Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারব: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারব: প্রধানমন্ত্রী

1507373618
নিউজ ডেক্স : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনও তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ভূমিকার কারণেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট বিশ্ববাসীর মনোযোগ পেয়েছে, বিশ্বব্যাপী নানা আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক তৎপরতায় আন্তর্জাতিক চাপে আলোচনার টেবিলে বসেবে মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে এর সমাধান করতে পারব ইনশাল্লাহ।
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ২০ দিনের সফর শেষে দেশে ফেরার পর শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালের লাউঞ্জে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানের জন্য পাঁচ প্রস্তাব তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর সাহসী সিদ্ধান্ত এবং এই সঙ্কটের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য দেশে ফিরে বিপুল সংবর্ধনায় সিক্ত হন শেখ হাসিনা।
বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, ক্রীড়াবিদরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে ও পথে পথে দলের অগুনতি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ ফুলের তোড়া, বিভিন্ন রং বেরংয়ের ব্যানার, ফ্যস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা জানান।
রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার জন্য বৃটিশ পত্র-পত্রিকা তাঁকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ অর্থ্যাৎ ‘মানবতার মা’ আখ্যায়িত করেছে। সংযুক্ত আরব আমীরাতের (ইউএই) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক (খালিজ টাইমস) রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উচ্ছসিত প্রসংসা করে তাঁকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসাবে অভিহিত করেছে। এছাড়াও শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের রক্ষা ও তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত নিতে জাতিসংঘে যে ৫ দফা প্রস্তব পেশ করেছেন তা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা পায়। এসব কারণে আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় কর্তব্য হিসেবে মিয়ানমারের এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শরণার্থী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করায় বিষয়ে সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রয়োজন এক বেলা খাব, আরেক বেলা তাদের ভাগ করে দেব।
প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বোন শেখ রেহানার ভূমিকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, খোঁজ নিয়ে দেখলাম যে অত্যাচার হয়েছে, মেয়েদের ওপর অত্যাচার, তাদেরকে আশ্রয় দিতে হল। পৃথিবীকে বহু এরকম ঘটনা ঘটে। অনেকে দরজা বন্ধ করে রাখে।
শেখ রেহানা বলল, ১৬ কোটি লোককে খাওয়াচ্ছো, আর ৫-৭ লাখ লোককে খাওয়াতে পারবে না? আমি সেখানে গেলাম, সবাইকে ডেকে বললাম, আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ মানুষগুলোকে আশ্রয় দেওয়া ও খাওয়াতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাদের আশ্রয় না দিলে রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারত না। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া মানুষের কর্তব্য। বাংলাদেশের মানুষ মানবতা দেখিয়েছে। আমরা কারও সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করিনি। তবে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।
প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বাংলাদেশের মানুষের রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশ্বাস আছে বলেই আমরা এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আগে তাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে পুনর্বাসনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তারা যেভাবে আছে, সেভাবে থাকতে পারে না। আমি যাওয়ার আগেই নেভিকে টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম। ভাসান চরে দুটি সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, নোয়াখালীর লোকজন বলে ঠেঙ্গার চর, আর চিটাগাংয়ে বলে ভাসান চর। যেহেতু এরা ভাসমান, তাই আমি বললাম, ভাসান চর নামটাই থাকুক।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির সফলতার কথা উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গা) যেন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ঘোষণা এবং আলোচনার জন্য অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে অগ্রগতি মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের একজন এসেছে। এটা একটা বিশেষ দিক। রোহিঙ্গা সঙ্কটের মধ্যে মিয়ানমারের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ২৫ অগাস্টের পর বেশ কয়েকদফা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, সীমান্তে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায় ওই দেশের বাহিনী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখালো যে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধেই যাবে। আমাদের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশসহ সকলকে সতর্ক করলাম, যেন কোনোমতেই কোনো রকম উসকানির কাছে তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দিই। মূল পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে ওই সময় তারা নানা ভাবে উসকানি দিয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পেরে দুর্নীতির কথা বলে যে অপমান করা হয়েছে, তার জবাব দিতে পেরেছি। বিশ্বব্যাংক আগে অপপ্রচার করেছে, কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখন তাঁদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের তদন্ত দলের প্রধান ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি বেরোচ্ছে। সত্যের জয় তাৎক্ষণিক হয় না। মিথ্যার জয় তাৎক্ষণিক। একপর্যায়ে গিয়ে সত্যের জয় হয়। আমাদের জয় হয়েছে। বাংলাদেশকে হেয় করতে চেয়েছিল। পারেনি। দুর্নীতির কথা বলে ওই সময় বিশ্বব্যাংকের তদন্তের নামে মানসিক অত্যাচার করেছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল দুর্নীতি হয়নি।
