Home | ব্রেকিং নিউজ | মহাসড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি, চিঠি দিয়ে দায় সারছে সওজ

মহাসড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি, চিঠি দিয়ে দায় সারছে সওজ

নিউজ ডেক্স: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা। ‘মৃত্যুকূপ’ নামে পরিচিত এ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন স্বয়ং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

এর পরপরই দুর্ঘটনা রোধে এবং যানজট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে  ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলেও সড়কের মাঝখানে এখনও ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্তত ১০টি বিদ্যুতের খুঁটি।
রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) বিশাল বিলবোর্ডও। আর মহাসড়কের উভয়পাশের এসব বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। কিন্তু টাকা দেয়নি। টাকা না দেওয়ায় ‘মৃত্যুকূপ’ নামে পরিচিত এ সড়কের মাঝখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে অনীহা বিদ্যুৎ বিভাগের।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ বলছে, সড়কের মাঝখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা খুঁটি অপসারণে বেশি টাকা দাবি করছে।  টাকা বেশি চাওয়ায় এখনো জমা করা হয়নি।

লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, খুঁটি অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এখনো টাকা জমা দেয়নি। যার কারণে খুঁটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি দুই সংস্থার এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও যাত্রী-চালকেরা।

তারা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই এ সড়কে দুর্ঘটনার কারণে কোনো না কোনো মায়ের বুক খালি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও এ এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য। তাই সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে এ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কের মাঝখান থেকে এখনো বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে এক সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর দায় দিয়ে যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া অংশটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে এ এলাকায় ছোট-বড় প্রায় অর্ধশত দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪ জন। আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই। চলতি মাসের ৯ মে যাত্রীবাহী মারসা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হন ১৫ জনের অধিক।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার ৯০০ মিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। মাঝখানে ৪ ফুট ডিভাইডার রেখে উভয় পাশে ২৪ ফুট করে মোট ৫২ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্প্রসারণ অংশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। যেগুলোর কয়েকটি প্রশস্তকরণ সড়কের প্রায় মাঝ বরাবর রয়ে গেছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। আর মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশ প্রশস্তকরণের কাজ ৩টি প্যাকেজে চলমান রয়েছে। প্রথম প্যাকেজটি সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে শুরু হয়ে লোহাগাড়ার রাজঘাটা এলাকা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ এইচ কনস্ট্রাকশন এবং প্রকল্প ব্যয় ৩৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় প্যাকেজ লোহাগাড়ার রাজঘাটা এলাকা থেকে চুনতি মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত। ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়ক প্রশস্তকরণে ৩৪ কোটি টাকার এই প্যাকেজের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ কনস্ট্রাকশন।

তৃতীয় প্যাকেজটি লোহাগাড়ার চুনতি মিঠার দোকান থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা পর্যন্ত। ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দে এই প্যাকেজের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এ.এইচ কনস্ট্রাকশন। এই প্যাকেজের আওতায় চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রস্থ ২১ ফুট। এটিকে ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করার জন্য সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত উভয় পাশে কোথাও ৬ ফুট, কোথাও ৭ ফুট করে বর্ধিত করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে ১০-১২ ফুট বর্ধিত করা হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, সড়কের উভয়পাশের সব বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুঁটি অপসারণে তারা বেশি টাকা দাবি করছে তাই টাকা জমা করা হয়নি।

খুঁটি অপসারণ না করে তাড়াহুড়ো করে পরিকল্পনাবিহীন সড়ক সংস্কারের প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে চিঠি দিলেও খুঁটি অপসারণের ক্ষেত্রে এখনো টাকা জমা না দেওয়ায় খুঁটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। টাকা জমা দেওয়ার পর খুঁটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -বাংলানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!