Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কঠোর লকডাউনেও এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ

কঠোর লকডাউনেও এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : করোনাকালীন কঠোর লকডাউনের মাঝেও এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন স্থাপনের কাজ। লক্ষ্যমাত্রা ২০২২ সালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো। প্রকল্পের আওতায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ চলছে। একই সাথে কক্সবাজারে আইকনিক স্টেশনসহ ৯টি স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

এই প্রকল্পে রয়েছে ৩৯টি বড় সেতু, ১৪৫টি ছোট সেতু। আছে ৯৬টি লেভেল ক্রসিং। এগুলোর নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলেছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৫৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী। গতবারের লকডাউনে প্রকল্পের পুরো কাজ বন্ধ থাকলেও এবারের লকডাউনে সমানতালে চলছে রেললাইনের পাশাপাশি সেতুসহ লেভেল ক্রসিংয়ের কাজ। প্রকল্প কাজে এবার বিদেশিরাও রয়েছে। রয়েছে দেশীয় শ্রমিকেরাও।

প্রকল্প কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সহকারী প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, লকডাউনের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে লেবার কম, তাই কাজের গতিও একটু কম। তারপরও বিভিন্ন স্পটে কাজ চলছে। রেললাইনের কাজ যেমন চলছে, তেমনি ব্রিজ-কালভার্টের কাজও সমানতালে চলছে।

প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। এখনো পর্যন্ত যে অগ্রগতি তা ভালোই। প্রথম ধাপে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটারের কাজ চলছে। ১০২ কিলোমিটার জুড়ে স্পটে স্পটে কাজ চলছে। গতবারের লকডাউনের সময় কাজ অনেকটা বন্ধ ছিল। এবারের লকডাউনে বন্ধ নেই। বিদেশিরা গতবার যখন দেশে গিয়েছিলেন তখন টিকা দিয়ে এসেছেন। তাই এবার তারা দেশে যাননি। এখন তারা প্রকল্প এলাকায় কাজ করছেন। শ্রমিকেরাও এলাকাভিত্তিক শেডে থেকে কাজ করছে। বাইরে কোথাও যেতে হচ্ছে না।

প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বর্ষণে কাজ বন্ধ ছিল। এবার কাজ চলবে। রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ হয়ে গেছে। রাস্তা উঁচু হয়ে গেছে। ব্রিজের নিচের অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এখন উপরের অংশের কাজ চলছে। বর্ষাকালে উপরের অংশের ফাঁকে ফাঁকে কাজ চলবে। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের মাঝামাঝি। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৯১ একর।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রেলপথ সিঙ্গেল লাইন রয়েছে। এ অংশটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে চলমান প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ঢাকা-কক্সবাজার পর্যটন ট্রেন পরিচালনায় কোথাও বিঘ্ন না ঘটে বা গতি কমাতে না হয়। সরাসরি এ ট্রেনটি ঢাকা-কক্সবাজার চলাচল করতে পারবে।

প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর করোনায় কাজে গতি কিছুটা কম ছিল। কাজ দ্রুত শেষ করতে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত লোকবল, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। এখনো সেই গতিতে কাজ চলছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কক্সবাজারসহ তিনটি অত্যাধুনিক রেলস্টেশনের নির্মাণকাজও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। লাইন স্থাপনের সঙ্গে স্টেশন ভবন, সিগন্যাল ব্যবস্থা, লেভেল ক্রসিং এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনার কাজও শেষ হবে। এ প্রকল্প কাজ দুটি লটে ভাগ করা হয়েছে। চীনের চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি) ও দেশীয় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিআরইসি) ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি দুটি লটে কাজ করছে।

এই প্রকল্পটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সাথে সংযোগ স্থাপন করবে। আর পর্যটন শহর কক্সবাজার আসবে দেশের রেল নেটওয়ার্কের আওতায়। বর্তমান সরকার কক্সবাজারকে পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত এক যুগে অত্যাধুনিক প্রায় চার শতাধিক যাত্রীবাহী কোচ ও প্রায় অর্ধশতাধিক লোকোমোটিভ ক্রয় করা হয়েছে। এসব কোচ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটারে চলার কথা। কিন্তু প্রায় ৮০ শতাংশ পথই জরাজীর্ণ। ফলে ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কারের আগে এসব ইঞ্জিন-কোচ কেনার কারণে মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ১১৮ কিলোমিটার ডাবল লাইন আগে থেকে রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে তিনটি প্রকল্পে ১৩১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ হয়েছে। বাকি ৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণকাজ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিরতিহীন পর্যটন ট্রেনসহ দ্রুতগতি সম্পন্ন একাধিক ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!