Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১৮ জনের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১৮ জনের মৃত্যু

image_printপ্রিন্ট করুন

বজ্রপাত

নিউজ ডেক্স : দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও কালিগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে হরিণাকুণ্ডু ও কালিগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের টুলু মন্ডলের ছেলে মিরাজুল ইসলাম (৩৫), পারবর্তীপুর গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে আমানউল্লাহ (৪৭) ও কালিগঞ্জ উপজেলার মোল­াপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন (৪৫)। হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ছোট মনোহরদী ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের মরদাসাদী গ্রামে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু ঘটে। নিহতরা হলেন জামির হোসেন (৪২) উপজেলার ছোট মনোহরদী এলাকার আফাজউদ্দিনের ছেলে ও মরদাসাদী এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুবেদা বেগম (৪০)। আড়াইহাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের গোয়ালনগর ও উত্তর বলশাহি ঢালীকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ঢালীকান্দি গ্রামের দুলাল সরদারের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪০) ও তাদের ছেলে ইয়াসিন সরদার (১৫)। আহতদের চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী বেপারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কানাইডাঙ্গা ও কুতুবপুর মাঠে বজ্রপাতে স্কুলছাত্র আব্দুল মালেক (১০) ও কৃষক আব্দুস সামাদ (২৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল মালেক উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে এবং কানাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র ও আব্দুস সামাদ একই উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। দামুড়হুদা থানা পুলিশের ওসি আবু জিহাদ মো. ফকরুল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীণগরে বজ্রাঘাতে খোদেজা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শ্যমগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত খোদেজা বেগম ওই গ্রামের কবির মিয়ার স্ত্রী। নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম শিকদার বজ্রাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

নড়াইলে বজ্রপাতে জুলফিকার (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি স্থানীয় পাইকমারী বিলে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তি সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের পাইকমারি গ্রামের বাসিন্দা।

ময়মনসিংহে বজ্রপাতে মাহমুদুল হাসান তামিম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। নগরীর গোয়াইলকান্দা এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে তামিম ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বজ্রপাতে কোহিনুর বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দি মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কোহিনুর বেগম মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল হালিমের স্ত্রী। সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ হাসান রাজিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে সাইফুল ইসলাম (১২) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বৈষারপাড় (বালুচর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার সহোদর ডালিম মিয়া (২৮)। নিহত সাইফুল বৈষারপাড় (বালুচর) গ্রামের আশদ আলীর ছেলে। সে স্থানীয় মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় ডালিমকে সিলেট ওসমানি মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক বজ্রপাতে একই উপজেলার সোনাপুর গ্রামের জামেনা বেগম (৩৮) নামে এক নারী আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ উপজেলার লস্করপুর এলাকায় আরিয়াল বিলে বজ্রপাতে মো. ভিখু (২৫) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। মো. ভিখু কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের সাংকু মিয়ার ছেলে। তিনি লস্করপুর গ্রামের জয়নাল শেখের বাড়িতে ধান কাটতে এসেছিলেন। শ্রীনগর থানা পুলিশের ওসি এসএম আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া বটবাড়ি গ্রামে বজ্রপাতে শামীম খন্দকার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নব চন্দ্র (৩২) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের পিয়ারগাঁও গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নব চন্দ্র ওই গ্রামের বেমা চন্দ্রের ছেলে।

মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে আবদুল বাছিত (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বাছিত উপজেলা সদরের জাতুকর্ণপাড়ার মজম উল্লাহর ছেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!