Home | ব্রেকিং নিউজ | রকি বড়ুয়াকে গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ‘লোহাগাড়া সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ’

রকি বড়ুয়াকে গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ‘লোহাগাড়া সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ’

image_printপ্রিন্ট করুন

এলনিউজ২৪ডটকম : উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের বিবিবিলা এলাকার রকি বড়ুয়াকে অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ‘লোহাগাড়া সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ’। রোববার (১০ মে) বিকেল ৩টায় উপজেলা সদরের বটতলী মোটর ষ্টেশনস্থ নাগরিক সমাজের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়ুয়া, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন হিরু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রীনিবাস দাশ সাগর, সাতকানিয়া- লোহাগাড়া বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের মাষ্টার গোপাল বড়ুয়া, চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শফিকুর রহমান, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুনা বড়ুয়া, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক রিদওয়ানুল হক সুজন, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু সালেহ, সাতকানিয়া- লোহাগাড়া বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তুষার বড়ুয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু বড়ুয়া প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘লোহাগাড়া সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ’র পক্ষে চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছহাব উদ্দিন। তাঁর লিখিত বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ :
আপনারা ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের নোয়ারবিলা গ্রামের বলি-র পাড়ার মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র মহিউদ্দিন একজন কৃষক। মৎস্যচাষ ও হালচাষ করেই তাঁর সংসার চলে। সে পুকুরে অন্যান্য মাছ চাষের পাশাপাশি শখের বশে বেশকয়েকটি রুই-কাতাল মাছ খাদ্য ও সেবাযতœ দিয়ে পুষে বড় করে আসছিলেন। মাছগুলির প্রতিটির ওজন ৮ কেজি, ১০ কেজি, ১২ কেজি ও ১৫ কেজির মতো হবে। তাঁর এসব শখের মাছের প্রতি লোভ পড়ে যায় চরম্বার বিবিবিলা গ্রামের বড়ুয়া পাড়ার জয়সেন বড়ুয়ার পুত্র বৌদ্ধ ধর্মীয় ভান্তে নামধারী ভন্ড, টাউট, প্রতারক ও সন্ত্রাসী রকি বড়ুয়ার। বর্তমানে সারা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশও যখন প্রাণঘাতী করোনা মহামারীর সংক্রমণ প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে এবং এর প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সারাদেশে লকডাউন চলছে। এ লকডাউন ভেঙ্গে গত ৩ মে শনিবার সকাল ৯টায় মহিউদ্দিনসহ তার ভাইদের যৌথ মালিকানাধীন পুকুরে ২৫/৩০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক মৎস্য নিধন করে তা বস্তাভর্তি করতে থাকেন রকি বড়ুয়া ও তার বাহিনী। এমন সময় খবর পেয়ে মহিউদ্দিন দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এভাবে মাছ নিধনে বাঁধা দিলে ক্ষেপে যান রকি বড়ুয়া। এসময় মহিউদ্দিনসহ তাঁর কয়েকজন প্রতিবেশীকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করত: কিছুক্ষণ পর আসিয়া দেখিয়া নেবে মর্মে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি প্রদর্শন করিয়া প্রায় ৭/৮ মণ মাছ বস্তাভর্তি করিয়া নিয়া যায়। এর পরই ৭/৮টি মোটরসাইকেলযোগে রকি বড়ুয়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা চরম্বা বিবিবিলাস্থ সিবিএম-থ্রি ব্রিক ফিল্ডে এসে চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিনকে মোবাইল ফোনে রিং দিয়া মহিউদ্দিন ও তার বড় ভাই মো: ওসমানকে সেখানে নিয়ে যেতে বলেন। অন্যথায় ব্রিকফিল্ডে থাকা তাদের শিয়ারী এস্কেভেটার গাড়ীতে আগুন দিয়া পোড়াইয়া দিবে। ফোন পাওয়ার পর ওইদিন রাত ৮টার দিকে আসহাব উদ্দিন উক্ত ব্রিকফিল্ডে মহিউদ্দিনকে নিয়ে গেলে তাদের দুইজনকে দেখার সাথে সাথেই রকি বড়ুয়ার নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা আসহাব উদ্দিনকে ঝাপটাইয়া ধরিয়া এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে থেতলা ও নিলা-ফুলা জখম করে। ওই সময় মহিউদ্দিনকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে জোরপূর্বকভাবে আসহাব উদ্দিন ও মহিউদ্দিন তারা দুজনকেই মোটরসাইকেলে তুলিয়া চরম্বা বিবিবিলাস্থ সেলিমের মুদির দোকানের সামনে নিয়া যায়। সেখানে চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিনকে বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করিয়া লাশ গুম করার হুমকি প্রদর্শন করে তাদের মোবাইল নিয়ে ফেলে। এসময় ঘটনাস্থলে তাদেরকে প্রায় ৫ ঘন্টা জিম্মি করে রাখে রকি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

