ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

চবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

download (3)

ইরফান এইচ সায়েম : কথাকাটাকাটি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘সিক্সটি নাইন’ ও ‘বাংলার মুখ’র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় গ্রুপই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বলে পরিচিত। সংঘর্ষে পুলিশের এক সদস্যসহ বাংলার মুখের ছয় এবং সিক্সিটি নাইনের দুই সমর্থক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশন চত্বরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের নীর, তাজুল, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) মারজান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহসিন, মৃত্তিকা বিভাগের সুমন, সমাজতত্ত্ব বিভাগের জাহেদ ও গণিত বিভাগের সাজিদ। অপরজনের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশনে সিক্সটি নাইনের কর্মী জায়েদ ও সাজিদের সঙ্গে বাংলার মুখের কয়েক কর্মীর কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় বাংলার মুখের কর্মীরা সাজিদ ও জায়েদকে কিলঘুষি মারে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা হল থেকে জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলার মুখের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আট কর্মী আহত হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের হাতে কোপ খান। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় গ্রুপ। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ফের নিয়ন্ত্রণে আসে। বাংলার মুখের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক মো. মামুন বলেন, জামায়াত-শিবিরের ইন্ধনে আবু কাউছার রনি ও ইকবাল টিপুর নেতৃত্বে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আমাদের ছয় কর্মী আহত হন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। অভিযোগ অস্বীকার করে সিক্সটি নাইনের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির অর্থ সম্পাদক আবু কাউছার রনি বলেন, জুনিয়রদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে। আমি দুই পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করি। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, বাংলার মুখের দিয়াজ ইরফানের মামাকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে গেলে তিনি না করেন। এ কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে এ ঘটনা ঘটায়।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের থামাতে গেলে আমাদের এক কর্মকর্তা আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*