ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | একজন, দুই দায়িত্ব—কী বলছে নীতিমালা?

একজন, দুই দায়িত্ব—কী বলছে নীতিমালা?


এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় ফয়েজ শফি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফুরকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারি চাকরি থাকা সত্বেও তিনি নানা সময় ইমামের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

গত ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর  উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে তিন দিনের “পুষ্টি প্রশিক্ষণ (নিরাপদ খাদ্য)” কর্মশালায় উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য সহকারী, ইমাম ও কৃষকসহ মোট ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মশালায় মাওলানা আব্দুল গফুর ইমাম কোটায় অংশ নেন। তবুও বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় প্রতিদিন স্বাক্ষর করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক পরিচয়ে থাকলেও তিনি কি ইমামের সুবিধা গ্রহণ করেছেন?

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব প্রসাদ বড়ুয়া বলেন, আমার কাছ থেকে তিনি কোনো ছুটি নেননি। প্রতিদিন টিফিনের পর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এবং ক্লাসেও অংশগ্রহণ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।

অভিযোগ উঠেছে, মাওলানা গফুর প্রায় সময় ইমামের দোহাই দিয়ে বিদ্যালয় থেকে ছুটি নেন এবং ইমামদের সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন। এমনকি লোহাগাড়া উপজেলা মডেল মসজিদে জোরপূর্বক পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি শিক্ষক হয়ে যদি সবসময় ইমামের দায়িত্ব নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। তিনি আসলে শিক্ষক নাকি ইমাম, এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই ওঠে।

শিক্ষক পরিচয়ের সঙ্গে ইমামের দায়িত্ব পালনের দ্বৈত চরিত্র সব মিলিয়ে মাওলানা আব্দুল গফুর এলাকায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষা প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষতি রোধ করা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইবনে মাসুদ রানা বলেন, একজন শিক্ষক কোনো ভাবেই ইমাম ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষককেও লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, মুলত পুষ্টি বিষয়ক বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের। তারাই সিলেক্ট করেছে কারা তিন দিনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবে। একজন শিক্ষক কিভাবে ইমাম কোটায় অংশ গ্রহণ করল এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাওলান আব্দুল গফুর একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিন ইমামের ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ কীভাবে নিলো কৃষি অফিসার জানবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!