
নিউজ ডেক্স: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা সংক্রান্ত ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অতিরঞ্জিত ছিল বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি ভারতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের এদেশে এসে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রফেসর ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। টেলিফোনালাপে এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই টুইট করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রফেসর ইউনূস।

তিনি ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতীয় নেতা ও তার দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন সরকারের প্রতি শুভ কামনা জানান এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০০৬ সালের নোবেলজয়ীর প্রশংসা করেন। তিনি জানান, তিনি তাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। মোদী আরও বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। ’
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করলে তখন প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘সংখ্যালঘুসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রতিবদ্ধ। ’
ভারতীয় মিডিয়ায় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের প্রতিবেদন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি নিয়ে অতিরঞ্জিত খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ’
তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানান এবং সংখ্যালঘুদের ইস্যু নিয়ে তাদের মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিবেদন তৈরির কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সারা দেশে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ’
এই টেলিফোন আলাপের বিষয়টি জানিয়ে মোদীও শুক্রবার (১৬ আগস্ট) তার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডিতে একটি পোস্ট দেন।
এতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের টেলিফোন কল পেয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও গতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও ফোনালাপে এসেছে জানিয়ে মোদী পোস্টে বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশে হিন্দু ও সব সংখ্যালঘুর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।’
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner