
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : প্রত্যাবাসনের খবরের পর থেকেই ক্যাম্প ছেড়ে নানা উপায়ে সৈকতের ঝাউ বাগানের বিভিন্ন পয়েন্টে আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমারে ফিরতে অনাগ্রহী রোহিঙ্গারা। সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে ঝাউগাছ কেটে গড়ে তুলছে বসতি। এতে সৈকতের সৌন্দর্য্যহানির পাশাপাশি পর্যটন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। জনবল সঙ্কটে ঝাউবনে রোহিঙ্গা বসতি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন পয়েন্ট। ঝাউবাগানের ভেতরে ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাসকারীদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। স্থানীয়রা বলেন, প্রত্যাবাসনের খবরের পর থেকেই ব্যাপকহারে ক্যাম্প ছেড়ে এখানে বসতি করতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। শুধু এই পয়েন্টটিতে নয়; ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের অন্তত ১০টি পয়েন্টের ঝাউবাগানে বসতি তৈরি করেছে রোহিঙ্গারা। কিছু দালাল চক্রের সাহায্য নিয়ে ঝাউগাছ নিধন করে বসতি নির্মাণের পাশাপাশি ও জ্বালানি কাঠ হিসেবেও ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। নতুন করে ঝাউবাগানে রোহিঙ্গাদের বসতি পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। জেলার বনবিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, ঝাউবাগানে বসতি উচ্ছেদ কিছু রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হলেও স্বল্প জনবলের কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে না পারে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয় ১১টি তল্লাশি চৌকি। এসব তল্লাশি চৌকি থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Lohagaranews24 Your Trusted News Partner