পরে এই জিম্মিদশা ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় চরম্বা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার শফিকুর রহমান থানা পুলিশের কাছে ফোন করে খবর জানালে থানা পুলিশের একটি টিম ওইদিন রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, চলমান রমজান ও করোনার লকডাউনেও সন্ত্রাসী রবি বড়ুয়া কর্তৃক সংঘটিত এ বর্বরোচিত হামলা ও জিম্মি ঘটনার জন্য রকি বড়ুয়াকে প্রধান করে চিহ্নিত ১২জনের বিরুদ্ধে গত ৪ মে মহিউদ্দিন বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শ্রদ্ধেয় জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইয়েরা :
ঘটনা এখানেই শেষ নয়, পবিত্র রমজান ও চলমান লকডাউনেও জোরপূর্বকভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় অন্যজনের পুকুরের মৎস্যনিধন করে লুট, এতে বাঁধা দিতে গিলে সন্ত্রাসী হামলা, চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিন ও কৃষক মহিউদ্দিনকে অপহরণ করে ৫ ঘন্টাব্যাপী জিম্মি করে রাখা এবং রাত তিনটায় পুলিশ এসে জিম্মিদশা থেকে দুইজনকে উদ্ধার সহ এসব বর্বরোচিত ঘটনা থেকে নিজে বাঁচতে এবং তার লালিত ক্যাডার বাহিনীকে রক্ষা করতে রকি বড়ুয়া নানা ফন্দি আঁটেন।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের হাতে স্টাবলিষ্ট যে বৌদ্ধ বিহারটি এবং যে বিহারটি দিয়ে দেশ-বিদেশে তার একমাত্র আয়-রোজগারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন সেই প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বিবিবিলা শান্তি বিহারটিই ভেঙ্গে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়ে দেশ-বিদেশের সব মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে জামায়াতী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন। এবং এ ঘটনায় মহিউদ্দিন-আসহাব উদ্দিনদের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে ঢুকিয়ে তার মৎস্য নিধনের প্রতিবাদ করার প্রতিশোধ হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিবেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ওইদিন ভোর ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে স্থানীয় কায়সার হামিদের সাথে রকি বড়ুয়া ও শহিদের গোপন ফোনালাপ ফাঁস হয় এবং পরে বিহার ভাংচুর করেন। ঘটনার পরদিন যা তাদের সাথে রকির ফোনালাপের তিনটি অডিও স্থানীয়ভাবে ভাইরাল হয়। মুলত সেই অডিও, ফোনালাপ সবার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে রকি বড়ুযার বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের নাটক টি। এরপরও এ ঘটনায় উপরের মহলকে দিয়ে চাপসৃষ্টি পূর্বক রকি বড়ুয়া তার বাবা জয়সেন বড়ুয়াকে বাদী করে দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

কে এই রকি বড়ুয়া, তাঁর ক্ষমতার উৎস কি?
চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বিবিবিলা গ্রামের বড়ুয়া পাড়ার অধিবাসী জয়সেন বড়ুয়ার সন্তান রকি বড়ুয়া। তাঁর বয়স (৩৭)। তাঁর মায়ের নাম রেনেকা বড়ুয়া। রেনেকা ও জয়সেন বড়ুয়ার এক ছেলে এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে রকি সবার বড়। বোন হ্যাপি বড়ুয়া। রকি বড়ুয়া ২০০১ সালে চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও দুই সাবজেক্ট এ রেফার্ড আসলে হতাশায় পড়ালেখায় আর এগুতে পারেনি। এখানেই মুলত পড়া-লেখার ইতি টানেন তিনি। এরপর ৫/৬ বছর ভবঘুরে জীবন-যাপনের পর ২০০৭/২০০৮ সালের দিকে কোন এক আতœীয়ের মাধ্যমে ভারত চলে যান। ভারতে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ভান্তে হয়ে গায়ে লাল কাপড় পরা শুরু করেন রকি বড়ুয়া। এর পর বৌদ্ধ ভান্তে (ভিক্ষু) হিসেবে তার পথচলা শুরু। পরে ভিক্ষু সেজে দিল্লীতে জগৎজ্যোতি বিহারে আশ্রয় নেন তিনি।

