Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

image-33106-1516382334

নিউজ ডেক্স : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরোজায় কড়া নাড়ছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী আমেজ বা ভোটের হাওয়া। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তত কৌশলী হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলগুলো। জোট গঠন বা ভাঙ্গন দুই তৎপরতাই শুরু হয়েছে পর্দার অন্তরালে। নির্বাচন কমিশনও শুরু করেছে তাদের তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও শুরু করেছেন গণসংযোগ। নিজ নিজ দলের মনোনয়নে নিশ্চিতে ধর্ণা দিচ্ছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিসে। দেখা করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে। মনোনয়ন পাবার জন্য জোর তদবিরও চলছে। তবে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে,তত চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সব ধরনের নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করেছে তারা। দলের নীতি–নির্ধারকদের মতে,অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বিদেশি শক্তিগুলোকে সরকারের পাশে রাখাও একটা চ্যালেঞ্জ। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলন ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা ছাড়াও দলীয় অন্তর্কোন্দল নিরসন করাও ক্ষমতাসীন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ । দলের নীতি–নির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে,এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই বলেও দলের সিনিয়র নেতারা মনে করছেন। এক্ষেত্রে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার ওপরই গুরুত্ব আরোপ করছেন শীর্ষ নেতারা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই ‘একতরফা’ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের এমপি–মন্ত্রীরা ভাষণ–বক্তৃতায় বার বার বলেছেন, ‘নির্বাচনী ট্রেন মিস করেছে বিএনপি।’ আবার স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর বলা হয়েছে, ‘ইন্টার সিটিতে না উঠে লোকাল ট্রেনে উঠেছে বিএনপি।’ রাজনীতিতে গত পাঁচ বছর ধরে চলে আসা এই ‘ট্রেন’ শব্দটি এতদিন ছিল উপমা হিসেবে। কিন্তু গতকাল সেটা বাস্তবে রূপ দিলো আওয়ামী লীগ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ট্রেনে চেপে উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন। নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগকে ওবায়দুল কাদের নির্বাচনী যাত্রা হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে শনিবার সকাল ৮টায় নীলফামারীগামী ‘নীলসাগর এঙপ্রেসে’ চাপেন তিনি। কমলাপুর স্টেশন থেকে রওনা হওয়ার আগে কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই সফর। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এই যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙা করবে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রেলস্টেশনে আয়োজিত পথসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে দেশের শতভাগ উন্নয়ন হবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা রক্ষা করেন। নির্বাচন বানচালে বিএনপির ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গুজব ও সন্ত্রাস চালিয়ে বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ট্রেনে যাত্রা শুরু করে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে ১১টি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে নাটোরের আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ ও নলডাঙ্গার হাট স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে নেতাকর্মীরা পথসভা দাবিতে রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়লে এই দুটি স্থানেও অনির্ধারিত পথসভা করতে হয়। সবশেষে রাতে নীলফামারী জেলা সদরের শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মানুষের সমাগমে পথসভাগুলো জনসভায় রূপ নেয়।

পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, চারদিকে নৌকার গণজোয়ার দেখছি। পথসভাগুলো রীতিমত জনসভায় রূপ নিয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হয়, সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যায়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে, জনগণের আর্থ–সামাজিক উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি–জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের অর্থ লুটপাট করে নিজেদের ভোগবিলাস ও বিদেশে পাচার, রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদ ঘটানো। কাজেই আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সে কারণে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

দলীয় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল করবেন না। বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্লোগান দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া যাবে না। যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জনগণ যাকে পছন্দ করে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। প্রতিটি পথসভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। উপস্থিত নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ দুই হাত তুলে সেই প্রতিশ্রুতি দেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, এই ট্রেন যাত্রার মতো নৌ ও সড়ক পথেও অচিরেই তাদের সফর হবে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চ যোগে নির্বাচনী সফর করব আমরা। এরপর বাই রোডে আমাদের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে। ট্রেন সফরে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমাaর উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ দপ্তর বিপ্লব বড়ুয়া।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!