চালু করে দেবো। শুধু রেল লাইনের কাজ শেষ হলে তো হবে না। কালুরঘাট সেতুও মেরামত জরুরি। টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।
এদিকে গত ২২ এপ্রিল রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি কালুরঘাট সেতু পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিদ্যমান সেতুটি বুয়েটের পরামর্শে মেরামতের পর অনেক শক্তিশালী হবে। মেরামতের পর কালুরঘাট সেতু দিয়ে কক্সবাজার রুটে ট্রেন যেতে পারবে। কক্সবাজার লাইনে যে ট্রেনগুলো চলবে সেগুলোর ইঞ্জিনের ওজন একটু বেশি হবে। তাই কালুরঘাট সেতুতে এলেই গতি কমিয়ে চলাচল করবে বলে জানান তিনি।
এদিকে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে রেলওয়ের একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেছিলেন চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইনের কাজ জুন–জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারব। আর কোনো কারণে জুন–জুলাইয়ে কাজ সম্পন্ন না হলে এক বা দুই মাস বেশি লাগতে পারে। সেই সময়টাকে ধরে নিয়েই আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি চলতি বছরের মধ্যেই রেলে আমরা কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারব।
এদিকে কালুরঘাট সেতু মেরামতকালীন সময়ে সেতু দিয়ে সকল ধরনের যানবাহ চলাচল বন্ধ থাকবে। এজন্য সেতুর নিচে কর্ণফুলী নদী দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। নদীতে তিনটি ফেরি চলে এসেছে। এপ্রোচ সড়কও প্রস্তত করা হয়েছে। এখন শুধু চালুর অপেক্ষা। -আজাদী
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner