ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রামে জোট সদস্যদের মনোনয়ন নিয়ে বড় দু’দলে প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রামে জোট সদস্যদের মনোনয়ন নিয়ে বড় দু’দলে প্রতিক্রিয়া

1507763891

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রাম জেলার ১২টি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের প্রার্থিগণ নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ডিঙ্গিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছেন। অনুরূপভাবে কয়েকটি আসনে নিজ নিজ জোটের প্রার্থীদের নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানা যায়। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় বিভিন্ন আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ অনেক জায়গায় ছাড় দিলেও আগামী নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রদানে ছাড় দেবে কিনা তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট আসনের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অভিমত। গত নির্বাচনে মহাজোটের অন্যান্য দল থেকে চট্টগ্রাম জেলার ১২টি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর একটি পান চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) থেকে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ দুইটি আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলেছেন। দুইটি আসনেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ কয়েকজন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনুরূপভাবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে চট্টগ্রাম জেলার ১২টি আসনের মধ্যে অন্তত তিনটি আসনে জোটের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনার মুখে দলীয় নেতা-কর্মী এবং ওই সকল আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এ তিনটি আসন হচ্ছে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এবং চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রদান। তিনটি আসনেই বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পেতে চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। ফলে চট্টগ্রাম জেলার ১২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অন্তত পাঁচটি আসনে মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা সংকট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

তাছাড়া আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে যেসব দলীয় নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের সবাইকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে দলের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ সভা-সমাবেশে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে অন্তত ছয়টি আসনে ২০১৪ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জেলার বাকি ছয়টি আসনের ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যাবে না বলে দলীয় নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায়। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরী মিলিয়ে ১৬টি আসন হওয়ায় এসব আসনে মনোনয়ন প্রদানে উভয় প্রধান দলই ব্যাপক বিচার বিশ্লেষণ করবে বলে নেতা-কর্মীদের অভিমত। আওয়ামী লীগ বিগত দুইটি নির্বাচনের ন্যায় তাদের প্রার্থীদের প্রাধান্য ধরে রাখার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে বিএনপিও তাদের হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে লড়ে যাবে বলে নেতা-কর্মীদের অভিমত। কারণ বিগত ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেন। -ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*