Home | উন্মুক্ত পাতা | ভালো বীজ ছাড়া ভালো ফল আশা করা যায় না

ভালো বীজ ছাড়া ভালো ফল আশা করা যায় না

558

ওমর ফারুক : সম্ভবত বাংলাদেশের জনগণের সবচেয়ে বেশি চাওয়া রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে। সবাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে চায়। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদে ভালো ফলাফল চায়, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যথাযথভাবে তাদের দাওয়াত চায়, নিয়ন্ত্রনকারী অফিস হিসেবে উপজেলা শিক্ষা অফিস বছর শেষে ভালো ফলাফল চায়, উপজেলা নির্বাচন অফিস ভোটার তালিকা প্রনয়ণ কিংবা ভোটার তালিকা হালনাগাদে সহযোগিতা চায়, উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস টিকাদান, কৃমির ঔষধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে জলাতঙ্ক দিবস পালন পর্যন্ত শিক্ষকদের সরব অংশগ্রহণ চায় আর হাইস্কুল- কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভালো মানের শিক্ষার্থী চায়।

অন্য সবার মতো আমিও আমার আওতাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন চাই, মিড ডে মিল চলমান দেখতে চাই, সকল শিক্ষার্থীর রিডিং স্কিল উন্নত দেখতে চাই, শিক্ষার্থীদের হাতের লেখা সুন্দর দেখতে চাই, জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন করা চাই, বিদ্যালয় নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন চাই, যথাসময়ে শিক্ষকদের আগমন-প্রস্থান চাই, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি চাই, ঝরে পড়া শুন্যের কোটায় চাই, বছর শেষে ভালো ফলাফল এবং প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন চাই।

কিন্তু শিক্ষকেরা যখন গ্রেড পরিবর্তন চায়, তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির কথা বলতে চায় তখন অন্য সবার মতো আমিও চুপ হয়ে যাই। নয়ছয় বুঝিয়ে কোন রকম দায় সারতে চাই।

ভালো বীজ ছাড়া যেমন ভালো ফল আশা করা যায় না তেমনি মানসম্মত শিক্ষক ছাড়াও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা আশা করা যায় না। এই সিম্পল কথাটা আমরা সবাই বুঝলেও পারতপক্ষে মানতে চাই না। গাল ফুলিয়ে বলি শিক্ষকেরা পড়াতে পারে না কিন্তু পড়াতে পারা শিক্ষকদের ধরে রাখতে পারি না। মাঠে কাজ করার সুবাদে শিক্ষকদের প্রতিটি আনন্দ-বেদনার কাব্য জানি। এক চেয়ারেই তাদের পুরো একজীবন কাটিয়ে দেওয়ার ইতিহাসও জানা আছে। নদীতে চর পড়ার মতো প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে মেধাবী এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকটার আগ্রহেও যে একদিন হতাশার চর পড়ে সেখান থেকে তাদের যে জাগাতে পারি না সে কথা ভুলেও স্বীকার করি না।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ড্রপআউট কমাতে আমরা যে পরিমাণ তৎপর থাকি তার সিকি পরিমাণ তৎপর শিক্ষকদের ড্রপআউট কমাতে হলে বহু আগেই সবার জন্য শিক্ষার মতো বাংলাদেশে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়ে যেতো।

পৃথিবীর সবদেশে শিক্ষকদের বেতন হয় পিরামিডীয় নিয়মে। পিরামিডের নিচের ভিত্তি বেশি টেকসই এর মতো বেশি বেতন দেওয়া হয় প্রাথমিকে। কিন্তু বাংলাদেশে বেতন হয় এন্টি পিরামিডে।

ডেল কার্নেগী বলেছেন, রিকগনিশন ইজ দ্যা বেস্ট মোটিভেটর। রিকগনিশন দিলে শিক্ষকসমাজ যে কি পরিমাণ কাজ করে, পাঠদানে কি পরিমাণ আন্তরিক হয় তা মাঠ পর্যায়ে গতবছর মিড ডে মিল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বুঝেছি। শিক্ষকেরা তাদের দাবিকৃত মর্যাদা পেলে তারা যে বহুগুণে জাতিকে ফিরিয়ে দিবে প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে তা হলফ করে বলতে পারি।

biman-ad

লেখক : সহকারী শিক্ষা অফিসার, লোহাগাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!