ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অরক্ষিত ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন পালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা

অরক্ষিত ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন পালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা

K H Manik Ukhiya Pic 04-03-2018 (2)

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেদেশের উগ্র সেনাবাহিনীর সহিংসতার মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অরক্ষিত ভাবে বসবাস করছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ১৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছে তারা। উখিয়া বন রেঞ্জের ৫ হাজার একর বনভুমি ধ্বংস করে পাহাড়-পর্বত কেটে ক্যাম্প তৈরি করে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারের পাশপোর্ট অধিদপ্তরের গননাও তথ্যানুযায়ী ১০লাখ ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষও শিশু নিবন্ধিত হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো অরক্ষিত তথা কোন ধরনের সীমানা প্রাচীরে আবদ্ধ না থাকায় প্রতিদিন যে যার মত করে চলাফেরার সুযোগ পেয়ে ক্যাম্প থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে কুতুপালং, মধুরছড়া, মাছকারিয়া, শিলেরছড়া, পাতাবাড়ী, লম্বাঘোনা, দরগাহবিল, হাঙ্গরঘোনা, আজুখাইয়া, তুলাতলী, ডেইলপাড়া, করইবনিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা উপ-সড়ক দিয়ে রোহিঙ্গারা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। জানা যায়, গত ১মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গারা প্রতিদিন এসব গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট দিয়ে সিএন্ডজি-টমটম ভাড়া করে সোজা কক্সবাজারও রামুতে ঢুকে পড়ছে। সেখান থেকে দুরপাল্লার যানবাহন করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে চলে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জনান। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংছড়ির তমুব্রু সীমান্তে হঠাৎ অতিরিক্তি সেনা মোতায়েন, ভারী অস্ত্রসস্ত্র মজুত, ব্যাংকার নির্মাণসহ মাইকিং করে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়। এরপর থেকে জিরো পয়েন্ট থাকা রোহিঙ্গারা সরাসরি কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন অন্যত্র চলে যাওয়া শুরু করেছে। এছাড়াও উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা যেভাবে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। লাখ লাখ রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের মহাসড়কের পাশে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ পেয়ে অরক্ষিত ক্যাম্প থেকে সরাসরি বের হয়ে যাত্রীবাহি গাড়ীতে করে চলে যাচ্ছে যেখানে সেখানে। বিশাল এ রোহিঙ্গা গোষ্টি মাসের পর মাস প্রধান সড়কে রাস্তার দুইপাশে বসবাস করার সুবাদে চেনা জানার পাশাপাশি সব কিছু নখ দর্পণে। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৫ আগষ্টের পর রোহিঙ্গারা বানের পানির মতো এসে উখিয়া এবং টেকনাফে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের খাবার সামগ্রী ও সাহায্য করতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ছুটে আসে দেশের বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী কর্তা ব্যাক্তিরা। তখন ত্রানের ঢলে সয়লাব হয়ে পড়ে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের মাঝে ঢালাও ভাবে ত্রাণ বিতরণের খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে মিয়ানমারে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও দ্রুত চলে আসে। একশ্রেণীর মৌলবাদী গোষ্টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে ত্রাণ বিতরনের নামে নগদ টাকা বিতরণ করা শুরু করলে এক নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয় প্রশাসন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খায়। অবশেষে প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গাদের দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। প্রায় ১সপ্তাহের মধ্যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃংখলা ফিরিয়ে আনেন। এদিকে রোহিঙ্গারা বর্তমানে সাময়িকভাবে ১৩টি ক্যাম্পে অবস্থান করলেও তাদের মাঝে কোন ধরনের শৃংখলা নেই। তারা প্রতিদিন ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। অভিজ্ঞমহল মনে করেন গত ৬ মাসে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী পুরুষও শিশু ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে বায়ুমেট্রিক পদ্ধতির পর রোহিঙ্গারা সেই গননার হিসাব অনুযায়ী ক্যাম্পে আছে কিনা তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মনে করেন সচেতনমহল। অন্যথায় এ রোহিঙ্গারা সারাদেশে অবস্থান নিয়ে যেকোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার দাবী উঠেছে। উখিয়া-টেকনাফ থেকে সরিয়ে নিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরিত করা দাবী তুলেছেন স্থানীয় উখিয়া-টেকনাফের মানুষ। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা দিনদিন বেপরোয়া উঠছে, তাদরে অবস্থান পর্যটন সহ কক্সবাজার জেলায় হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের মহাসড়কের পাশে থাকায় তারা রাতদিন বিভিন্ন যানবাহনে করে ক্যাম্প থেকে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা এখন প্রশাসনের কাছে কঠিন হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা দের উখিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও বাঁধাগ্রস্থ হতে পারে তিনি মনে করেন। তাই এসব রোহিঙ্গাদের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা না হলে কক্সবাজারের মানুষ চরম হুমকিতে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!