ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | থেমে নেই পাহাড় কাটা

থেমে নেই পাহাড় কাটা

hill-cutting-at-chandro-bag

নিউজ ডেক্স : থেমে নেই পাহাড় কাটা। এবার আর স্কেভেটর বা বুলডোজার দিয়ে নয়, সনাতন পদ্ধতিতে শাবল খন্তা দিয়ে একদল শ্রমিক পাহাড় চূড়ায় এবং অপর দল নিচ থেকে কোদাল দিয়ে কাটছে পাহাড়। বায়েজিদ থানাধীন চন্দ্রনগর এলাকায় গতকাল দুপুরে এ চিত্র দেখা যায় । এলাকার দুই যুবলীগ নেতা এই পাহাড় কাটার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

‘জালালাবাদে দুর্গ গড়ে পাহাড় নিধন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন গত রোববার জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী নিজে ঘটনাস’লে উপসি’ত হয়ে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত তিনটি বুলডোজার জব্দ করেন। পরের দিন ১০ জনকে আসামি করে পরিবেশ আইনে মামলাও দায়ের করা হয়। একইদিন পাহাড় কাটার দায়ে নগরীর খুলশি ক্লাবকে দুই লাখ টাকা জরিমানাও করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবুও থেমে নেই পাহাড় কাটা। গতকাল নগরীর বায়েজিদ থানাধীন চন্দ্রনগর এলাকায় কিষোয়ান ফুড কারখানার পেছনের এলাকায় (গ্রীনভ্যালি হাউজিং সোসাইটি) গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৩০ জন শ্রমিক পাহাড় কাটছে। প্রায় আড়াইশ ফুট উচ্চতার বালি মাটির পাহাড়টি কোদাল দিয়ে কেটে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ফেলছে মাটি। আর পুরো পাহাড়ের গায়ে দেখা যায় শাবলের চিহ্ন।

পাহাড়টির পশ্চিম দিকে দুটো নির্মাণাধীন ভবন গড়ে উঠায় রাস্তা থেকে পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা যায় না। গিয়াস হাউজিং সোসাইটির গলি দিয়ে পূর্ব দিকে প্রবেশ করলেই হাতের বাম পাশে ( উত্তর দিকে) পাহাড় কাটার দৃশ্য চোখে পড়বে।

নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন ধরে রাতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কাটা চলছে। শ্রমিকরা উপর থেকে শাবল দিয়ে মাটি কেটে নিচে ফেলে, আর সেই মাটির স’প থেকে তা নিয়ে যায় অন্য শ্রমিকরা। নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনটি দেখিয়ে একজন নির্মাণ শ্রমিক জানান, কয়েক বছর আগেও এই ভবনটির জায়গায় পাহাড় ছিল। কেটে কেটে সমান করার পর এখানে ভবন গড়ে উঠেছে। আর কিছুদিন পর বর্তমান পাহাড়টিও থাকবে না। কারণ এর চারপাশে ভবন গড়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স’ানীয় একজন বাসিন্দা জানান, পাহাড় কাটার কাজ রাতের বেলা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে দিনের বেলা পাহাড়ের উপরের পরিবর্তে নিচের অংশে কাটা হয়, যাতে দূর থেকে দেখা না যায়।

পাহাড়টির মালিক কে জানতে চাইলে স’ানীয় অধিবাসীরা জানায়, এই পাহাড়ের পাশে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও মাসুদ রানা বাহার ও শামসুদ্দিন বাদল নামে দুই যুবলীগ নেতার জায়গা রয়েছে। তারাই পাহাড় কেটে তাদের জায়গার আয়তন বাড়াচ্ছে।

জানা যায়, বায়েজিদ থানাধীন পুরো চন্দ্রনগর এলাকাটি গড়ে উঠেছে পাহাড় কেটে। বর্তমানে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, কিছু আবাসিক এলাকাসহ অনেক স’াপনা গড়ে উঠেছে পাহাড় কেটে। চন্দ্রনগরে যে পদ্ধতিতে পাহাড় কাটা হচ্ছে নগরীর অধিকাংশ পাহাড় একই পদ্ধতিতে সাবাড় করা হয়েছে।

চন্দ্রনগরে পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম মহানগর) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘চন্দ্রনগর এলাকায় পাহাড় কাটার বিষয়টি আমাদের নজড়ে আসেনি। এখন আপনার (প্রতিবেদক) কাছে জানলাম, আমার টিম পাঠিয়ে ব্যবস’া নিচ্ছি।’

নগরীতে পাহাড় কাটার স্পটগুলো ঘুরে জানা যায়, শহরের ভেতরে লোকালয়ের মধ্যে অবশিষ্ট থাকা পাহাড়গুলো সাবাড়ের জন্য প্রথমে এর চারপাশে ঘর তৈরি করা হয়। সেই ঘরের আড়ালে ধীরে ধীরে নিচের অংশে পাহাড় কাটা হয়। নিচের অংশে পাহাড়টি কাটা থাকে বলে বর্ষাকালে তা ধসে পড়ে। এভাবে একসময়ের বড় ও উচ্চ পাহাড়গুলো ধীরে ধীরে প্রথমে টিলায়, পরে মাটির ডিবি ও সর্বশেষে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হয়। বর্তমানে নগরীর দক্ষিণ খুলশি, দক্ষিণ খুলশির পাহাড়িকা আবাসিক এলাকা, লালখান বাজার বাঘঘোনার পোড়াকলোনির পাহাড়, বায়েজিদের আমিন জুট মিল এলাকার পাহাড়, বায়েজিদের হিলভিউ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, রহমাননগর এলাকার পাহাড়, খুলশি থানাধীন পশ্চিম খুলশির ৪ নম্বর রোড এলাকার পাহাড়, ফয়’স লেক আবদুল হামিদ সড়কের পাহাড়, কৈবল্যধাম পূর্ব ফিরোজশাহ এলাকার গোলপাহাড় এলাকার পাহাড়, আকবরশাহ রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি এলাকার পাহাড়, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির পাহাড়, উত্তর খুলশির এক নম্বর রোডে প্রবেশমুখের পাহাড়, বায়েজিদ আরেফিননগর রূপশ্রী আবাসিক এলাকার পাহাড় এভাবেই সাবাড় হচ্ছে। -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*