Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অবশেষে শামসুল-শাহজাহান চৌধুরী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

অবশেষে শামসুল-শাহজাহান চৌধুরী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

0045

নিউজ ডেক্স : সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া আংশিক, লোহাগাড়া) আসন ছাড়তে রাজী নন তাঁরা। দু’জনেই একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানান, আসনটিতে নির্বাচন করতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। একই আসনে অনেকটা নিজের একক সিদ্ধান্তে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী। জনৈক আবদুর রাজ্জাক শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জানেন না। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ছাড়াও চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনেও মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী।

জামায়াতে ইসলামীর তিনজন নেতা চট্টগ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা হলেন : জামায়াতে ইসলামের কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। এদের মধ্যে শাহজাহান চৌধুরী ও শামসুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসন থেকে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। আবার চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসন থেকেও শাহজাহান চৌধুরীর জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়েছে। আর জহিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) থেকে।

জামায়াতে ইসলামের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান দুই নেতা একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র কেনায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামের দীর্ঘদিনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেছে বলেও অনেকে ধারণা করছেন। একাধিক নেতা বলেছেন, অতীতে সাতকানিয়া আসন থেকে শাহজাহান চৌধুরী কিংবা শামসুল ইসলামের মধ্যে একজন নির্বাচনে অংশ নিলে অন্যজন তাঁর পক্ষেই কাজ করতেন। কিন্তু এবার দুইজনই প্রতিদ্বন্দ্বী। দু’জনেই বর্তমানে কারাবন্দী।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফয়েজ জানান, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নির্বাচনে করতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর শামসুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে শাহজাহান চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে শাহজাহান চৌধুরীর মনোনয়ন ফরম নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, দল থেকে শামসুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে শাহজাহান চৌধুরীকে প্রার্থী করেছি। গতকাল (সোমবার) কারাগারে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছি। তিনি চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সম্মতি দিয়েছেন।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও নির্বাচনের জন্য পুরোদস্তুর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দলটি। এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে বিশেষ নির্দেশনাও স্থানীয় নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে শাহজাহান চৌধুরী ও শামসুল ইসলাম কারাগারে অন্তরীণ। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতের সংসদ সদস্য ছিলেন। আর শামসুল ইসলাম ছিলেন ২০০৮ সালে। যদিও জামায়াতে ইসলাম ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছিল শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সাতকানিয়া থেকেও মনোনয়নপত্র নিলেন। এর মাধ্যমে দুই নেতার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিল।

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারির পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলটির নেতারা মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। নিবন্ধন না থাকায় এখন তাঁরা আর দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তাই হয় বিএনপির জোটে গিয়ে ধানের শীষে অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলাদা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ধর্মভিত্তিক দলটিকে নির্বাচনের ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়। গতমাসে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, জামায়াতের তিন নেতার পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সব ধরনের আয়োজনই শুরু করেছে জামায়াতে ইসলাম। এরমধ্যে দলের নেতাকর্মীদের জন্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৫ দফার নির্দেশনাও এসে গেছে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচন কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা, প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা, আসনভিত্তিক প্রচারণার জন্য কমিটি গঠন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বেশি করে সরকারবিরোধী প্রচার চালানো ইত্যাদি। এর বাইরে যেসব ভোটার বিদেশ আছেন, যারা ইতোমধ্যে মারা গেছেন তাদের চিহ্নিত করার জন্যও কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে দলীয়ভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্তটি দেওয়া হয়েছে তা হলো, চট্টগ্রামের সব আসনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও নগরীর ডবলমুরিং আসনে চলে আসা। অতীতেও জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা বাদ দিয়ে নিজেদের নেতারা যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, সেখানেই চলে যেতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর জামায়াতের এক নেতা জানান, বিএনপির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে নিজ শক্তির উপর ভর করে জয় ছিনিয়ে আনতে কাজ করবে জামায়াত। এর মাধ্যমে জোটে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করা হবে।

সূত্র : দৈনিক পূর্বকোণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*