Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় অব্যাহত দখল দূষণে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়

লোহাগাড়ায় অব্যাহত দখল দূষণে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়

423

এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়ার প্রভাবশালীরা বিভিন্নভাবে দখল দূষণ অব্যাহত রাখায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে বলে এলাকার পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলছেন, সমস্যাটি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।

জানা যায়, প্রভাবশালীরা বিভিন্ন পাহাড়, খাল, নদ-নদী, রাস্তা, হাট-বাজারের খাস জমিসহ বিভিন্নভাবে দখল করে রয়েছেন। তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। কোন কসাইখানা না থাকায় যেখানে সেখানে পশু জবাই করেন। নির্গত বর্জ্য ও নাড়িভুড়ি উৎকট গন্ধে পরিবেশ ভারী হয়। যারা খবরদারী নজরদারী করবেন তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব আলম বলেছেন, তিনি লোহাগাড়ায় দায়িত্বকালীন সময়ে কেউ জোরপূর্বক পাহাড় কিংবা খাস জমি দখল অথবা নদী-নালা দখল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না। কৃষি জমির টপসয়েল ইটভাটার কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তার কাছে অভিযোগ এসেছে। সম্প্রতি কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন ও পাহাড় কাটার অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমান্য আদালত পরিচালনা করেন তিনি। কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। লোহাগাড়ার আয়তন ২৫৮.৮৭ বর্গ কিলোমিটার, লোক সংখ্যা ২৭৯৯১৩ জন। ৯টি ইউনিয়ন চরম্বা, পুটিবিলা, চুনতি, বড়হাতিয়া পাহাড়বেষ্টিত এলাকা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে চলেছেন। কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কিংবা হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন।

অপরদিকে, উপজেলার ডলু, হাতিয়া, টংকাবতী, হাঙ্গর, পাগলী, থমথমিয়া, কৃষ্ণখাল, মগকাটা খাল, মানিক্যা খালসহ বহু খাল- জোরা রয়েছে। ডলুখাল কম্পনিয়া পাহাড় থেকে শুরু হয়ে শঙ্খ নদীতে গিয়ে মিশেছে। এ খালের বহু শাখা ও উপ-শাখা রয়েছে। প্রত্যেকটি খালই প্রভাবশালীরা পাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ময়লা আবর্জনা খালে ফেলা হয়। লোহাগাড়া উপজেলা সদরের বটতলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় বোয়াইল্যা খালের অবস্থান বটতলী বাজারের সামান্য পূর্বদিকে থাকলেই খালের করুণ দশা দৃশ্যমান হয়। খালটি বর্তমানে জোরা সদৃশ্য অবস্থায় রয়েছে। এ খালে নির্বিচারে মলমূত্র ত্যাগ করেন অনেকে। বোয়ালিয়া খাল সংলগ্ন ব্রীজের স্থানে বিভিন্ন ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হয়। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও লোহাগাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা মানা হচ্ছে না। প্রকাশ্যে বিভিন্ন খাল-নালায় পলিথিনের ব্যাগ ও সামগ্রী ফেলার ফলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন। আরকান সড়কের বিভিন্নস্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ রয়েছে। আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন স্থানে আবর্জনার উৎকট গন্ধে পথচারীরা চলাচল করতে দূর্ভোগ পোহান। পোহাচ্ছেন।

এ প্রতিনিধি বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখতে পান আধুনগর বাজারের পাল পাড়া সড়কে মানিক্যা ছড়ায় প্রভাবশালীরা স্থাপনা বানিয়ে ব্যবসা করছেন। আধুনগর- বড়হাতিয়া সীমানাবর্তী মগকাটা খালে বেপারী পাড়ায় অবৈধ দখল অব্যাহত রয়েছে। পুটিবিলা, আধুনগর, গারাঙ্গিয়া, মছদিয়াসহ বিভিন্নস্থানে ডলুতীরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীরা পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে পাহাড়ের মাটিতে সন্নিহিত ধানী জমিতে বালির আস্তরণ পড়ছে। দূষণ ও দখল অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে মারাত্মকভাবে ফসলী জমি ধ্বংস হবে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন নদীর পাড় দখলমুক্ত করা সময়ের অন্যতম দাবী।

সূত্র : সাংবাদিক মোঃ জামাল উদ্দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*