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ বছর ধরে রকি বড়ুয়া বাংলাদেশ-ভারত আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন। এরই মধ্যে হঠাৎ ধর্মীয় রীতি ও ভান্তের ধর্মীয় শপথ ভেঙে বিগত ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ বিয়ে করে ফেলেন রকি বড়ুয়া। বর্তমানে সে এক কন্যা ও এক ছেলে সন্তানের জনক। সাংসারিক জীবনে চলে গেলে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ভিক্ষুত্ব পরিচয় না থাকলেও রকি বড়ুয়া ঠিকই নিজেকে আজ পর্যন্তও ধর্মীয় গুরু ভিক্ষু দাবী করে চলেছেন।

সে প্রতিবারই বাংলাদেশ থেকে ভারত যাওয়ার সময় গায়ে লাল কাপড় লাগিয়ে ভিক্ষু সাজেন, আর বাংলাদেশে প্রবেশ করতেই লাল কাপড় খুলে প্যান্টশার্ট পরেন। ভারত-বাংলাদেশ এভাবেই চলে তার প্রতারণা। ভারতের দিল্লীতে রকি বড়ুয়ার আশ্রিত বিহারটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ধর্মবীর পাল (রাজ্যের সংসদ সদস্য) এর সাহচর্যে থাকার সুবাধে ভারতের বিজেপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী-এমপি এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও ছবি তোলার সুযোগ হয় তার। বাংলাদেশে এসে সেই ছবিগুলোকে পুঁজি করা শুরু করেন রকি। এবার বাংলাদেশে প্রচার করতে থাকেন দিল্লীর রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের সবার তার সাথে দহরম-মহরম ও অন্তরঙ্গতা। সেগুলো শুনে এবং দেখে এলাকার লোকজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অনেকেই সমীহ করতে থাকেন রকি বড়ুয়াকে। প্রতিষ্টিত হয় লোহাগাড়ার সন্তান রকি বড়ুয়ার অনেক ক্ষমতা ভারতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। শুধু তাই নয়, রকির ক্ষমতার পরিধি বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

এছাড়াও এসব ছবি প্রদর্শন করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সাথেও গড়ে উঠেছে তার সুসম্পর্ক। তাদের সহযোগীতায় ছবি তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের সাথে। যে ছবিগুলো ভারতে প্রদর্শিত হওয়ার পর সেখানকার মানুষও রকি বড়ুয়াকে ক্ষমতাধর মানুষ হিসেবে ভাবতে থাকে।

এসবকে পূঁজি করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মনোনয়ন নিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে রকি বড়ুয়া তার পেছনে ঘুরিয়েছেন অন্তত ডজনখানেক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে। এজন্য কারো কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও রকি বড়ুয়া নিজেকে বাংলাদেশে ভারতের এজেন্ট দাবী করে। সে এলাকায় বলে বেড়ায়, ভারত তাকে বাংলাদেশ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কি করতে চাই , মিয়ানমার থেকে কেন মানুষ এখানে চলে এলো, মিয়ানমার কি করতে চায় এসব দেখভালের দায়িত্ব নাকি ভারত তাকে দিয়েছে। এছাড়াও সবচেয়ে আর্শ্চয্যের বিষয় যে, সে লাল কাপড়টি ক্ষণে ক্ষণে খোলেন আর পরেন। বাংলাদেশে থাকলে সে প্যান্টশার্ট পরেন আর ভারতে গেলে লাল কাপড় গায়ে লাগান। দিল্লিতে রকি যে আশ্রমের বড় ভান্তের তত্ত্বাবধানে থাকতেন ওই ভান্তে মারা যাওয়ার পর সেই আশ্রমটিও রকি দখল করে নেন। সে আশ্রমে বাংলদেশ থেকে লোকজন নিয়ে গিয়ে তাদেরকে লাল কাপড় পরিয়ে জাপান, চীন, থাইল্যান্ড ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নত রাষ্টে পাঠাতে থাকেন। ভান্তে সাজিয়ে আদম পাচারের বিষয়টি ধরা পড়লে ভারত সরকার তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। বাতিল করে দেয় ভান্তে পরিচয়ে করা পাসপোর্টটি। সেই থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে বিলাসী জীবন-যাপন করছেন রকি বড়ুয়া। চট্টগ্রাম শহরে তার রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও ঢাকায় এপার্টমেন্ট। দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে রেখেছেন কক্সবাজারের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে।

