Home | উন্মুক্ত পাতা | সুরক্ষিত হোক মানবাধিকার

সুরক্ষিত হোক মানবাধিকার

z
অধ্যক্ষ এম সোলাইমান কাসেমী : যুগে যুগে দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার যেমন হয়ে আসছে তেমনি অত্যাচারীদের প্রতিরোধ করার জন্য মানবতা প্রেমিরাও এগিয়ে এসেছে সর্বদাই। মানবতার কল্যাণে, অসহায়, নিপীড়িত, দুস্থ জনতার পাশে সহানুভূতি ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসাই মানবাধিকার কর্মীদের আদর্শ। মানবাধিকার কর্মী সকল বিবেকবান ও হৃদয়বানদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে মানবাধিকার বাস্তবায়ন হোক ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে। মানুষের অধিকার হরণের নিরন্তর খেলায় সারা দুনিয়া জুড়ে যুদ্ধ বিগ্রহ, শোষণ, নির্যাতন, নিস্পেষণ সহ-অস্থিরতা, হত্যা, অপরাধ সব বিষয়াদি দিনে দিনে বেড়ে চলছে। আজ যদি আমরা পৃথিবীর দিকে চোখ ফেরাই তবে দেখতে পাবো দেশে দেশে যুদ্ধ চলছে। মিয়ানমারে মুসলমানদের পুড়ছে, ইরাক জ্বলছে, জ্বলছে আফগানিস্তান, সিরিয়াসহ অনেক দেশ। ধনীক শ্রেণী গরিব শ্রেণীর উপর শোষণ আর নিষ্পেষণের যাঁতাকল চালাচ্ছে। শাসক শ্রেণী আইন ও বিচার বিভাগ কুক্ষিগত করে মানুষের ন্যায্য বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করছে। ফলে মানবাধিকার বধের ঘটনা সর্বত্র নানারুপে, নানা আঙ্গিকে আর নানা মাত্রায় বিরাজ করছে। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাক স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকার গুলোর পাশাপাশি মর্যাদাসম্পন্ন স্বাভাবিক জীবন ও মৃত্যুর অধিকারও যদি সংযুক্ত করা হয়, তবে মানবাধিকার হয় বলে আমার বোধ হয়। একজন মানুষ ভাতের অধিকার পাবে, শিক্ষার অধিকার পাবে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের অধিকার পাবে, বাক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ধর্মীয় অধিকার পাবে। এটাই স্বাভাবিক, এটাই মানবাধিকার। আমরা যদি আমাদের দেশের প্রেক্ষিতেও পর্যবেক্ষণ করি তবে দেখতে পাবো, ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা বোনের বলিদান, কোটি মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন বাংলাদেশ এখনো দারিদ্র্যে আর ক্ষুধায় জর্জরিত এক দেশ, এখনো এদেশের প্রত্যেক শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা হয়নি, যুবকের চাকুরী ও কর্মসংস্থান হয়নি, এখনো মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি, বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৭ কোটি মানুষের মানবাধিকার পুরোপুরি সুরক্ষার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। মানুষ স্বাভাবিক জন্ম ও মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। মানুষ চায় মানুষের মতো মর্যাদা সম্পন্ন জীবন। আর এসব নিশ্চয়তার জন্য মানুষ সৃষ্টি করেছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকেই তাই মানুষের অধিকার ও মানবাধিকারের রক্ষা কবচ হয়ে কাজ করতে হবে। আজ সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশের মানুষ বিশেষত তরুণ প্রজন্ম মানবাধিকার বিষয়ে অনেক সচেতন হয়ে উঠেছে। আজ দেশের জেলায় জেলায় দেখা যায়, অনেকেই মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে মানুষের অধিকার আদায়ের ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের অধিকার সম্পর্কে ও মানুষের মর্যাদা সম্পন্ন জীবন যাপনের ন্যায্যতা সর্ম্পকে সচেতনতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকারের মূল কথা হলো ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’। নিজে মর্যাদা সম্পন্নভাবে বাঁচার অধিকার যেমন সব মানুষের আছে, তেমন অন্যের বাঁচার পথে যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় তার দায়-দায়িত্বও প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। যদি সকলে মানবাধিকারের এই প্রতিপাদ্য অনুধাবন করি, তবে অবশ্যই নিজের বেঁচে থাকাও অপরের বেঁচে থাকার জন্য সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অর্থ, ক্ষমতা আর ভোগবাদিতার কারণে বা এসবের লোভে আমরা অপরের বেঁচে থাকার অধিকার খর্ব করি এবং অপরকে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দিইনাও অপরের বাঁচার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি। এই প্রবণতা ও মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের আরো সৎ ও সাহস্য হওয়ার প্রয়োজন। আমরা সকলে জাগলে সকলেই চাইলে আমার আপনার সকলের অধিকার তথা মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে।
লেখক: এম. ফিল গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!