Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রাম যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

চট্টগ্রাম যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এবার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে প্রার্থী সংখ্যা বেশি। উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় প্রার্থী সংখ্যা যত মহানগরে তার দ্বিগুণ। মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক এক ঝাঁক ছাত্র ও যুবনেতা মহানগর যুবলীগের জন্য বায়োডাটা জমা দিয়েছেন। প্রার্থীদের দেয়া বায়োডাটা থেকে দলের দুর্দিনে কারা ছিলেন, কারা মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সক্রিয় ছিলেন এবং পারিবারিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলসহ সব কিছু বিবেচনা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

চট্টগ্রামের তিন ইউনিটে যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫৪ প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তাদের বায়োডাটাসহ প্রস্তাবক-সমর্থক নিয়ে প্রার্থিতা উপস্থাপন করেছেন। এরমধ্যে মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে ২৮ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬৫ জন, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন এবং উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে ৭ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তাদের প্রার্থিতা তুলে ধরেছেন।

মহানগর যুবলীগের ২৮ জন সভাপতি প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিবেচনায় আছেন সাবেক মন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম এ মান্নানের ছেলে নগর যুবলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম দিদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য দিদারুল আলম দিদার, বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি যুবনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য ও ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব।

এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্যানেল মেলানোর জন্য উপরের নামগুলোর মধ্য থেকে যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য দিদারুল আলম দিদার, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব এবং বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি-যুবনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের নাম সাধারণ সম্পাদক পদেও বিবেচনা করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের সমন্বয় করার কথা শোনা যাচ্ছে।

তবে নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েক জনের নাম বেশ আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আসিফ মাহমুদ, ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরশেদুল আলম বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য সুরনজিৎ বড়ুয়া লাবু, নগর যুবলীগের সাবেক সদস্য (চন্দন-মশিউর কমিটি) ও সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সম্পাদক মন্ডলীর সাবেক সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য হাফেজ কে.এম.শহীদুল কাওসার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন, নগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আনোয়ার, সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রাজীব হাসান রাজন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগ : দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে যে নামগুলো বিবেচিত হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ ফারুক, বড় উঠান ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদার, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থসারথী চৌধুরী।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিন্টু, বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, বেসরকারি কারা পরির্দশক আবদুল হান্নান লিটন। এছাড়াও কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সোলায়মান তালুকদার, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাজীব দাশ হিরো।

উত্তর জেলা যুবলীগ : চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে যাদের নাম কেন্দ্রীয় নেতাদের বিবেচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ও হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির হায়দার বাবুল, উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি নুরুল মোস্তফা মানিক, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিবুল আহসান সুমন, মুজিবুর রহমান স্বপন, চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হায়দার বাবু, এড. দীপক দত্ত, ইঞ্জিনিয়ার হাসান মুরাদ।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম কেন্দ্রীয় নেতাদের বিবেচনায় আছে তারা হলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য রাশেদ খান মেনন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক সাংসদ আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে এস এম আল নোমান, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তৈয়ব, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার, উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুর আলম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাহরাইন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল করিম, আফসার সরকার প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এসব নাম শোনা গেছে। হয়তো আরো কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে কারা আসছে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নতুন নেতৃত্বে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮, ২৯ ও ৩০ মে চট্টগ্রামে তিন ইউনিটের সম্মেলনে (মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের) প্রথম অধিবেশনের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর অধিবেশন করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কাউন্সিলর অধিবেশনে যুবলীগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শাসম পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল তিন ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন এবং তাদের প্রস্তাবক, সমর্থক কারা জানতে চেয়েছেন। এ সময় প্রত্যেক প্রার্থীর নামসহ বায়োডাটা নিয়ে গেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। চলতি সপ্তাহে কেন্দ্রীয় নেতারা বায়োডাটা নিয়ে বসবেন বলে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। -আজাদী প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!