Home | উন্মুক্ত পাতা | আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশী শিক্ষা ব্রতী একজন পথিকৃৎ হাজী সামশুল ইসলাম

আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশী শিক্ষা ব্রতী একজন পথিকৃৎ হাজী সামশুল ইসলাম

296

মোঃ জামাল উদ্দিন : আবেগ ও চেতনা মানুষকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার বহু নজির রয়েছে। লোহাগাড়ার আধুনগর আকবর পাড়ার হাজি সৈয়দ আহমদের পুত্র হাজী সামশুল ইসলাম তার অন্যতম। শৈশবে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া শিখতে পারেননি। এমনকি গ্রামের মক্তবেও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে মারাত্মকভাবে বাঁধাপ্রাপ্ত হন। সেদিনের শিশু সামশুল ইসলাম শিক্ষা গ্রহণে বাঁধা পাওয়ার বেদনা ভুলতে পারেননি। তাঁর সেদিনের আবেগ আজকে লোহাগাড়ার আধুনগর আকবর পাড়ার আলোর মশাল হয়ে জ্বলছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকার আলোর পরশ পেয়ে অনেকে শিক্ষিত হয়েছেন। হচ্ছে। তাঁর শিক্ষা বিস্তারের গল্প অত্যন্ত চমৎকার। প্রবাসী ও ব্যবসায়ীর দেশখ্যাত লোহাগাড়ার আধুনগর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে জন্মেছে দেশবরেণ্য পীর, আলেম, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পপতি, সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিক। ইতিহাসের অনেক স্বাক্ষী এই আধুনগর।

১৯৫৭ সালে আকবর পাড়ায় হাজী সামশুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কাটে সীমাহীন কষ্টে। পিতার অভাবের সংসার, এলাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা, এসব কারণে লেখাপড়াও তেমন করতে পারেননি। কিন্তু তিনি সহজেই তা মেনে নেননি। তাঁর মন বিদ্রোহী হয়ে উঠে। তিনি শৈশবেই প্রতিজ্ঞা করেন এই অবস্থার অবসান করতে হবে। দারিদ্রতা আর অশিক্ষা এক সাথে দূর করতে হবে।
যৌবনে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যে। সেখানে কঠোর পরিশ্রম আর সাধনার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি দারিদ্রার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেন।

দারিদ্রতাকে পরাভূক্ত করে তিনি ফিরে আসেন দেশে। দেশে এসেই শুরু করেন ব্যবসা আর সমাজসেবা। শৈশবের লালিত স্বপ্ন, শিক্ষা বিস্তারের কার্যক্রমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। তিনি একে একে প্রতিষ্ঠা করেন হাজী সামশুল ইসলাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী সামশুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, আহমদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানা এবং একাধিক মসজিদ। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ দরিদ্র মানুষের তিনি অকাতরে দান করেন। তিনি নিজের অর্জিত ধন-সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ এভাবে মানুষ ও মানবতার জন্য দান করে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে হাজী সামশুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতা চাই না, নাম চাই না। আমি চাই আল্লাহর সন্তোষ্টি আর মানুষের দোয়া।

লোহাগাড়া উপজেলার সদর হতে শাহপীর সড়ক ধরে সামান্য পশ্চিম দিকে গেলেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান সমূহ আপনি দেখতে পাবেন। সামশুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সুদর্শন ভবন, পাশেই রয়েছে হাজী সামশুল ইসলাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ দু’টি বিদ্যালয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেএসসি ও এসএসসিতে ‘এ প্লাস’ সহ শতভাগ ফলাফল করে আসছে। সারাদিন শত শত ছাত্র-ছাত্রীর আনা- গোনায় স্কুল এলাকা মুখরিত থাকে। তাঁর বাড়ির পাশে মসজিদ ও কবরস্থানের পাশেই তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন আহমদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানা। হাফেজ ও এতিমেরা যখন সুরেলাকন্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করে, তখন সৃষ্টি হয় এক স্বর্গীয় আবহ। মসজিদের উত্তর পাশে প্রতিষ্ঠা করেন একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। এতগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এক সাথে উপস্থিত কোরআন তেলাওয়াত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, কবর জেয়ারত এসব দৃশ্য দেখলে মনে হয় এখানে অবিরাম রহমতের বৃষ্টি পড়ছে। একবার আসুন, দেখুন, একজন মানুষের একক চেষ্টায় কিভাবে বদলে গেল একটি জনপদ, একটি এলাকা।

এলাকাবাসীরা অভিমত রেখেছেন জাতীয় চেতনাকে বাঙ্গালীরা ধারণ করেছিলেন বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার চেতনা বাঙ্গালীর প্রেরণার উৎসব। অশিক্ষা জাতীর জন্য একটি মারাত্মক অভিশাপ। এলাকার অশিক্ষার বিরুদ্ধে সংগ্রামী চেতনার অধিকারী হাজী সামশুল ইসলাম এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর সে স্বপ্ন একদিন সত্যি হলে এলাকায় আলো ঝলমল পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এমন দিন যেন প্রতিনিয়ত শিক্ষার দরজায় কড়া নাড়ে। নাড়ছে। কৃতজ্ঞতা স্বীকারে- শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন, আধুনগর।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও দৈনিক আজাদী, চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*