Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে জামায়াত

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে জামায়াত

????? ???? ???? ???? ?????? ????? ????????

নিউজ ডেক্স : সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে উপজেলা নির্বাচন। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ২২টি আসনে অংশ নিয়েছিল নিষিদ্ধ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। একটি আসনেও জয়ী হতে না পারা জামায়াত আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ছয়টি উপজেলায় জামায়াতে ইসলামের ছয়জন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আছেন। সর্বশেষ নির্বাচনে একাধিক উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থী দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এরপরও আগামী নির্বাচনে সংগঠনটি অংশ নেবে কিনা তা নিয়ে নেতারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। চট্টগ্রামের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা। রামু উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থী দ্বিতীয় হন। অনেক উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থী গড়ে ২০ হাজার ভোট পান। তবে নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী বেশিরভাগ সময় মামলা-হামলায় জড়ানো এবং উপজেলা চেয়ারম্যানরা জেলে থাকার কারণে পুরো মেয়াদেই তাঁরা জনগণ থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্নই ছিলেন। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হলেও কোনও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এজন্য অবশ্য জামায়াত নেতারা সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, জামায়াত নেতারা যেসব উপজেলায় চেয়ারম্যান ছিলেন, সেখানে তারা সরকারের কাছে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। তবুও জনগণ জামায়াত সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর হতাশ বলে মনে করেন না জামায়াতের নেতারা। আবার অনেক এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পর্কও ভালো ছিল না। এজন্য গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন নিয়েও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। এই সিদ্ধান্ত না মেনে ওই আসনে জামায়াতে ইসলাম নিজেদের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে আপেল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী করেন। এজন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন জহিরুল। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে নির্বাচনের দুইদিন আগ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদ ও জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কে তা শেষ পর্যন্ত জনগণ জানতেই পারেনি।

সেসময় জহিরুল বলেছিলেন, সারাদেশে কয়েকটি আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনগণ যাকে ভোট দেবেন তিনিই বিজয়ী হবেন। ওই নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম এবং জহিরুল ইসলাম দুইজনই হেরেছেন।

আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়া না দেওয়া বিষয়ে জামায়াত নেতারা অনেক কথা বললেও সেসব বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে আসছেন না। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর জাফর সাদেক বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে। তবে প্রার্থী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে এ মুহূর্তে আমার কোনও বক্তব্য নাই। যা বলা প্রয়োজন তা কেন্দ্র থেকেই নেতারা বলবেন।

জামায়াত অধ্যুষিত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ বছর আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের মোহ অনেকটা কেটে গেছে। এর বাইরে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে জামায়াত। ফলে নব্বইয়ের দশক কিংবা তারও পরে যেভাবে একটি স্বপ্ন নিয়ে নতুন প্রজন্ম জামায়াতে ইসলাম ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছিল, সেই অবস্থাও এখন আর নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ছাত্রশিবির সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও অনেকটা কোনঠাসা। চট্টগ্রামে ছাত্রশিবির ও জামায়াতের আতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায়ও এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবির কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

সূত্র : দৈনিক পূর্বকোণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*