ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ইউনেস্কোর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের শীতলপাটি

ইউনেস্কোর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের শীতলপাটি

P-12-2-4-696x397

নিউজ ডেক্স : ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ) তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির বয়নশিল্প। ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটি গতকাল বুধবার শীতলপাটির বয়নপদ্ধতির স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে বলে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।

দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ওই কমিটির বৈঠক, চলবে শনিবার পর্যন্ত। কমিটির আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৭ সালের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা অনুমোদন। বাংলাদেশের শীতলপাটির বয়নশিল্পের সঙ্গে ১৯টি দেশের ১৫টি নৈর্ব্যক্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সদ্য অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জাদুঘর শীতলপাটির বয়নপদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কমিটির কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। আগের দিন সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে শীতলপাটির এক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে এসে সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, কমিটির চলতি অধিবেশনে স্বীকৃতির বিষয়টি ‘প্রায় নিশ্চিত’, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

এর আগে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাংলার বাউল সংগীত, ঐতিহ্যবাহী জামদানী বুনন পদ্ধতি ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন বাংলার শীতলপাটি। লোকশিল্পটি মুর্তা নামক গাছের বেতি থেকে বিশেষ বুনন কৌশলে শিল্পরূপ ধারণ করে। বৃহত্তর ঢাকা বিভাগ, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে এই বেত গাছ জন্মালেও শীতলপাটির বুননশিল্পীদের অধিকাংশের বসবাস সিলেট বিভাগে। বৃহত্তর সিলেটের ১০০ গ্রামের প্রায় ৪ হাজার পরিবার সরাসরি এই কারুশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জাতীয় জাদুঘর এক সমীক্ষায় জানিয়েছে। সিলেটের শীতলপাটির এই বুননশিল্পীরা ‘পাটিয়াল’ বা ‘পাটিকর’ নামে পরিচিত।

১৯টি দেশের ১৫টি নৈর্ব্যক্তিক ঐতিহ্যকে দুটি শ্রেণিভুক্ত করে তালিকা তৈরি করেছে ইউনেস্কোর এই কমিটি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলির সাধারণ একটি তালিকার সঙ্গে বিলুপ্তির হুমকির মুখে থাকা ঐতিহ্যগুলির আলাদা তালিকা রয়েছে।

হুমকির মুখে যেসব ঐতিহ্য:

এই তালিকার শুরুতে রয়েছে ‘আল আযি’ নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্যবাহী কাব্য। কারো মহিমা ও স্তুতি প্রকাশের জন্য বাদ্যযন্ত্র সাহায্য ছড়ার রূপের এসব কাব্য দলীয়ভাবে আবৃত্তি করা হয়। এ ধরনের ছড়ার গাঁথুনিতে প্রবাদ বাক্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়।

‘ইলানো’ নামে কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলায় প্রচলিত এক ধরনের কর্মোদ্দীপক সংগীত। গবাদি পশুর দুধ সংগ্রহ করতে এবং তাদের চরানোর সময় একক বা দলগতভাবে এই সংগীত গাওয়া হয়ে থাকে।

বতসোয়ানার কেগাতলেন অঞ্চলের লোকসংগীত ‘দিকোপেলো’ও জায়গা করে নিয়েছে ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায়। একসঙ্গে নেচে–গেয়ে একটি নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মানুষ বাদ্যযন্ত্র ছাড়া এই সংগীত চর্চা করে।

এই তালিকায় রয়েছে মঙ্গোলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘পবিত্র স্থানের বন্দনা’র উৎসব, অদৃশ্য শক্তি বা দেব–দেবীর পূজায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

হুমকির মুখে থাকা এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে মরক্কোর পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চ অ্যাটলাস পর্বতাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘তাসকিউইন’ নামে বিশেষ নৃত্য, যা বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। এর বিশেষ দিক হলো– নাচের পোশাকের সঙ্গে জমকালো শৃঙ্গা ব্যবহার করা হয়।

এই তালিকায় রয়েছে তুরস্কের পাহাড়ি এলাকার মানুষের মধ্যে প্রচলিত এক ধরনের শিস। দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই ‘হুইসেলড ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যবহার হয়।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাধারণ তালিকা:

‘আল–ক্বাত আল–আসিরি’ নামে সৌদি আরবের আসির অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দেওয়াল অলংকরণ, যেই সাজসজ্জার কাজ নারীরা ঘরের ভেতরে করে থাকেন।

রয়েছ বুলগেরিয়া, মেসিডোনিয়ার সাবেক যুগো স্লাভ প্রজাতন্ত্র, মলদোভা প্রজাতন্ত্র ও রোমানিয়ার ‘বসন্তবরণ উৎসব’, যা ১ মার্চ সম্মিলিতভাবে পালন করা হয়। লাল–সাদা সুতামিশ্রিত ধাগা বা রিস্ট ব্যান্ড পরে এই উৎসবে অংশ নেয় মানুষ।

আজারবাইজানের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘দোলমা’র প্রস্তুতপ্রণালীও এই বছর জায়গা পেয়েছে এই তালিকায়। এই প্রক্রিয়ায় তাজা বা অসেদ্ধ পাতায় মুড়িয়ে বা ফলমূল ও সবজির ভেতর মাংস, পেঁয়াজ, চাল, ডাল ও মরিচ ভরে এই খাবার তৈরি হয়।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে আর্মেনিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘কোচারি’। ছুটি, উৎসব উদযাপন, পারিবারিক অনুষ্ঠানসহ সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই নাচ পরিবেশিত হয়।

বসনিয়া ও হার্জেগোভনিয়ার কোনয়িক পৌর অঞ্চলের বিশেষ ধরনের কাঠ খোদাই শিল্পও এতে জায়গা পেয়েছে।

কিউবার চাষীদের গাওয়া ঐতিহ্যবাহী কাব্য ও সংগীত ‘পুনতো’ স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের। তাৎক্ষণিকভাবে রচিত বা আগে থেকে তৈরি অষ্টপদী দশ চরণের ছড়া সুরসহ গাওয়া হয়।

আরও জায়গা পেয়েছে বলিভিয়ার আলাসিতা মেলার সময় ‘লাপাজের পথে শাস্ত্রীয় যাত্রা’। ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরুর পর দুই বা তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই যাত্রায় শহরের উর্বরতার দেবতা হিসেবে পরিচিত ‘একেকোর’ সঙ্গে সম্পর্কিত ‘সৌভাগ্যের’ প্রতিকৃতি কিনে থাকে অংশগ্রহণকারীরা।

বাংলাদেশের শীতলপাটির বয়নশিল্পের পর তালিকায় রয়েছে আইভরি কোস্টের গুড়ো সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যসংগীত ‘যাওলি’। নারী সৌন্দর্যের প্রতি শ্রদ্ধাসূচক সংগীত এই যাওলি ‘ব্লৌ’ ও ‘জেলা’ নামে দুটি মুখোশ দ্বারা অনুপ্রাণিত। এটার অন্য নাম জেলা লৌও যাওলি বা জেলার মেয়ে যাওলি। –আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*