ব্রেকিং নিউজ
Home | সাহিত্য পাতা | একজন বিজন দাদার গল্প

একজন বিজন দাদার গল্প

349

কামরুননাহার : দাদা আর আমরা পাশাপাশি থাকতাম।দাদা তার চাকুরী সুবাদে আর আমি মায়ের চাকুরী সুবাদে একই বিল্ডিংয়ে থাকতাম। ওনার বয়স তখন হয়তো সাতচল্লিশ, আটচল্লিশ হবে।বিয়ে করেছিলেন বেশ দেরী করে।তাই ঐ বয়সে তার মেয়ে ছিল মাত্র পাচ বছরের। আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। আমাদের বিল্ডিংটা এত বড় ছিল যে ওখানে চল্লিশ টা পরিবার বাস করতো। আর নাইন টেনে পড়া মেয়ে ছিল দশ বারো জন।যা এক রকম মেয়ে গুন্ডা বাহিনী। কারও বাড়ী মেহমান এলে ভুলভাল বাসা দেখিয়ে মিষ্টি চুরি থেকে শুরু করে কোন রকম অহংকার দেখানো ছেলেদের মোটরসাইকেলের সিট কাটা,সব আমাদের কাজের মধৈ ছিল।বিজন দার মামাও এ বিল্ডিং এ থাকতেন।তার মেয়েও আমাদের সাথী ছিল।তারজন্য বিজনদাকে দাদা বলে ডাকা।

অদ্ভুত সুন্দর ছিল বৌদিটি। মনে হত দূর্গা।গরীব ঘরের তারপর মা নেই। রূপের জোরে এ ঘর পাওয়া। আমরা বিকেল হলে বৌদির কাছে যেতাম মাঝেমাঝে।
হঠাৎ একদিন শুনি বৌদি বাপের বাড়ী চলে গেছেন মেয়েকে রেখে। আর আসবেন না। অনুসন্ধানী আমরা বের করে ফেলি কারন।
দাদার সংসার ছিল তার মা, বৌ, আর মেয়েকে নিয়ে।দাদার মা নাকি একা ঘুমোতে ভয় পায় তাই দাদা ঘুমান মায়ের সাথে। বছরের পর বছর চলছিল এ অবস্থা তাই বৌদি চলে গিয়েছেন। মনে হচ্ছিল না ওদের কোন গরজ আছে বৌদিকে আনবার।মাঝেমাঝে কাকিমা মানে বিজনদার মামি বলতেন কি যে করে, বৌটারে আনেনা কেন?

তিনমাস পরে এক বিকেলে ফিরে এলো বৌদি। এল একটা লাল গাড়ীও।কেউ কোন কথা বলেনি রয়ে গেল সংসারে বৌদি। শুধু ঐ সংসারে নতুন যোগ হলো লাল গাড়ীর মালিকের আসা যাওয়া। প্রতিদিন দাদা অফিসে গেলে গাড়ী আসতো। আবার চলে যেত দাদা ফেরবার আগে।শুরু হলো গুন্জন। অভিভাবকরা আমাদের শাসালেন খবরদার ঐ বাসায় যাবে না। আমরাও মহা ক্ষ্যাপা গাড়ীর ওপর একদিন ছাদ থেকে থান ইট ফেলে ভেঙে দিলাম সামনের গ্লাস। পরদিন পুলিশ নিয়ে এল আধমরা অবস্থায় আরেক বাড়ীর জামাইকে। জামাই ঐ এলাকার একটু মাস্তান ধরনের ছেলে।গাড়ী ভাঙার অপরাধে এ অবস্থা। পুলিশ বললো ওমুক ভাইয়ের গাড়ী ভেঙেছে আপনার জামাই। আজ মরেই যেত। বার বার অস্বীকার করায় আর হাত পা ধরে মাফ চাওয়ায় ছেড়ে দিয়েছে ভাই। জানলাম ঐ জামাই নাকি দাদার হয়ে বৌদিকে শাসিয়ে ছিলেন। কেপে গেলাম আমরা। গোপন পরামর্শ হলো জান গেলেও স্বীকার করবো না কেউ। অবশ্য কেউ আমাদের সন্দেহই করেনি।

অস্হির সকলে একসময় পরামর্শ দিল জীবন বাচাতে চাইলে অন্য দূরে কোন শহরে চলে যাও। সে সময় একটা প্রস্তাব ছিল সরকারের গোল্ডন হ্যান্ড সেক।এতে করে চাকরীর সব পাওনা একসাথে পাওয়া যেত।দাদা তাই করলেন।চলে যাবেন ঢাকায় ওখানে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করবেন। কারন ওমুক ভাই এতটা ভয়ংকর যে কোন সময় অঘটন ঘটতে পারে।

আমরা একদিন গোপনে গেলাম বৌদির ওখানে। বৌদি বললেন তোরা যে।জানতে পারলে মার খাবি তো বাবা মার হাতে। আমরা বললাম খেলে খাবো।তুমি বল ঐ লোকটা তোমার কি হয়? বৌদি বললো আমার দাদা।আমরা বিশ্বাস করিনি। জানতে চাইলাম অন্য শহরে তো দাদা থাকবে না কি করবে তখন? বৌদি এমন করে হেসেছিল। যে হাসি আজও ভুলতে পারিনি, হাসির মানেও বুঝতে পারিনি।বলেছিল আমি বাচতে শিখে গেছিরে।

চলে গিয়েছিল ওরা। আমরা জেনেছিলাম একজন খারাপ বৌদিকে।অনেক দিন প্রায় বিশ বছর ওদের কোন খবর জানিনা।ওরা হারিয়ে গেছে আমার ব্যস্ত জীবন থেকে।তবু মনে পড়ে বৌদিকে।

আমিও জীবনের অনেক সময় পার করেছি।বুঝেছি, দেখেছিও অনেক কষ্ট, সুখ।আজ আর বৌদিকে চরিত্রহীন মনে হয় না।মনে হয় এটা ওর অধিকার ছিল।যে অধিকার দিয়েছিল তাকে দাদা আর তার মা।

( আমি কথাটা বলায় গল্পটা সত্যি মনে করবার কোন কারন নাই। একটা নাম খুঁজবার অলসতার জন্য আমি ব্যবহার করা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*