ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দুই লাখ রোহিঙ্গা বিদেশে

বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দুই লাখ রোহিঙ্গা বিদেশে

E-pass-bg2018020319284120180203193213

নিউজ ডেক্স : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তত সোয়া কোটি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো অর্থে গতিশীল হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা। বিদেশে বাংলাদেশিদের সুনাম যেমন রয়েছে তেমনি কিছুটা দুর্নামেরও ভাগিদার হচ্ছে বাংলাদেশ। আর এই দুর্নামের একটি বড় কারণ হচ্ছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে এ পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বিদেশে গেছেন। সেখানে নানা অপরাধে জড়িয়ে তারা বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওয়ার্ল্ড সামিট সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি । রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের এ দেশে এনে জাতীয় পরিচয়পত্র কে দিয়েছে? জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে তারা পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে যাচ্ছে। এ সুযোগ কে করে দিয়েছে? গ্রাউন্ড লেভেলে এটা আমরাই করে দিয়েছি। প্রবণতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এটা চলতে দেওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে কাজের পরিবেশ নষ্ট করছে। সেখানে তারা নানা ধরনের আকাম–কুকামে জড়িয়ে পড়ছে। বিদেশে রোহিঙ্গারা আমাদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা রোধ করতে হবে।’ তবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়া প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা রয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনভাবে এর দায় এড়াতে পারে না।

সামিটে প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (প্রবাসী) পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে দেশে বিনিয়োগ করুন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করছে বর্তমান সরকার। দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ সৃষ্টিতে ব্যাপক কাজ হচ্ছে।’ অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এম এস শেকিল চৌধুরী বক্তব্য দেন। বিদেশে দেশের সুনাম ধরে রাখার তাগিদ জানিয়ে, প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আটটি দাবি তুলে ধরা হয় সামিটে। যার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরো সক্রিয় ও বৈধ উপায়ে রেমিটেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা, দেশে বিনিয়োগকারীদের ট্যাক্সভীতি দূর করা। দেশের বাইরে থাকা মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হবে বলে সামিটে মত দেন বক্তারা।

হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘প্রবাসীদের আয় দিয়ে আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির চাকা সচল হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিকে দিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় প্রবাসীদের গুরুত্ব দিতে হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি মহিউদ্দিন ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে ইন্ড্রাস্ট্রি গড়ে উঠছে। এ অবস্থায় আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা বিদেশে ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার রডের কারখানায় লোক পাঠাব নাকি তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের কারখানায় নিয়োজিত করব। আর যদি বিদেশে পাঠাতেই হয় তাহলে অদক্ষ শ্রমিক না পাঠিয়ে অবশ্যই তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাতে হবে। যাতে দেশের অর্থনীতিতে তারা ভূমিকা রাখতে পারে।’

ওদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর অবসরপ্রাপ্ত এমদাদুল ইসলাম বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায় এড়াতে পারেনা’। আর তাছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে মিয়ানমার। তিনি বলেন, আমাদের দেশের যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, যে পাসপোর্ট অধিদপ্তর আছে তাদেরই কিছু দায়–দায়িত্ব আছে। এত লোক যখন বাইরে যাচ্ছে, এদের সঠিক ভেরিফিকেশন হয়নি। তিনি আরো বলেন, আপনি যখন পাসপোর্ট দিয়েছেন, আপনি স্বীকার করে নিয়েছেন তারা বাংলাদেশের অধিবাসী। এটা কিন্তু মিয়ানমারের জন্য অজুহাত হতে পারে। তারা বলতে পারে যে, বাংলাদেশ তাদের আগ্রহী করে তুলছে ওইখানে যাওয়ার জন্য। এজন্য আমাদের একটু সাবধানতার সহিত কথা বলা উচিত।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*