ভারত সরকারের সাথে কথিত সম্পর্কের গালগল্প ছড়িয়ে প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলে এখন তা পূঁজি করছেন। সেই পূঁজিতে চরম্বাসহ লোহাগাড়ায় গড়ে তুলেছেন বিশাল ক্যাড়ার বাহিনী, ত্রাসের রাজত্ব, একচ্ছত্র আধিপত্য। যত্রতত্র মৎস্যনিধন, বালু মহাল দখল ও জমি দখলসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করছেন না।

মৎস্যনিধন, বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ও সাঈদীপুত্রের সাথে পোপন বৈঠক একই সুত্রে গাথা?
আপনাদের সামনে উপস্থাপনকৃত তথ্যে পরিস্কার হয়ে যায় যে, চরম্বার নিরহ কৃষক মহিউদ্দিনের পুকুরে মৎস্য নিধন, নিজেই নিজের বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করে মামলা দায়ের ও মধ্যরাতে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীপুত্রসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাথে তার বাড়ীতে গোপন বৈঠক একই সুত্রে গাথা। এছাড়াও রকি বড়ুয়ার সাথে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নিষিদ্ধ দল জামায়াতে ইসলামীর কানেকশান অনেক পুরানো। এলাকায় স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও ক্যাড়ারদের গোপনে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে অনেক পুরনো। বিভিন্ন সময়ে চরম্বা বিবিবিলাস্থ তার গড়া বৌদ্ধ বিহারে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের যাতায়াত রযেছে। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল বিশেষ গোপন মিশন নিয়ে চরম্বা বিবিবিলাস্থ তার বাড়ীতে আসেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে কারাগারে আটক যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ প্রাপ্ত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদী ও সাঈদীর শীর্ষ মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ ১০/১২ জন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলমান করোনার সংকটময় মুহুর্তেও বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের দামি গাড়ী নিয়ে লোহাগাড়ায় অজপাড়াগাঁ বিবিবিলাস্থ রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে এসে সাঈদীপুত্রের এমন রাতভর গোপন বৈঠক এবং বৈঠক শেষে সকালে প্রকাশ্যে বৌদ্ধ্য বিহার পরিদর্শন ও ফটোসেশন করে ঢাকায় ফিরে যাওয়া নিয়ে লোহাগাড়াবাসীর কাছে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাঈদীপুত্রের সাথে গোপন বৈঠক প্রসঙ্গে সম্প্রতি অনলাইন একটি পত্রিকার সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রকি বড়ুয়া ‘বৈঠকটি সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সাঈদীকে কারগার থেকে মুক্ত করে জামায়াত দলটি ভাঙ্গার পরিকল্পনা’ বলে দাবী করলেও মুলত বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়ে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে জামায়াতী এজেন্ডা বাস্তবায়নই ছিল এ গোপন বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত। আর মহিউদ্দিনের পুকুরে জোরপূর্বক মৎস্যনিধন, সন্ত্রাসী হামলা, ৫ ঘন্টা জিম্মি করে রাখা এবং মিথ্যা মামলা দেয়া ছিল বিহার ভাংচুরের পূর্বপরিকল্পিত একটি ইস্যু মাত্র।

বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের নাটক সাজিয়ে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী :
রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে মধ্যরাতে জামায়াতের শীর্ষ নেতা মাওলানা সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদী ও সাঈদীর শীর্ষ মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে গোপন বৈঠকের ছবি, কৃষক মহিউদ্দিনের পুকুরের মাছ লুট করে তাদের ওপর হামলার ঘটনায় ফেঁসে যাওয়ায় নিজেকে রক্ষা করতে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনার চক্রান্তের ফোনালাপের অডিও রেকর্ডিং এলাকায় ভাইরাল হওয়ায় জনরোষের ভয়ে রকি বড়ুয়া ও তার ক্যাডার বাহিনী বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এছাড়াও গোপন বৈঠকের ছবি ও বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের পূর্বে কয়েকজনের সাথে রকির ফোনালাপের অডিও রেকর্ডই প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে প্রমাণিত হয় যে রকি নিজেই বিহারটি ভাঙচুর করে নাটক সাজিয়ে চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন কোম্পানি ও সহ-সভাপতি মৌলানা হেলাল উদ্দিনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সে নিজেই রক্ষা পেতে চাই। তাই আজ সাংবাদিক সম্মেলনে জাতির বিবেক আপনারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কাছে অবিলম্বে রকি বড়ুয়ার বাবা জয়সেন বড়ুয়া বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় দায়েরকৃত মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলা প্রত্যাহার করে ভন্ড, প্রতারক, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ রকি বড়ুয়া ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সম্মেলনে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!