
এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ায় গুলিবিদ্ধ ও বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মারা গেছে এক বন্যহাতি। ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা চাকফিরানী এলাকার দক্ষিণের ঘোনার বোইন্না বিলের ধান ক্ষেতের এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৩ নভেম্বর) ভোরে স্থানীয়রা মৃত বন্যহাতিটি দেখতে পান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিক উদ্দিন। পরে তিনি বিষয়টি বনবিভাগকে অবহিত করেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানান, কৃষকরা নিজেদের ফসল রক্ষার্থে বন্যশুকর মারার জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপন করেছে। রোববার দিনগত রাতের যে কোন সময় এ ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে বন্যহাতিটি। তবে কৃষকদের ফাঁদ স্থাপনের জন্য সহযোগিতা করে আসছে একটি কুচক্রী মহল। তারা শুকরের মাংসের জন্য কৃষকদের সহযোগিতা দিচ্ছে। ঘটনার রাতে গুলির আওয়াজও শুনেছি। তবে কে বা কারা গুলি করেছে তা জানাতে পারেনি।

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম জানান, খবর পেয়ে একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মারা যাওয়া হাতির খোঁজখবর নেন। মৃত হাতির আনুমানিক বয়স ৩০ বছর। গুলিবিদ্ধ ও জখমপ্রাপ্ত হয়ে বন্যহাতিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাবার পর হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত হাতিটি মাটিতে ফুঁতে ফেলা হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, গুলিবিদ্ধ ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বন্যহাতিটি মারা গেছে। ক্ষতস্থানে একটি গুলিও পাওয়া গেছে। এছাড়া হাতির শুঁড়ের ডান ও বাম পাশে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের চিহ্ন রয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই আবদুল হালিম জানান, বন্যহাতি মৃত্যুর ঘটনায় চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন বড়হাতিয়া বনবিট কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রেজওয়ানুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এদিকে, বন্যহাতির মৃত্যুর খবর পেয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আ. ন. ম ইয়াছিন নেওয়াজ ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সনের ২৫ নভেম্বর একই স্থানে শুকর মারার পাতা ফাঁদের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে ২টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছিল। তারমধ্যে ১টি বাচ্চা ও অপরটি মা হাতি।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner