Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | নেপালকে হারিয়ে ফুটবলে ফেরা রাঙালো বাংলাদেশ

নেপালকে হারিয়ে ফুটবলে ফেরা রাঙালো বাংলাদেশ

নিউজ ডেক্স : করোনার দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেই জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ ফুটবল দল। সফরকারী নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২ ম্যাচের টুর্নামেন্টে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জেমি ডের দল।শুধু তাই নয়, এই জয় দিয়ে নেপালের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নিলেন জামাল ভূঁইয়ারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে হওয়া দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ফুটবল সিরিজের প্রথমটিতে শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ দল। গত জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমি-ফাইনালে বুরুন্ডির বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর এটাই বাংলাদেশের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।

করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই ম্যাচ দিয়ে দেশের ফুটবল ম্যাচে দেখা গেল দর্শকের উপস্থিতি। যদিও খেলা শুরু হতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা ভুলেই গেলেন দর্শকরা। উৎসবে মেতে উঠতে গেলে কি আর ওসব মনে থাকে?

করোনার দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও এই ম্যাচে দেখা গেল উজ্জীবিত বাংলাদেশ দলকে। জামাল ভূঁইয়ারা যেন আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেন। যার ফলশ্রুতিতে নাবীব নেওয়াজ জীবন দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি হিসেবে নামা মাহবুবুর রহমান সুফিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলার চেষ্টা করে বাংলাদেশ।  ম্যাচের ৮ম মিনিটে বিশ্বজিৎ ঘোষের লম্বা থ্রো-ইন থেকে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। নাবীব নেওয়াজ জীবনের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সাদ উদ্দিন দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বল বাড়ান গোলমুখে। নিখুঁত স্লাইডে বল জালে জড়িয়ে দেন জীবন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই স্ট্রাইকার।

২১ম মিনিটে ফের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ। জীবনের ক্রস নেপালের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে হেড নেন ইব্রাহিম, কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক। ২৩ম মিনিটে বিশ্বজিতে বাড়ানো বলে তপু বর্মণের চেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

খেলা যত এগিয়ে যেতে থাকে, আক্রমণের ধারা বাড়াতে থাকে বাংলাদেশ। ২৭ম মিনিটে পেলাল্টি বক্সের বাইরে থেকে মানিক মোল্লার দূরপাল্লার জোরালো শট গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়। ৩২ম মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রসে জীবন হেড করলে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।  

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। তবে ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে হচ্ছিল না। ৭৬তম মিনিটে ডিফেন্ডার তপু বর্মণের ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন নেপালের গোলরক্ষক।

অবশেষে ৮০তম মিনিটে ফের সাফল্যের দেখা পায় স্বাগতিক দল। সোহেলের বাড়ানো বল ধরে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সে দিকে ছুটে যান বদলি হিসেবে খেলতে নামা স্ট্রাইকার মাহবুবুর রহমান সুফিল। সেখানে গোলরক্ষককে একা পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে দূরের পোস্টে বল জড়িয়ে দেন তিনি।  

দুই গোল হজম করে শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। দুটি ভালো সুযোগও আসে। কিন্তু অভিষিক্ত গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু বাধা হয়ে দাঁড়ান। ফলে নির্বিঘ্নে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।  

নেপালের বিপক্ষে এই জয়টা বাংলাদেশ দলের জন্য দারুণ স্বস্তির। কারণ একে তো করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাঠে ফুটবল অনুপস্থিত। তারওপর এর আগে ২০১৩ ও ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর গত এসএ গেমসে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের টুর্নামেন্টেও ১-০ গোলে জিতে যায় নেপাল। এবার সেই পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হলো জেমি ডের দল।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সিরিজে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে নেপালের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। বাংলানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!