
ফাইল ছবি
নিউজ ডেক্স : উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাগলা কুকুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। গত ১০ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনে ৯৬ জন নারী-পুরুষ-শিশু কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে।
এদের মধ্যে ৬৬ জন বাঁশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত সোমবার একদিনেই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৪৪ জনকে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাঁশখালীতে প্রতিবছর এ সময়ে ব্যাপক আকারে কুকুরে কামড়ানো রোগী দেখা যায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই এখানে। অনেকে নিজেদের টাকায় ভ্যাকসিন কিনে চিকিৎসা নেন। তবে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে কিছু রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।’
সরেজমিন জানা গেছে, পাগলা কুকুরের কামড়ে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় উপজেলা সদরে। গত ১৬ মার্চ একদিনে উপজেলা সদরে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে ২৭ জন।
জলদীর পল্লী চিকিৎসক প্রভাষ বিশ্বাস বলেন, ‘সম্প্রতি হেঁটে বাজারে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে পাগলা কুকুর এসে কামড় দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে আমাকে।’
পাইরাংয়ের গৃহবধূ বাসন্তী শীল বলেন, ‘পুকুরে স্নান করতে যাচ্ছি, এ অবস্থায় ঘেউ ঘেউ করে সামনে এসে কিছু বোঝার আগেই হাতে কামড় দিয়ে জখম করে কুকুর। পাগলা কুকুরের কামড় এতই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অনেকের হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংস উঠিয়ে নিয়ে বড় জখম হয়েছে।’
এভাবে প্রায় প্রতিদিন কুকুরে কামড়ানোর খবরে বাঁশখালীর সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ প্রশাসনিকভাবে পাগলা কুকুর দমনে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ডের চৌকিদারদের পাগলা কুকুর চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছি। বেওয়ারিশ ও মালিকানাধীন কুকুর চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে এলে আমরা প্রেসক্রাইপ করি। রোগীদের কেউ কেউ বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে গিয়ে ওই ভ্যাকসিন নেন। আবার কেউ কেউ বাইর থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিয়ে এলে তা আমরা পুশ করে দিই।’
বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। সোমবার ৪৪ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরনো রোগী ৩৮ জন, নতুন রোগী ৬। বিনা মূল্যে এসব ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।’
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner