
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : মিয়ানমারে সংঘাত সৃষ্টির তিন মাস হলেও বন্ধ হয়নি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। প্রতিদিন টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকছে। শুধু আগস্টের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থানের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দরিদ্রতার সুযোগে এসব রোহিঙ্গাকে জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়ানো হতে পারে বলে আশংকা তাদের।
গত তিন মাসেই যেন পর্যটন এলাকা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার পুরো দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। আগে যেখানে রাস্তার দু’পাশে ছিলো পাহাড়ি ঘন বন জঙ্গল। কিন্তু এখন সেখানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বসতি। শুধু রাস্তার পাশে নয়। মূল সড়ক থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার অভ্যন্তরেও রয়েছে রোহিঙ্গা বসতির সারি।
তিন মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা আসার পরও এখনো বন্ধ হয়নি অনুপ্রবেশ। প্রতিদিন টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের পাশাপাশি উখিয়ার আঞ্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। ফলে দেখা দিচ্ছে নানা ধরণের সামাজিক সংকট।
কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের যারা স্থানীয় জনগণ আছে তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কিছুটা সামাজিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এলাকার যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তাদেরকে দিয়ে আমরা এ সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
৩৪ বিজিবি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘উখিয়া এবং টেকনাফে যারা বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই জায়গাটা অত্যন্ত অনিরাপদ হয়ে গেছে। কারণ তারা কর্ম হারিয়ে ফেলছে। রোহিঙ্গা আসার কারণে তারা কাজ পাচ্ছে না।’
গত ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ২৪টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ক্যাম্পে একযোগে হামলা চালায় স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে লড়াইরত রোহিঙ্গা ভিত্তিক সংগঠনগুলোর জোট আরসা। আর এর জের ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ অবস্থায় চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী দেশান্তরী এসব রোহিঙ্গা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসনের।
কক্সবাজার টেকনাফ থানা পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ আশরাফুজ্জামান, ‘রোহিঙ্গারা নানা রকমের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’
কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, ‘জঙ্গি হতে পারে। তাদের এই দারিদ্রতা ব্যবহার করে সামাজিক অপরাধ মূলক কাজে লিপ্ত হতে পারে। তারা যেনো অপরাধ মূলক কিছু না করতে পারে, সেজন্য আমরা সজাগ আছি।’
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশ্রয় শিবিরভিত্তিক নতুন ৫টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে সাথে রোহিঙ্গাদের মনিটরিংয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল।
উখিয়া উপজেলার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, টেকনাফের হোয়াক্যং, উনছিপাং, শাপলাপুর এবং বান্দরবানের তমব্রু এলাকায় অবস্থান রয়েছে নতুন পুরাতন ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আর এসব এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner