ব্রেকিং নিউজ
Home | শিক্ষাঙ্গন | আজ থেকে একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু

আজ থেকে একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু

intervew-hsc-pa-26-042018-polijy

নিউজ ডেক্স : আজ (১৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে একাদশে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া। আগামী ২৪ মে পর্যন্ত ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে এ আবেদন করা যাবে। পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদনকারীদেরও এই সময়ের (২৪ মে) মধ্যে আবেদন করতে হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে ৫ ও ৬ জুন পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩১ মে পুনঃনিরীক্ষনের ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। এদিকে, আবেদনে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই বলছেন শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক। আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে চিন্তা-ভাবনা করে কয়েকদিন পর আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দফায় মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। প্রথম তালিকায় ভর্তির জন্য মনোনীতদের ১১ জুন থেকে ১৮ জুন নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। প্রথম দফায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে দ্বিতীয় দফায় আবেদনের সুযোগ থাকছে ১৯ থেকে ২০ জুন। প্রথম দফায় মনোনয়ন বঞ্চিত এবং মনোনীত হয়েও নিশ্চায়ন করতে না পারা শিক্ষার্থীরা এ সময়ে আবেদন করতে পারবে। আবেদন গ্রহণ শেষে ১ম দফায় মাইগ্রেশনের ফল ও দ্বিতীয় দফায় মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ জুন।

দ্বিতীয় তালিকায় ভর্তির জন্য মনোনীতদের ২২ জুন থেকে ২৩ জুন নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। ২য় দফায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে ৩য় দফায় আবেদনের সুযোগ থাকছে ২৪ জুন। আবেদন গ্রহণ শেষে ২য় দফায় মাইগ্রেশনের ফল ও ৩য় দফায় মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ জুন। ৩য় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন করতে হবে ২৬ জুনের মধ্যে। নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে ২৭ জুন। ৩০ জুন পর্যন্ত এই ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আর ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (www.xiclassdmission.gov.bd) – এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ভর্তিচ্ছুদের। আর কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন প্রক্রিয়ার বাইরে ম্যানুয়াল বা নিজেদের ইচ্ছে মতো অন্য কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবেনা।

শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় এ কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত নীতিমালাটি গত ৭ মে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এবারও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে শতভাগ কলেজেই অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। তাছাড়া গতবার পর্যন্ত কোটার নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বাদ দিয়ে বাকি আসনে মেধা তালিকায় নির্বাচিতরা ভর্তির সুযোগ পেলেও এবার শতভাগ আসনে মেধায় মনোনীতরা ভর্তির সুযোগ পাবে।

আবেদন প্রক্রিয়া : অনলাইনে আবেদনের আগে টেলিটকের প্রি-পেইড মোবাইল ব্যবহার করে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দিতে টেলিটক মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে CAD লিখে স্পেস দিয়ে WEB লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নাম লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে পাসের সাল লিখে স্পেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে আবেদনকারীর নাম, শিক্ষা বোর্ড, পাসের সাল ও রোল নম্বর জানিয়ে ১৫০ টাকা আবেদন ফি কেটে নেওয়া হবে জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেওয়া হবে। ফি দিতে সম্মত থাকলে মেসেজ অপশনে গিয়ে CAD লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বরটি লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফি জমা হলে প্রার্থীর মোবাইলে নিশ্চিতকরণ ট্রানজেকশন আইডিসহ একটি এসএমএস আসবে। মোবাইলে টাকা জমা দেওয়ার পর www.xiclassdmission.gov.bd -তে গিয়ে ওই ট্রানজেকশন আইডি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী চাইলে টেলিটকের প্রি-পেইড মোবাইল ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে। তবে দুই মাধ্যম (ওয়েবসাইট ও এসএমএস) মিলিয়েই সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে।

এসএমএস-এ আবেদন করতে ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে CAD লিখে স্পেস দিয়ে ভর্তিচ্ছু কলেজ বা মাদ্রাসার EIIN নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ভর্তিচ্ছু গ্রুপের কি-ওয়ার্ডের দুই অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে পাসের সাল লিখে স্পেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ভর্তিচ্ছু শিফটের নামের প্রথম অক্ষর (শিফট না থাকলে N দিতে হবে) লিখে স্পেস দিয়ে ভার্সনের প্রথম অক্ষর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিজে ঘরে বসে আবেদন করতে পারলে ভালো। যদি নিজের ঘরে আবেদনের সুযোগ না থাকে সেক্ষেত্রে সাইবার ক্যাফে বা কম্পিউটারের দোকান থেকে আবেদনকরার সময় সতর্ক থাকার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক।

