ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে অবৈধ বসতি

লোহাগাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে অবৈধ বসতি

aa8bdbdee00946db3b9fa979318890ab-58b083e337899

প্রথম আলো : লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন ডলু বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। বনাঞ্চলের ভূমি দখল করে বসবাস করছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবার। বন বিভাগ সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

এদিকে বনাঞ্চলের পাহাড় কেটে চলছে মাটি বিক্রি। এ ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ডলু বন বিট সূত্র জানায়, বিটের আওতাধীন চান্দা, নারিশ্চা, ফারেঙ্গা ও সরইয়া মৌজায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি আছে। সরইয়া মৌজার রাজা মিয়া, ইলিয়াছ, জহির উদ্দিন, আবদুর রহমান; নারিশ্চা মৌজায় আহমদ কবির, নাজিম উদ্দিন, মো. মামুন, মোনায়েম, লুৎফর রহমান, জিল্লুর রহমান, আবদুল আলম, কবির আহমদ; চান্দা মৌজায় নুরুল ইসলাম, বদিউর রহমান, মো. মুজিব, মো. হাসান; ফারাঙ্গা মৌজায় সালেহ আহমদ, আবদুর রহমান, মো. পেটান, মো. জকরিয়া, ইসহাক মিয়াসহ অনেকে বনভূমি দখল করে রেখেছেন।

নারিশ্চা মৌজায় ১০ একর ভূমি দখল রাখার কথা স্বীকার করে আহমদ কবির বলেন, ‘জায়গাগুলো খালি থাকায় আমরা ১৫ বছর আগে তা দখল করে গাছ লাগিয়েছি। ওই সময় তৎকালীন বিট কর্মকর্তাকে কিছু টাকা দিয়েছি। এ ছাড়া গাছ লাগাতে ও গাছ কাটতে টাকা দিতে হয় বন বিভাগকে।’
সংরক্ষিত বনে বসবাসরত শামসুন্নাহার বলেন, ১০-১২ বছর ধরে এক দখলদারের কাছ থেকে তাঁর স্বামী জায়গাটি কিনেছেন। তবে কোনো দলিলপত্র নেই।

ডলু বিট কর্মকর্তা শিবু দাশ বলেন, ডলু বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার একর বনভূমি দখলদারেরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এ ছাড়া বনাঞ্চলের ভূমি দখল করে বসবাস করছে দেড় হাজারের বেশি পরিবার।

শিবু দাশ বলেন, এই বিটে বর্তমানে জনবল-সংকট আছে। আটজন প্রহরীর মধ্যে আছেন মাত্র তিনজন। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদার ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারেরা বনের গাছ পাচার করছে। এ ছাড়া ডলু বিটের আওতাধীন নারিশ্চা ও সাতগড় পাটিয়াল পাড়ায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব পাহাড়ি বনাঞ্চলের বড় অংশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল মান্নান সিকদার বলেন, প্রতিনিয়ত বনের জায়গা বেদখল ও কাঠ পাচার হচ্ছে।

চুনতি অভয়ারণ্য সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইসমাইল মানিক বলেন, পাহাড়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট গাছ ও বনভূমি উজাড় হওয়ার কারণে বন্য প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

পদুয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মতলবুর রহমান বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আর কাঠ পাচারকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারেরা কাউকে টাকা দিয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। ডলু এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*