Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাতকানিয়ায় দাওয়াত খেয়ে নব দম্পতিসহ শতাধিক লোকের ডায়রিয়া

সাতকানিয়ায় দাওয়াত খেয়ে নব দম্পতিসহ শতাধিক লোকের ডায়রিয়া

dairrea

নিউজ ডেক্স : সাতকানিয়ায় দাওয়াত (বিয়ের সাত দিন পর) খেয়ে নব দম্পতিসহ শতাধিক অতিথি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের দেউদিঘী ডাঙ্গি’র পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত শনিবার দুপুরে দাওয়াত খেয়ে সন্ধ্যার পর থেকে তাদের পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দেউদিঘী ডাঙ্গি’র পাড়ার বাসিন্দা রমজান আলীর পুত্র মো. ওসমান গনির স্ত্রী সম্প্রতি মারা যান। পরে তিনি গত ২০ আগস্ট উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মধ্যম মাদার্শা জয়নগরের মৃত সৈয়দ হোসেনের মেয়ে হুমাইরা আকতারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। গত শনিবার দুপুরে মো. ওসমান গনির শ্বশুর বাড়ি থেকে প্রায় দেড়শ’ জন লোকের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে নারী–শিশুসহ ৩০–৩৫ জন লোক বেড়াতে আসেন। ওসমানের বাড়িতেও কিছু খাবার তৈরি করা হয়। বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বর ও কনে পক্ষের নারী–পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১শ’ ৩০ জন লোক খাবার খান। খাবার শেষে ওসমানের শ্বশুর বাড়ি থেকে আসা লোকজন তার স্ত্রী হুমাইরাকে সাথে নিয়ে চলে যান।

এদিকে, সন্ধ্যার পর থেকে দাওয়াত খাওয়া লোকজনের মধ্যে পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দাওয়াত খাওয়া লোকদের মধ্যে প্রায় শতাধিক জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। ডায়রিয়ায় নতুন বর মো. ওসমান গনি (৪৫) ও কনে হুমাইরা আকতার (২৫) ছাড়াও তাদের আত্মীয় আম্বিয়া খাতুন (৬০), আজিজুর রহমান (২৫),রূপা আকতার (২৫), কবিতা (৩০), মোস্তাক আহমদ (৪০), মোঃ সোহেল (৮), অভি (৭), সোমা আকতার (১৬), মোঃ সাইমন (১৪),হারুনুর রশিদ (২৮), মোঃ ইলিয়াছ (৪০), মোঃ হোসেন (১৮), জানে আলম (৪৫), আবদুল কাদের (৩৬), মোঃ সেলিম (৩৫), আবদুর রহিম (২৫), আবদুর রাজ্জাক (৫০), নুরু আকতার (৭০), জোবাইদা (১০), রাবেয়া বেগম (৩৫), মোঃ আরিফ (১৩), ফাহিম (১০),মাওলানা মোঃ ইলিয়াছ (৪৩), মোঃ সাকিব (১৮), আফঝল আহমদ (৬০), জোহুরা বেগম (৩৫), খতিজা বেগম (৪০), শাহিদা আকতার(৪০), শাহীন আকতার (৩৪), আসহাব উদ্দিন (৪৫), খতিজা খাতুন (৫৬), চেমন আরা (৩৫), রোজিনা আকতার (৩০), জান্নাতুল আদম (১৩), জোহুরা খাতুন (২৫), খতিজা আকতার (৩৫), মোঃ বাবু (১৪), মিনু আকতার (২২), ইয়াসমিন আকতার (১৫), সালমা বেগম (২২), ফাতেমা বেগম (২৮) ও লায়লা বেগমসহ (৫৮) শতাধিক লোক আক্রান্ত হন। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদেরকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ এবং কেরানীহাটের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বর মো. ওসমান গনি জানান, তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় গত সোমবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। গত শনিবার তার শ্বশুর বাড়ি থেকে প্রায় দেড় শত লোকের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে ৩০–৩৫ জন বেড়াতে আসেন। শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসা খাবারের বাইরে আমার বাড়িতে ডাল ও মাছ রান্না করি। বেলা আড়াইটার দিকে খাবার দেয়া শুরু করি। বিকাল চারটা পর্যন্ত প্রায় ১শ’ ৩০ জনের মতো খাবার খান। আমি নিজেও চারটার দিকে খেয়েছি। খাবার শেষে শ্বশুর বাড়ি থেকে আসা লোকজনের সাথে আমার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর তার বাড়িতে কয়েকজনের পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর তারও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে খবর নিয়ে জানতে পারলাম রাতের মধ্যে প্রায় শতাধিক জনের ডায়রিয়া হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, তার শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোনো একটি খাবারে কেউ শত্রুতা করে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। ফলে এমন অবস্থা হয়েছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রীর বড় বোন খুরশিদা বেগম জানান, বেশির ভাগ খাবার আমরা নিয়েছি। আমার বোনের শ্বশুর বাড়িতও ডালসহ কয়েক ধরনের খাবার তৈরি করেছে। আমি আমাদের নেয়া খাবার ছাড়া অন্য খাবার খায়নি। ফলে আমার ডায়রিয়া হয়নি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বোনের শ্বশুর বাড়িতে যে খাবার তৈরি করেছে সেখানে কোনো একটিতে কিছু মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের নেয়া খাবার খেয়ে ডায়রিয়া হলে আমারও হওয়ার কথা।

এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আক্রান্তদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় দুই জনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাইসুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দাওয়াত খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ৩ জন রোগী শনিবার রাতে এসেছিল। এরমধ্যে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। অপর একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, আমাদের এখানে এ ধরনের ৩ জন রোগী এসেছিল। দাওয়াত খেয়ে বেশ কিছু লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনেছি। তিনি জানান, রান্ন করা খাবার দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। খাবারের মধ্যে ব্যাকটিরিয়া জন্ম নেয়। এছাড়া ওইদন খুব বেশি গরম ছিল। ফলে খাবারের কারনেই ডায়রিয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*