Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ইসির সংলাপে যা বললেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা

ইসির সংলাপে যা বললেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা

2ec-(2)-20170816182927

নিউজ ডেক্স : সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যে ক্ষমতা আছে সেটির প্রয়োগ করে সব দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে মত দিয়েছেন দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে যথাযথ পরিবেশ তৈরির পরামর্শও দেন প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ইসির সংলাপে তারা এসব মত দেন। সংলাপে ২৬ জন গণমাধ্যম প্রতিনিধি অংশ নেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এতে সভাপতিত্ব করেছেন। এতে গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সংলাপ শেষে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম সাংবাদিকদের বলেন, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে কমিশনকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান জানান, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সমর্থন করেন না তিনি। সেই সঙ্গে নামসর্বস্ব পর্যবেক্ষক সংস্থাকে যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেয়া হয় এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, নির্বাচন একটা রাজনৈতিক উৎসব। সব দলের অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি জানান, সার্বিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে অনেকে মত দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন এখন যেভাবে মোতায়েন করা হয় সেভাবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা থাকতে পারে। কেউ কেউ বলেছেনে ‘না’ ভোট না থাকা ভালো, কেউ কেউ বলেছেন না ভোট থাকতে পারে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর জানান, এখন থেকেই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ভোরের কাগজ’র সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্ত নিশ্চিতে বিশেষ নজর দেয়ার কথা বলেছি। এ নির্বাচনের দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইসির স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। এমন আচরণ করতে হবে যাতে জনগণের আস্থা তৈরি হয়। আস্থা অর্জনে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে।’

তিনি জানান, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরিবেশ ঠিক করতে হবে। সামনে সিটি নির্বাচনের ওপরই জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আস্থা তৈরির পথ প্রশস্ত হবে।

ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত বলেন, বিদ্যমান সীমানাতেই ভোট করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতেই সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। ২০১১ সালে সবশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদন হওয়ায় নতুন করে আর সীমানা পুনর্নির্ধারণের দরকার নেই।

সংলাপে অারও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ।

-জাগোনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*