কলেজ পছন্দক্রমে সতর্ক থাকতে হবে: ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন- প্রাইভেট কলেজগুলোর বিভিন্ন প্ররোচনার শিকার না হওয়াই ভালো। তাদের ‘ক্যাম্পাসে আবেদনের সু-ব্যবস্থা’ জাতীয় প্রলোভনে পা না দিয়ে নিজ উদ্যোগে আবেদন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবং শিক্ষার্থীর অজান্তে তাদের কলেজটিকে (প্রাইভেট কলেজ) পছন্দের শীর্ষে দিয়ে দিতে পারে। পরে এ নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগ পাওয়া যায় শিক্ষাবোর্ডে। কলেজ বাছাই ও সে অনুযায়ী ক্রম ঠিক রেখে আবেদন করতে পারাটাই ভর্তিচ্ছুদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক। তাঁর মতে- আবেদনে পছন্দের কলেজগুলোর ক্রম ঠিক রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আবেদনে কলেজ কোনটির পর কোনটি থাকবে তা যেন আগে থেকে ঠিক করে সতর্কতার সাথে আবেদনটা করা হয়। আবেদনে ভুল না হলে ভোগান্তি পোহাতে হবে না। কিন্তু আবেদনে ভুল হলেই আবেদনকারীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভোগান্তির শিকার হতে হবে। তাই আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী-অভিভাবককে সতর্কতা অবলম্বনে জোর অনুরোধ জানান শিক্ষাবোর্ডের এ কর্মকর্তা।

তাড়াহুড়ো নয় : অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হলেও চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। তাই আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর পরপর একই সাথে হুমড়ি খেয়ে আবেদন করতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক। তিনি বলেন- যেহেতু ২৪ মে পর্যন্ত সময় আছে, সেহেতু তাড়াহুড়ো না করলেই ভালো। ধীরে-সুস্থে চিন্তা-ভাবনা করে কয়েকদিন পর আবেদন করলে সমস্যার কিছু নেই।

সর্বোচ্চ আবেদন ও মনোনয়ন : এবার সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ দশটি কলেজে আবেদনের সুযোগ থাকছে ভর্তিচ্ছুদের। অর্থাৎ অনলাইনে হোক আর মুঠোফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে হোক সর্বোচ্চ দশটি কলেজেই আবেদন করা যাবে। এর বেশি সংখ্যক কলেজ পছন্দের সুযোগ থাকছেনা। ভর্তিচ্ছু চাইলে অনলাইনে একবার আবেদনের মাধ্যমে (পছন্দক্রম অনুযায়ী) একই সাথে দশটি কলেজে আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ফিও দিতে হবে একবার (১৫০ টাকা)। কিন্তু অনলাইনের পরিবর্তে মুঠোফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে করতে গেলে দশটি কলেজের জন্য দশবার আবেদন করতে হবে। এতে ফিও দিতে হবে দশবার (প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা)। তাই আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনলাইনকেই (ওয়েবসাইটের মাধ্যমে) বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা।

এদিকে, আবেদন করা কলেজগুলোর মধ্য থেকে এবার যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে একটি কলেজেই মনোনীত করা হবে একজন শিক্ষার্থীকে। আর মনোনীত ওই কলেজেই ভর্তি হতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে। যদিও আসন শূন্য ও যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে মাইগ্রেশনের সুযোগ রয়েছে শির্ক্ষাীদের। অবশ্য এবার মাইগ্রেশন হবে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) ভাবে। মাইগ্রেশনের জন্য আলাদা করে আবেদন নেয়া হবে না। প্রথমে পছন্দক্রম দিয়ে করা আবেদন থেকেই যোগ্যতা ও আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেশন হয়ে যাবে। তাই আবেদনের ক্ষেত্রে কলেজ পছন্দের ক্রম সাজানোটা গুরুত্বপূর্ণ বলছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিষিদ্ধ : নীতিমালায় অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ করেছে মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৮ এর উপ-অনুচ্ছেদ ৮.১ ও ৮.২ এ বলা হয়েছে- পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিবিহীন কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে কোন অবস্থাতেই ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না। একইভাবে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত শাখা এবং অননুমোদিত কোন বিষয়ে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না। সকল শিক্ষাবোর্ডকে এ সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম আজাদীকে বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। বোর্ড অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে কিনা তা ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা আহবান জানিয়েছি বিজ্ঞপ্তিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*