Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সন্ধ্যার পর ফ্লাইওভারে আতঙ্ক

সন্ধ্যার পর ফ্লাইওভারে আতঙ্ক

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : নগরীর পরিবহন সেবায় কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও সূর্য ডুবতে ডুবতে ফ্লাইওভারগুলো হয়ে ওঠে আতঙ্কের স্থান। দিনের আলোয় দ্রুত চলাচল করা গেলেও রাত হলেই ফ্লাইওভারগুলোতে সৃষ্টি হয় ভুতুড়ে পরিবেশ। যানবাহনের আলো ছাড়া কিছু দেখার উপায় নেই। ফ্লাইওভারের বেশিরভাগ ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলে না। আর এই সুযোগে ঘটে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। হরহামেশা ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা দখল করে মাদকের আখড়া, গাড়ির স্ট্যান্ড, অবৈধ পার্কিং গড়ে তুলেছে দুর্বৃত্তরা।

ফ্লাইওভারকেন্দ্রিক অপরাধ নির্মূলে সম্প্রতি পুলিশের মোবাইল টিম চালু করেছে। পাঁচলাইশ, খুলশী ও চান্দগাঁও থানা এলাকার ফ্লাইওভারে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করছে পুলিশের মোটরসাইকেল প্যাট্রোল টিম। তিনটি মোটরসাইকেলে ৬ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নিজেদের ওয়াকিটকির মাধ্যমে থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্যাট্রোল টিমের সাথে লুকোচুরি খেলে চলছে ফ্লাইওভারে নানা অপরাধ। নগরীতে ফ্লাইওভার রয়েছে চারটি। এর মধ্যে মুরাদপুর থেকে ইস্পাহানির মোড়ের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার এবং স্টেশন রোড থেকে কদমতলী ফ্লাইওভারে ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বেশি।

ভুক্তভোগীরা ও নগর সংশ্লিষ্টরা বলেন, ফ্লাইওভারগুলো ঘিরে সক্রিয় রয়েছে অনেকগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। ফ্লাইওভারের উপরে ছিনতাই, খুন, বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা এবং এর বাইরে নিচের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মাদক ও অপরাধের আখড়া। অপরাধী ও ছিনতাইকারীদের ভয়ে রাতে ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল আরোহীরা যখন-তখন বিপদে পড়ছেন। ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীরা অন্ধকারে ফ্লাইওভারের উপর গাড়ি পার্কিং করে ছিনতাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে। ভুক্তভোগীরা জানান, অন্য এলাকা থেকে ফ্লাইওভারে নজরদারি কম থাকায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য নিরাপদ জোন হিসেবে বেছে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ফ্লাইওভারগুলোতে সরেজমিন ঘুরে ও আশেপাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে রাত যত গভীর হয়, ফ্লাইওভারগুলো তত ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তবে অনেক সময় ফ্লাইওভারের উপর রাতে বাতি জ্বলে না। আর এই সুযোগে অপরাধী ও যৌনকর্মীরা ফ্লাইওভার দখল করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ছিনতাই চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফ্লাইওভারের দুই পাশে থাকা রেলিংয়ে টান টান করে বেঁধে রাখে চোখে দেখা যায় না এমন নাইলনের সুতা। পরে পথচারীরা মোটরসাইকেলসহ উল্টে পড়তেই আশপাশ থেকে ছুটে আসে ওত পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা। এরপর তারা দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। আবার অনেক অপরাধী সাধারণ দর্শনার্থীর বেশে ফ্লাইওভারের উপরে উঠে শিকারের আশায় অপেক্ষা করে। তার সিগন্যাল পাওয়ার পর সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এসে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার বা সিএনজি টেক্সি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। অন্যদিকে বিভিন্ন ছিনতাইকারী চক্র তাদের কাজের সুবিধার জন্য বিরূপ আবহাওয়াকে বেছে নেয়। ঝড়, বৃষ্টি কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে সুযোগ খোঁজে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চোর চক্র রাতের আঁধারে অকেজো করে ফেলে এসব বাতি। সড়কবাতি সচল রাখতে সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক লাইনের তার ও লোহার পাত এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে বিক্রি করে। ফ্লাইওভারের ল্যাম্পপোস্টগুলোতে রাতে লাইট জ্বলে না। নেই সিসি ক্যামেরা। প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় এবং ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থার সঠিক নজরদারি না থাকায় চক্রের সদস্যরা এমন কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। অথচ যানজট নিয়ন্ত্রণে এসব ফ্লাইওভার বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া জানান, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার, ফ্লাইওভারের নিচে ষোলশহর স্টেশন ও আশেপাশে ভাসমান অবস্থায় থেকে গাম খেয়ে নেশা করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা আমরা প্যাট্রোল টিমের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনেকাংশে কাটাতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া থানা পুলিশের দুজন করে চারজনের দুটি মোটর সাইকেল টিমও ফ্লাইওভারে বিকাল চারটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। স্পেশাল টিম নিয়ে থানার ওসি ও পরিদর্শকও (তদন্ত) দিনে চার-পাঁচবার ফ্লাইওভার পরিদর্শন করছেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার জানান, রাতের আঁধারে নগরীর বিভিন্ন ফ্লাইওভারে অবস্থান নেওয়া এবং সুযোগ বুঝে ছিনতাই করার প্রবণতা এখন নেই বললেই চলে।

খুলশী থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান জানান, ফ্লাইওভারকেন্দ্রিক যে অপরাধগুলো সংঘটিত হতো তা অনেক কমেছে। আমাদের প্যাট্রোল টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে। তাদের প্রযোজনে থানার মোবাইল টিমও যাচ্ছে। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!