Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাতকানিয়ায় আধিপত্য বিস্তার, গভীর রাতে যুবলীগ নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ

সাতকানিয়ায় আধিপত্য বিস্তার, গভীর রাতে যুবলীগ নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : সাতকানিয়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এক যুবলীগ নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় তারা অন্তত অর্ধ-শতাধিক গুলি ছোড়ে।

এতে যুবলীগ নেতার বাবা-মাসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধরা হলেন মাহাবুবুল আলম (৬০), মমতাজ বেগম (৫০) ও মোঃ ঈসমাইল (২৯)। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার এওচিয়ায় ইউনিয়নের ভুত পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আজ শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) ভোরে তাহসিন আরফাত জিহান (২০) নামের একজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষেদর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি মোঃ আবু ছালেহর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। তাদের বিরোধের জের ধরে ইতিপূর্বে একাধিক বার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত বুধবার ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিকের অনুসারী আবু বক্কর, মোঃ তৌহিদ, মোঃ আরিফ, মোঃ মানিক প্রকাশ কালা মানিক ও মোঃ মানিক প্রকাশ ছোট মানিকের নেতৃত্বে ১২-১৪ জনের দল ভুত পাড়ায় গিয়ে এওচিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমানকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে মিজানুর রহমানকে না পেয়ে তার ছোট ভাই রেজাউল করিমকে মারধর ও তার দোকানের মালামাল তছনছ করে চলে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ নেতা মিজান তার ভাইকে মারধর ও দোকানের মালামাল নষ্ট করার ঘটনায় অংশ নেয়া নজরুল ইসলাম মানিকের অনুসারী কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদেরকে বকাবকি এবং দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা সংঘটিত হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে গালি-গালাজের এক পর্যায়ে গুলি বর্ষণ করে। এসময় তারা অন্তত অর্ধশতাধিক গুলি ছোড়ে। এতে মিজানুর রহমানের বাবা মাহাবুবুল আলম, মা মমতাজ বেগম ও চাচাতো ভাই মোঃ ঈসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার পর গুলিবিদ্ধদের উদ্ধারকরে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এদিকে, গতকাল ভোরে সাতকানিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে।

সাতকানিয়া থানার এসআই তাপস চন্দ্র মিত্র জানান, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের বাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনায় জড়িত কিছু লোক ভোরে ইউপি সদস্য আবু তাহেরের পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গাস্থ বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় ধাওয়া করে পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গার আলী চাঁন পাড়ার আবু জাফরের পুত্র তাহসিন আরাফাত জিহানকে আটক করা হয়।

এওচিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি এবং বঙ্গবন্ধ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি আবু ছালেহর পক্ষে থাকাটা আমার অপরাধ। এজন্য ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার তার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা আমাকে মারার জন্য ঘরে খুঁজতে আসে। ওই সময় আমাকে না পেয়ে আমার বাবা ও ছোট ভাইকে মারধর এবং দোকানের মালামাল তছনছ করে দিয়ে চলে যায়। পরের দিন সেই ঘটনার সাথে জড়িত কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে সন্তানদেরকে বুঝানোর জন্য তাদের অভিভাবকদেরকে বরে আসি। এতে তারা উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে রাতের অন্ধকারে আমার বাড়িতে এসে তান্ডব চালিয়েছে। মিজান আরো জানান, রাতে আমি এবং আমার চাচাতো ভাই ঈসমাইল বাড়ির গেইটের সামনে দাঁড়ায়। এসময় পূর্বে থেকে ওৎপেতে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক, ইউপি সদস্য আবু তাহের, বক্কর, পারভেজ, তৌহিদ ও আরিফসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তখন আমি দৌঁড়ে পালাতে পারলেও চাচাতো ভাই ঈসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়। আমাকে না পেয়ে তারা আমার বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এসময় বাড়ির সিঁড়ি ঘরের বেলকনিতে দাঁড়ানো আমার বাবা-মা গুলিবিদ্ধ হয়। আমার বসত ঘর লক্ষ্য করে তারা অর্ধ-শতাধিক গুলি চালায়। পরে এলাকার লোকজন সংঘটিত হয়ে ধাওয় করে তারা ২টি গাড়ি যোগে পালিয়ে যায়।

এওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক জানান, মিজানের সাথে আমার কোন ধরনের দ্বন্ধ নাই। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। কে বা কারা তার বাড়িতে গুলি করছে বলে খবর পেয়ে আমি ওসি সাহেবকে ফোন দিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই ওসি সাহেব আমার মোবাইলে ফোন করেন। আমি উনাকে ঘটনার বিষয়ে বলেছি। আসামীদের চিহ্নিতকরণ এবং গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছি। আর মোবাইলের কললিষ্ট চেক করলে বুঝতে পারবে এ ঘটনার সাথে আমার কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা। তিনি আরো জানান, কয়েকদিন আগে আবু ছালেহর কিছু লোক ইউপি সদস্য আবু তাহেরকে লোকজনের সামনে চড়-থাপ্পুড় মেরেছে। এ ঘটনায় তাহের বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। আমার মনে হচ্ছে ওই ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্বার্থন্বেসী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি মোঃ আবু ছালেহ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বেই যুবলীগ নেতা মিজানের বাড়িতে গুলি বর্ষণ করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে মিজান স্পষ্ট ভাবে চিনেছে। রাজনৈতিক বিরোধকে পরিবারে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। রাজনৈতিক ভাবে বিরোধ থাকলে সেটা রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করতে পারতো। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে গুলি করাটা কোন রাজনীতি হতে পারে না।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিযাধীন রয়েছে। আজাদী অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!