ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় হাইব্রিড মরিচ চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

লোহাগাড়ায় হাইব্রিড মরিচ চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

193

নিউজ ডেক্স : লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ফাড়ার বিলে হাইব্রিড মরিচ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। পৃষ্টপোষকতার অভাবে এ সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়ছে বলে মরিচ চাষী জামাল উদ্দিন (৩৬) জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথভাবে বাজার দাম নিশ্চিত হলে চাষীরা লাভের মুখ দেখবে। তিনি এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, পেশায় তিনি একজন ঘাট মাঝি। বর্ষাকালে টংকাবতী খালে নৌকা নিয়ে যাত্রী পারাপার করেন। শুকনো মৌসুমে এ স্থানে তজ্জার ব্রীজ বসিয়ে টোল আদায় করেন। এ সময় তিনি সন্নিহিত আমিরাবাদ ফাড়ার বিলে চাষাবাদ করেন। সাতকানিয়ার বারদোনা গ্রামের অধিবাসী তিনি। এ বিলে অনধিক ৪৫০ কৃষক রবিশস্য চাষাবাদ করেন। আলু চাষের জন্য এ বিলটির সুনাম রয়েছে। মজার ব্যাপার লোহাগাড়ার আমিরাবাদে হাতেগোনা কৃষকের জমি রয়েছে এ বিলে। তারাও আলু চাষে অন্যকে জমি লাগিয়ত দিয়ে থাকেন। লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশন থেকে টংকাবতীর মুখ পর্যন্ত যে রাস্তা গিয়েছে তারই শেষ সীমানা রুকিয়ার বড় বাড়ি থেকে উত্তর দিকে টংকাবতীর পশ্চিমে ডলু তীর ও পূর্বে টংকাবতী রাস্তা অবস্থিত। অত্যন্ত উর্বর ও আলু চাষের জন্য মাটির বুনট উপযোগী। জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, টংকাবতী খালে মেশিনের সাহায্যে সেচ সুবিধা পাওয়া যায় বলে তিনি এ মৌসুমে আলু চাষের পাশাপাশি হাইব্রিড কাঁচা মরিচ চাষে মনস্থ করেন। ১০ শতক জমি হাজার টাকা লাগিয়ত নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন এবং সর্বমোট ২২ হাজার টাকা তার খরচ হয়। মরিচ লাগানোর স্বল্প সময়ে গাছ ফুলে–ফলে সুশোভিত হয়। তিনি লাভের স্বপ্নে বিভোর হয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা করেন। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পোকার আক্রমণ ও অন্যান্য কারণে মরিচ ফলনে ভাটা পড়ে। লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিসে তিনি যোগাযোগ করেন এবং আবুল কাশেম নামে জনৈক কৃষি কর্মকর্তা রোগাক্রান্ত গাছ তুলে নিয়ে আর ফিরে আসেননি। সহযোগিতা তো দূরের কথা। জামাল উদ্দিন দেশীয় কায়দায় লোকজনের পরামর্শে গাছের পরিচর্যা করেন এবং এ যাবত ৫ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছেন। মরিচের দাম মাঠ পর্যায়ে খুবই কম। পাইকারীভাবে ১ কেজি মরিচ তিনি বিক্রি করেন ১৫ টাকায়। ফলে মূলধন ও লাভের সম্ভাবনা কম। তিনি তবুও দমে থাকেননি। মরিচ ক্ষেতের পাশে আরো ১২ শতক জায়গা লাগিয়ত নিয়েছেন। যেখানে ইতোপূর্বে আলু চাষ করা হয়েছিল। সেখানে ক্ষিরা লাগাচ্ছেন। তার আশা সামনে রমজান মাসে ক্ষিরার চাহিদা থাকে বেশী। সহযোগী ফসল হিসেবে ক্ষিরা চাষাবাদ তার মরিচ চাষের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। বিলে সরেজমিন পরিদর্শনে এ প্রতিনিধি দেখতে পান হাইব্রিড মরিচের পাশাপাশি দেশীয় মরিচও অনেকে চাষাবাদ করেছেন। অধিকাংশ কৃষক আলু উত্তোলনের পর ক্ষিরা চাষে ব্রতি হয়েছেন। তারা বলছেন, আলু চাষে সাথি ফসল হিসেবে পাট সীমের চাষাবাদ করা হয়েছিল। বর্তমানে ফেলন ছিটানো হয়েছে। হাইব্রিডে মরিচের পাশাপাশি ফেলন চাষাবাদেরও সম্ভাবনার কথা বলছেন চাষিরা। এ ব্যাপারে পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসবেন সংশিষ্টরা। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন- মোঃ জামাল উদ্দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*