শরীরে অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গলবাডারে অপারেশন হয়েছে। আমার বয়স ৭১ বছর। চিকিৎসক কয়েক সপ্তাহের জন্য সাবধান থাকতে বলেছেন। চলাফেরার ক্ষেত্রেও ছয় মাস সাবধানে থাকতে বলেছেন। সুস্থ হয়ে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মার মতো খরস্রোতা নদীতে সুপারস্ট্রাকচার করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। অনেকেই সন্দিহান ছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা করেছি। ওবায়দুল কাদের স্প্যান বসানোর উদ্বোধনে দেরি করতে চেয়েছিল। আমি বলেছি- না। এটা নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। অনেক মানুষকে অপমানিত হতে হয়েছিল। এক সেকেন্ডও দেরি করবো না। আমেরিকান সময় ৩টার দিকে ম্যাসেজ পেলাম সুপারস্ট্রাকচার বসেছে। আমি ছবি চাইলাম। ওই ছবি দেখে আমরা দুইবোন কেঁদেছি। অনেক অপমানের জবাব দিতে পারলাম। তিনি আরও বলেন, মানুষের বিশ্বাস, আস্থা অর্জনের চেয়ে রাজনীতিকের জীবনে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হয় না।
পথে পথে জনস্রোত
বিমানবন্দর থেকে গণভবন। সর্বত্রই এক অন্যরকম পরিবেশ। দীর্ঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ যেন জনারণ্য। উৎসবের আমেজে চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। জনতার ঢলে রাজপথ যেন জনসমুদ্র। আর এ দীর্ঘ পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে পুষ্পবৃষ্টি ছিটিয়ে, বাদ্য-বাজনার তালে স্লোগানে স্লোগানে লাখো মানুষ বরণ করে নিয়েছেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে। বিশেষ করে জাতীয় সামরিক জাদুধরের সামনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিসের নেতৃত্বে ১৪ দলের বিপুল সংখ্যক এমপি, বিএমএ ও স্বাচিপের নেতৃবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আসলামুল হক আসলাম ও কাজী ফরিদুল হক হ্যাপির নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার পর শনিবার এভাবেই লাখো মানুষের পুষ্পবৃষ্টি আর হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় সিক্ত হন শেখ হাসিনা। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিপন্ন মানবতার বাতিঘর’ অভিহিত করেন। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে প্রথমে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর ফুল দেওয়া হয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে। বিশিষ্টজনদের পক্ষ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুণ-অর রশীদ ও বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান ফুল দেন প্রধানমন্ত্রীকে। ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সঙ্গে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেন বিসিবি সভাপতি  নাজমুল হাসান। রামেন্দু মজুমদারের নেতৃত্বে সংস্কৃতিকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর মধ্যে ছিলেন আতাউর রহমান, গোলাম কুদ্দুস, সারা যাকের প্রমুখ। সাহিত্যিক রাহাত খান, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাও এসময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আবেদ খান প্রমুখ। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীকে।
সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে বহনকারী গাড়ি বহরটি গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়ানো হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। রাস্তার দুইপাশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বাদ্য ও মাইকে গান বাজিয়ে, স্লোগান দিয়ে শেক হাসিনাকে অভিবাদন জানান।
শেখ হাসিনা ও পুরো রাস্তায় হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এসময় মাইকে দেশাÍবোধক গান বাজছিল। পথে পথে সংবর্ধনা নিতে নিতে সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে প্রবেশ করেন।
এই পুরোটা পথে আওয়ামী লীগের হাজার-হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। হাতে প্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে ছিলেন সড়কের দুই ধারে। কেউ কেউ গানে গানেও শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনাকে। কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেই এই সংবর্ধনা দেওয়ার আশ্বাস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন। শৃঙ্খলা বজায় থাকায় নগরবাসীর কোনো দুর্ভোগও ছিল না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও মানসিক দৃঢ়তার কারণেই কেবল পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই এই নির্মাণকাজ এতো দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবই ছিল, কেবল ছিলেন না এই প্রকল্পের (পদ্মা সেতু প্রকল্প) রূপকার (শেখ হাসিনা)। আমি বারবার বলেছিলাম সাতদিন পিছিয়ে দিই। তখন তিনি বলেছেন, ‘গভীর কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। আমার জন্য পদ্মা সেতুর কাজ এক মিনিটও বিলম্বিত হবে না’। সেটাই আমদের প্রেরণা।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মাসেতুতে স্প্যান বসানোর কাজের উদ্বোধন করা হয়। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্প্যান বসানোর উদ্বোধন করেন।  -ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*