Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় মর্তুজার পেট কেটে জীবন বিপন্ন করে দিলেন ডা. শিল্পী দাশ

লোহাগাড়ায় মর্তুজার পেট কেটে জীবন বিপন্ন করে দিলেন ডা. শিল্পী দাশ

image_printপ্রিন্ট করুন

593

নিউজ ডেক্স : ‘তোমার পেটে বাচ্চা হয়েছে, আজই অপারেশন করতে হবে, নয়তো আজই তোমার মৃত্যু হতে পারে শহরে যাবার সময়ও পাবে না’। আড়াই মাস আগে প্রচ- পেট ব্যথার কারণে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের বেসরকারি হাসপাতাল লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতালের মালিক ও চিকিৎসক ডা. শিল্পী দাশের কাছে যান মর্তুজা বেগম (২২)। মর্তুজার মুখ থেকে পেট ব্যথার কথা শুনেই কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই কথাগুলো বলেছিলেন ডাক্তার। প্রানের ভয়ে মর্তুজা অপারেশন করান সাথে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষাও। দীর্ঘ আড়াই মাসে মর্তুজার পেট ব্যথাতো কমেইনি উল্টো তার জীবনটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অপারেশন, পেট ব্যথার কারণে সে বাড়ির কোনো কাজ করতে না পারায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তার ৪ বছরের সন্তানকে রেখে দিয়ে তাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে সে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের বিল্লা পাড়ায় তার নিজ বাড়িতে মায়ের কাছে রয়েছে।

মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রাতদিন আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা করে যাচ্ছে অসহায় মর্তুজা। ‘হে আল্লাহ আমাকে মৃত্যু দাও’ এই কথা বলে বলে প্রতিদিন চিৎকার করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

প্রতিবেশী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, মর্তুজার বৃদ্ধ বাবা ও মা ছাড়া তার আর কেউ নেই। স্বামীও তেমন খবর নিতে চাচ্ছে না। এলাকাবাসী বিগত আড়াইমাসে প্রায় লাখ টাকা জোগাড় করে তার চিকিৎসা চালিয়েছে কিন্তু মেয়েটা কিছুতেই সুস্থ হচ্ছে না। অপারেশনকারী ডাক্তারের কাছেও কয়েকবার নিয়ে যাওয়া হয় সে বলছে চট্টগ্রামে নিয়ে বড় ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু মর্তুজার বৃদ্ধ বাবা ও মা সেই খরচ জোগাড় করতে পারছে না। বাবা পুরোপুরি অক্ষম। মা মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা আয় করছে তাই দিয়ে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছে।

গতকাল এই প্রতিবেদক মর্তুজার বাড়িতে গেলে মর্তুজা বলেন, ডাক্তারকে আমি বার বার বলেছিলাম আমার পেটে কোনো বাচ্চা নেই। তাছাড়া আমার নিয়মিত পিরিয়ড চলছিল এমনকি ডাক্তারের কাছে যেদিন যাই সেদিনও পিরিয়ডের ৩ দিন ছিল। কিন্তু ডাক্তার আমার কোনো কথাই শুনতে চাননি। উল্টো আমাকে মৃত্যু হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমি ওই ডাক্তারের কথামতো শহরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একটি পরীক্ষা দিতে যাই রিপোর্ট নিয়ে আসার সময় এক মহিলা নার্স আরেক মহিলা নার্সকে আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বলে, দেখ ডাক্তার মেয়েটাকে অহেতুক অপারেশন করে তার জীবনটা শেষ করে দিল।

এ ব্যাপারে ডা. শিল্পী দাশ বলেন, মেয়েটি একটপিক প্রেগন্যান্সি অবস্থায় ছিল। এতে মেয়েটি রক্তক্ষরণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অপারেশনের পরেও পেটের ব্যথা কমেনি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেটের ব্যথা তার আগে থেকেই ছিল এছাড়াও তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ রয়েছে। তাই পেটের ব্যথা কমেনি। তার রোগের কথা কীভাবে জানলেন জিজ্ঞেস করা হলে বলেন, মেয়েটির ননদ তাকে জানিয়েছে বলে তিনি জানান।

সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডা. খন্দকার জিয়াউর রহমান ও ডা. মোহাম্মদ লোকমান জানান, কোনো মহিলার পিরিয়ড নিয়মিত হয়ে থাকলে তার পেটে বাচ্চা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকতে পারে না।

মর্তুজার মা মরিয়ম খাতুন বলেন, আমার মেয়ের কোনো ধরনের পেটের ব্যথা বা অন্যকোনো রোগ ছিল না। সে সবসময়ই সুস্থ ছিল। কিন্তু আড়াই মাস আগে ডাক্তার অপারেশন করার পর থেকে আমার মেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছে না। সারাদিন পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করে। -দৈনিক ডেসটিনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!